পাক-বধে সাফ অভিযান শুরু ভারতের, জোড়া গোল সুহেলের, শেষ মুহূর্তে অস্বস্তি

Suhel Ahmed Bhat Photo-SNS

শুরুটা হয় স্বপ্নের মতো। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে পাকিস্তানকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়। তার প্রমাণ মিলল ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে।

ম্যাচের সংযুক্ত সময়ে পর পর দু’টি গোল করে ভারতীয় শিবিরে আতঙ্ক ধরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩-২ গোলে জিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অভিযান শুরু করল নওশাদ মুসার দল।

বৃহস্পতিবার গ্রুপ বি-র প্রথম ম্যাচে ভারতের জয়ের নায়ক মোহনবাগান স্ট্রাইকার সুহেল আহমেদ ভাট। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করেন তিনি। তৃতীয় গোলটি ম্যাংলেনথাং কিপগেনের। পাকিস্তানের হয়ে শেষ দিকে গোল করেন নাজিব উল্লাহ এবং আলমগির গাজি।


ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল রেখে ধীরে ধীরে আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল ভারত। মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অভিষেক সূর্যবংশীর। ১২ মিনিটে কিপগেনের বাড়ানো বলে মাথা ছুঁইয়ে গোলও করেছিলেন সুহেল। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ভারতকে।

১৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মহম্মদ সুহেলের দুরন্ত ক্রস পেয়ে ছ’গজ বক্সের মধ্যে থেকে বল জালে পাঠান সুহেল ভাট। এগিয়ে যায় ভারত। ছ’মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সেই সুহেল। এ বার অভিষেক সূর্যবংশীর মাপা থ্রু পাস ধরে পাকিস্তানের রক্ষণকে গতিতে হারিয়ে গোলরক্ষক ইউসুফ বাটকে পরাস্ত করেন তিনি। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত।

৩১ মিনিটে তৃতীয় গোল। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে এসে নৌফল পিএন পাস বাড়ান কিপগেনকে। পাকিস্তানের রক্ষণভাগের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে গোল করেন কিপগেন। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।

এর মধ্যে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। পেনাল্টি বক্সের মধ্যে হায়ান খট্টককে ফাউল করেন অভিষেক সূর্যবংশী। পেনাল্টি পায় পাকিস্তান। কিন্তু স্পট কিক থেকে বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন শায়াক দস্ত। ফলে তিন গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় ভারত। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন সুহেলও। কিন্তু তাঁর বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল ভারত। অ্যাডিসন সিং ঠোকচম একবার গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। কিপগেন এবং ফারুখ চৌধুরির চেষ্টাও সফল হয়নি। ব্যবধান বাড়াতে না পারলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের হাতেই।

কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে ছবিটা বদলে যায়। ৯১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে জুনেইদ শাহের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন নাজিব উল্লাহ। তিন মিনিট পরেই আরও একটি গোল। ডান দিক থেকে ম্যাককিল আবদুল্লার ক্রস নিয়ন্ত্রণে এনে দুরন্ত অ্যাক্রোবেটিক শটে বল জালে জড়ান আলমগির গাজি। মুহূর্তের মধ্যে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২। শেষ দিকে সমতা ফেরানোর আশায় আক্রমণে ঝাঁপায় পাকিস্তান। তবে আর গোল হয়নি।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ভারতীয় শিবির। তবে প্রথমার্ধের দুরন্ত ফুটবলের পর শেষ মুহূর্তে এমন রক্ষণাত্মক বিপর্যয় চিন্তায় রাখবে কোচ নওশাদ মুসাকে।

২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব ধরে রাখার লক্ষ্যে এ বার বাংলাদেশে খেলছে ভারত। গ্রুপ বি-তে তাদের পরের ম্যাচ মলদ্বীপের বিরুদ্ধে। আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামেই হবে সেই ম্যাচ। প্রতিটি গ্রুপের প্রথম দু’টি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর শেষ চারের ম্যাচ, ফাইনাল ১৭ নভেম্বর।

পাকিস্তানকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পেলেও শেষ মুহূর্তের ভুল শুধরে নেওয়াই এখন ভারতের প্রধান লক্ষ্য। কারণ, নকআউট পর্বে এমন সুযোগ প্রতিপক্ষকে দিলে তার মাশুল দিতে হতে পারে।