আত্মঘাতী গোল, পেনাল্টি বাঁচিয়ে নায়কের মর্যাদা জেনিতের! অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ উৎসবে টানা দ্বিতীয় জয় ভারতের

Photo: X

বিশ্বমঞ্চে স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দলের। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ উৎসবে পর দু’টি ম্যাচ জিতে নিলেন বিবিয়ানো ফার্নান্দেসের ছেলেরা। রবিবার গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যামেরুনকে ২-১ গোলে হারাল ভারত।

বৃষ্টিভেজা মাঠে আত্মঘাতী গোল থেকে এগিয়ে যাওয়া, বিরতির আগে সমতা ফেরানো এবং দ্বিতীয়ার্ধে আবার গোল করে জয়ের রাস্তা তৈরি—সবই দেখল বাকুর হোভসান কমপ্লেক্সে হাজির ভারতীয় সমর্থকরা। তবে ভারতের জয়ের আসল নায়ক গোলকিপার জেনিত নিংথৌজাম। পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দিলেন তিনি।

এর আগে শনিবার প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে লাওসকে ৪-২ গোলে হারিয়েছিল ভারত। ফলে গ্রুপ কে-তে দু’টি ম্যাচ খেলে দু’টিতেই জয় পেল তারা। গ্রুপে এখনও পর্যন্ত একমাত্র ভারতই পর পর দু’টি ম্যাচ জিতেছে।


এদিন বৃষ্টির কারণে মাঠের পরিস্থিতি কঠিন ছিল। কিন্তু ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যায় ভারত। দীপক সিং আরামবামের কর্নার থেকে ক্যামেরুনের বক্সে তৈরি হয় বিভ্রান্তি। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন ক্যামেরুনের ফুটবলার ফারেইল এনগোবো। আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ভারত।

এর পর অবশ্য ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে ক্যামেরুন। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা। ভারতীয় রক্ষণও পরীক্ষা দিতে শুরু করে। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে আটকানো এবং সময়মতো ট্যাকল করে গোলের ব্যবধান ধরে রাখার চেষ্টা করেন ভারতীয় ফুটবলাররা।

ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল ভারত। দীপকের থ্রো-ইন থেকে ক্যামেরুনের রক্ষণে ফের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গোলকিপার সানি-হ্যানসেল এনদে বল ধরতে ব্যর্থ হন। ফাঁকা গোলের সামনে বল পেয়েও গোল করতে পারেননি ভারতীয় অধিনায়ক লালরেম রুয়াতফেলা। শেষ মুহূর্তে ক্যামেরুনের এক ডিফেন্ডার বল আটকে দেন।

ম্যাচের ১৬ থেকে ১৮ মিনিটের মধ্যে ভারতীয় গোলকিপার জেনিতকে একাধিক কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়। ফ্রি-কিক থেকে আসা শট আটকে দেন তিনি। পরের মিনিটে বক্সের ভিতর থেকে র‌্যান্ডি এনগোমের শটও রুখে দেন। এর পর নডাম মোকতারের একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতির শট আটকে ভারতকে এগিয়ে রাখেন জেনিত।

তবে বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরায় ক্যামেরুন। ২০ মিনিটে ডান দিক থেকে মোকতারের ক্রস ভারতীয় ডিফেন্ডার মুহাম্মদ সোহিল খানের গায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী গোলে ১-১ হয়ে যায় ম্যাচ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রোনানদেব অহেইবামকে মাঠে নামান ভারতীয় কোচ বিবিয়ানো। তাঁর উপস্থিতিতেই মাঝমাঠে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে ভারত। ২৭ মিনিটে রোনানদেবের ট্যাকল থেকে বল পেয়ে যান দীপক। তিনি বক্সে নিচু ক্রস বাড়ান। সেখান থেকে প্রথম টাচেই বাঁ পায়ের শটে গোল করে ভারতকে ফের এগিয়ে দেন অধিনায়ক লালরেম রুয়াতফেলা।

এর পর আবারও জেনিতের পরীক্ষা নেয় ক্যামেরুন। ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আসা শট হাতে লাগায় পেনাল্টি পায় তারা। ৩২ মিনিটে হারুনা আবদুলায়ের নেওয়া পেনাল্টি দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন ভারতীয় গোলকিপার। সেই সেভই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম নির্ণায়ক মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ভারতও। রোনানদেবের জোরালো শট আটকে দেন ক্যামেরুনের গোলকিপার। পরে সৌমজিৎ সরকারের ফ্রি-কিকও ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত।

লাওসের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ৪-২ জয়ের পর ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে এই জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে পাঁচটি ম্যাচ খেলবে প্রতিটি দল। সেই ম্যাচগুলির ফলের ভিত্তিতে পরের পর্বে দলগুলিকে বিভিন্ন পারফরম্যান্স স্তরে ভাগ করা হবে।

ক্যামেরুনকে হারানোর পর রবিবারই গ্রেনাডার বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। ম্যাচ শুরু ভারতীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে। সোমবার বাহরাইন ও সেনেগালের বিরুদ্ধে একই দিনে দুটি ম্যাচ খেলবে তারা।

প্রথম ম্যাচে আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্বিতীয় ম্যাচে রক্ষণ সামলে জয়ের মানসিকতা—দুইয়েরই পরিচয় দিয়েছে ভারতের কিশোর ফুটবলাররা। বিশেষ করে গোলকিপার জেনিতের পেনাল্টি বাঁচানো এবং অধিনায়ক লালরেমের গোল দলকে এগিয়ে রাখছে। বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই ছন্দ তাদের কত দূর নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।