পাকিস্তানকে ১৯ গোলের মালা পরিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি সেমিফাইনালে ভারতের মেয়েরা

Women Asia Cup Hockey Photo-SNS

ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের বন্যা। একের পর এক আক্রমণ, একের পর এক গোল। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না। শেষ পর্যন্ত ১৯-০ গোলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির সেমিফাইনালে উঠে পড়লো ভারত।

চিনের মোচিতে বৃহস্পতিবার কোয়ার্টার ফাইনালে একেবারেই একতরফা ছিল ম্যাচ। মাত্র সাত মিনিটেই ভারতের হয়ে গোলের দরজা খুলে দেন পূজা সাহু। দু’মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান রোশনি আইনড। তার পর আর থামেনি ভারতীয় গোলের ঝড়। তনুশ্রী দিনেশ কাদু, সুখবীর কৌর এবং সানিকা চন্দ্রকান্ত মানে পর পর গোল করে পাকিস্তানের রক্ষণকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন।

প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগেই ভারতের গোলের সংখ্যা পৌঁছে যায় ১০-এ। সানিকা আরও একটি গোল করেন। মধু সিদার জোড়া গোল করেন, গোল করেন গীতা যাদব, তনুজা টোপ্পো, পূজা মালিক এবং পূর্ণিমা যাদবও।


দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা বদলায়নি। বরং আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ভারতের আক্রমণ। পূজা মালিক পর পর দু’টি গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন। সুপ্রিয়া দু’টি গোল করেন। কৃষ্ণা শর্মা এবং বিনিমা ধনও নাম লেখান স্কোরশিটে। শেষ মিনিটে আবার গোল করেন রোশনি। তাতেই ভারতের জয় দাঁড়ায় ১৯-০।

ভারতের হয়ে এদিন মোট ১৩ জন খেলোয়াড় গোল করেন। পূজা মালিক তিনটি গোল করে ম্যাচের অন্যতম সেরা তারকা। রোশনি আইনডেরও দু’টি গোল। সানিকা মানে এবং মধু সিদার দু’টি করে গোল করেছেন। সুপ্রিয়ার নামের পাশেও রয়েছে জোড়া গোল।

এই জয় শুধু সেমিফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করল না, ভারতের আত্মবিশ্বাসও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। গ্রুপ পর্বে জাপান, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে শীর্ষে শেষ করেছিল ভারত। চিনের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সেই ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন আগ্রাসী পারফরম্যান্সে আবার নিজেদের শক্তির জানান দিল ভারতীয় দল।

এবারের ভারতীয় দলের লক্ষ্য আরও বড়। ২০২৩ এবং ২০২৪—পর পর দু’বার মহিলা জুনিয়র এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। এ বার লক্ষ্য টানা তৃতীয় বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া। পাকিস্তানকে ১৯ গোল দেওয়ার পরে সেই লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল তারা।

সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে দক্ষিণ কোরিয়া-মালয়েশিয়া কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল। অর্থাৎ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলের উৎসব শেষ হলেও আসল পরীক্ষা এখন থেকেই শুরু। টানা তৃতীয় বার ট্রফি জিততে হলে শেষ দু’টি ম্যাচে একই ধার বজায় রাখতে হবে ভারতকে।