মানব সুথারের দাপটে অনায়াসে প্রথম টেস্টে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত, এ বার লক্ষ্য কলম্বোয় সিরিজ জেতা

Pic courtesy BCCI

শ্রীলঙ্কার স্পিন-বান্ধব উইকেট ভারতীয় ব্যাটাররা কতটা ভালো ভাবে সামলাতে পারবেন, আদৌ পারবেন কি না, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট সিরিজের মতো এ বারও ভারত সিরিজ হারবে কি না, এমন অনেক নেতিবাচক জল্পনায় পরিপূর্ণ ছিল দেশের ক্রিকেট মহল। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাগরপাড়ের শহর গল-এ প্রথম টেস্ট ১৬৫ রানে জিতে নিল ভারত। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে শুরু হওয়া ভারতের ৬০০তম টেস্টে এমন দাপুটে জয় ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে নিশ্চয়ই অনেক দিনই থেকে যাবে।

সেই জন্যই এই টেস্ট জয়কে ‘স্পেশ্যাল’ আখ্যা দিয়েছেন অধিনায়ক শুভমান গিল। জয়ের পর তিনি বলেন, ‘আবহাওয়ার কথা ভেবে আমরা চাপে ছিলাম। আদৌ ম্যাচটা পুরো হবে কি না, আমরা জিততে পারব কি না। তবে আমাদের দল খুবই ভালো খেলেছে। তাই এই জয় আমাদেরই প্রাপ্য ছিল’।

জয়ের ব্যবধান দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা দাপটের সঙ্গে এই জয় পেয়েছে শুভমান গিলের দল। স্কোর দেখলে আরোই বোঝা যাবে। প্রথম ইনিংসে ভারত ৪৬২ রানের পাহাড় তোলার পর থেকেই ঘরের মাঠে প্রবল চাপে পড়ে যায় শ্রীলঙ্কা। অনেকে ভেবেছিলেন, শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা ভারতীয় ব্যাটারদের বেশ চাপে রাখবে। কিন্তু আদতে হয় উল্টোটা। ভারতীয় স্পিনাররাই শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেয়।


আরও পড়ুন: ধারাল অস্ত্র বিষ্ণুকে ছাড়াই আজ ডুরান্ড সেমিফাইনালে নামছে ইস্টবেঙ্গল, সামনে সবচেয়ে বেশি গোল করা দল

শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে দশের মধ্যে আটটি উইকেটই নেন ভারতের স্পিনাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে দশটির মধ্যে সাতটিই নেন স্পিনাররা। অর্থাৎ, সারা ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ১৫টি উইকেটই নিয়েছেন স্পিনাররা এবং এই ১৫টির মধ্যে দশটিই নেন রাজস্থানের ২৪ বছর বয়সি বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার, যিনি তাঁর ক্রিকেট জীবনের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ খেললেন গলে।

প্রথম ইনিংসে চারটি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ছ’টি উইকেট নিয়ে ভারতের জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন শ্রী গঙ্গানগরের মানব সুথার-ই। ভারতের ৪৬২-র জবাবে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ২৮৪-র বেশি তুলতে পারেনি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ভারতকে ফের বড় ইনিংস গড়ে তুলতে দেয়নি, ১৯৩ রানে অল আউট করে দেয় এবং চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য তাদের লক্ষ্য ছিল ৩৭২।

মঙ্গলবার টেস্টের চতুর্থ দিন চায়ের বিরতির পর এই লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামলে দিনের শেষ পর্যন্ত ৮৪ রান তুললেও চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। বুধবার লাঞ্চের পরেই তাদের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২০৬ রানে।

৪৭ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কার চার উইকেট পড়ে যাওয়ার পর প্রথমে অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডিসিলভা, পরে সোনাল দিনুশা তাদের ইনিংসকে দুশোর দিকে টেনে নিয়ে যান। সাতটি চার-সহ ৫৯ রান করেন ধনঞ্জয় এবং আটটি চার ও একটি ছয়-সহ ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন দিনুশা। দুজনে মিলে ৯৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।

আরও পড়ুন: আইএসএলে খেলতে আগ্রহী ডায়মন্ড হারবার এফসি? আজ দুপুরের পর সিদ্ধান্ত

এই জুটি ভেঙে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। তাঁর বলে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মানবের হাতেই ধরা পড়েন ধনঞ্জয়। তবে শ্রীলঙ্কার ইনিংসে বড় ধস নামান মানব, একই ওভারে তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিয়ে। ইনিংসের ৭৬ নম্বর ওভারের প্রথম বলেই তাঁর শিকার হন গোটা দিনুশা। মানবের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে শট নিতে গিয়ে ব্যাটের ভিতরের কানায় লেগে বল ছিটকে যায় লেগ স্লিপে ধ্রুব জুরেলের হাতে।

ওভারের প্রথম বলেই বড়সড় এই ধাক্কা সামলানোর আগেই শ্রীলঙ্কা ফের ধাক্কা খায় পরের বলেই। মানবের নিখুঁত স্টাম্পে রাখা বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন প্রভাত জয়সূর্য। সেই ওভারের শেষ বলে উইকেট কিপার ঋষভ পন্থের হাতে ধরা পড়ে যান লাহিরু কুমারা। ১৯৯-৬ থেকে শ্রীলঙ্কার স্কোর যখন হয়ে যায় ১৯৯-৯, তখন ভারতের জয় ছিল কয়েক মিনিটের অপেক্ষা।

লাহিরু ফিরে যাওয়ার পর আর নটি বল খেলেন শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটার। দশ নম্বর বলে কেশরা নুয়ান্থার স্টাম্প ছিটকে দেন সেই মানব সুথারই। দুই ইনিংস মিলিয়ে দশ উইকেট নিয়ে ভারতকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২৩তম টেস্ট জয় এনে দিতে সাহায্য করেন তিনি। জীবনের প্রথম দুটি টেস্টে ১৭ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে অনেক বড় আশা জাগিয়ে তুললেন তিনি।

অনেকেই দেখতে চাইচিলেন জাদেজা, কুলদীপ-দের পর নতুন প্রজন্মের স্পিনাররা তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন কি না। তাদের মনে নিশ্চয়ই আশার আলো জ্বালিয়ে তুললেন মানব।

তবে এই টেস্ট জয়ে শুধু মানব নয়, অবদান আরো অনেকেরই আছে। প্রথম ইনিংসে দেবদত্ত পাডিক্কলের ১৬৭ রানের ইনিংস ও রবীন্দ্র জাদেজার তিন উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ঋষভ পন্থের ৬৯ বলে ৬৬ রানের ঝোড়ো ইনিংসের কথাও মনে রাখতে হবে। সবার পারফরম্যান্সের কথা বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত দেবদত্ত পাডিক্কলকেই ম্যাচের সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। শুরুতেই তিনি ১৬৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে রানে পাহাড় গড়তে সাহায্য না করলে ভারত এই টেস্ট জেতার জায়গায় আসত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে বই কি।

কলম্বোয় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার থেকে। সেই টেস্টে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, সাফল্য অর্জন করা যতটা কঠিন, সেই সাফল্য ধরে রাখা আরো কঠিন। কলম্বোয় সেটাই করতে হবে শুভমানদের।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/MWCRI_LCbqY?si=RQTCmG0SO8SoQJdJ” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>