পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সাফ অভিযান শুরু কাল, কোচ মুসার লক্ষ্য খেতাব রক্ষা নয় ভাল ফুটবল

Photo: X

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব ধরে রাখার অভিযান ভারত শুরু করছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে। বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। লক্ষ্য একটাই— দশম বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তবে এ বার ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ কিছুটা আলাদা। প্রথম দলের বদলে দ্বিতীয় সারির তরুণ ফুটবলারদের নিয়েই প্রতিযোগিতায় নামছে নৌশাদ মুসার দল। কারণ, নিউজিল্যান্ড সফরে দু’টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে যাবে সিনিয়র দলের একাংশ।

বুধবার ঢাকায় প্রতিযোগিতার আগে সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় কোচ মুসা জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানকে হালকা ভাবে নেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। তাঁর কথায়, ‘গত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, এ বারের দলটি তার থেকে আলাদা। আমরা সেই চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি। আলাদা কোনও চাপ নেই। বরং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার এবং মাঠে সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার তাগিদ থাকা উচিত। আশা করছি, ভাল ফল নিয়ে ফিরতে পারব’।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সাম্প্রতিক রেকর্ড অবশ্য বেশ ভাল। দুই দল সিনিয়র পর্যায়ে মোট ২৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। ভারত জিতেছে ১৬টি ম্যাচ, পাকিস্তান চারটি। ন’টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। শেষ বার ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বেঙ্গালুরুতে পাকিস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিল ভারত। সুনীল ছেত্রী করেছিলেন হ্যাটট্রিক। অন্য গোলটি করেছিলেন উদান্ত সিং কুমাম। ফিফা ক্রমতালিকাতেও অনেকটা এগিয়ে ভারত। ভারত রয়েছে ১৩৮ নম্বরে, পাকিস্তান ১৯৭।


খেতাব জয় নয়, ভাল ফুটবলেই নজর মুসার

এ বার ভারতীয় দলের দায়িত্বে আছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নৌশাদ মুসা। তাঁর হাতে রয়েছে তরুণ ফুটবলারদের দল। কারণ, নিউজিল্যান্ডে গিয়ে দু’টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারতের সিনিয়র দল। সেই দলের দায়িত্বে রয়েছেন খালিদ জামিল। ফলে সাফের জন্য দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন।

মুসা বলেন, ‘আমরা খেতাব ধরে রাখতে নামছি এবং বাংলাদেশের মাটিতে খেলছি। তবে এ বার আমি তরুণ দল নিয়ে এসেছি। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ফুটবলাররা যেন চাপমুক্ত মনে খেলতে পারে। খেতাব ধরে রাখার বিষয়টি নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত নই। আমার চিন্তা ভাল ফুটবল খেলা। দল ভাল ফুটবল খেললে ফলও আসবে’।

সেমিফাইনালের লড়াই ১৪ নভেম্বর

গ্রুপ বি-তে ভারতের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। ৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের পরে ১১ নভেম্বর মালদ্বীপের মুখোমুখি হবে ভারত। গ্রুপ এ-তে রয়েছে আয়োজক বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। দু’টি গ্রুপের প্রথম দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর হবে শেষ চারের ম্যাচ। ফাইনাল ১৭ নভেম্বর। ২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে কুয়েতকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। এ বার সেই খেতাব ধরে রেখে দশম ট্রফি জয়ের নজির গড়াই লক্ষ্য নৌশাদ মুসার দলের।