‘ইমরান দুর্নীতিগ্রস্ত নন’, বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন মিয়াঁদাদ! প্রাক্তন অধিনায়ককে জেল থেকে মুক্তির আর্জি পাক কিংবদন্তির

Javed Miandad Photo-SNS

ক্রিকেটের বাইশ গজে একসঙ্গে বহু লড়াই করেছেন। কখনও সতীর্থ, কখনও অধিনায়ক-সহযোদ্ধা। সেই ইমরান খানের কথা বলতে গিয়ে এ বার আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না জাভেদ মিয়াঁদাদ। প্রাক্তন পাক অধিনায়কের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে বলতে সাক্ষাৎকারের মাঝেই কেঁদে ফেললেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার। সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘ইমরান সৎ মানুষ। তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত নন’।

ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান এবং কাসিম খানের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের পরেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেট ও রাজনীতির পরিবেশ। শুক্রবার লর্ডস টেস্টের লাঞ্চের সময় স্কাই স্পোর্টসে মাইকেল আথারটনের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। সেখানে বাবার শারীরিক অবস্থা এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই ছেলে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বে থাকার কারণে ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে।

সেই ঘটনার পরেই ইমরানের পাশে দাঁড়ালেন মিয়াঁদাদ। সম্ভবত এই প্রথম কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার ইমরানের পাশে দাঁড়ালেন। ‘ন্যারেটিভ’ ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন পাক অধিনায়ক বলেন, ‘আমি জানি, ইমরান এমন মানুষ নন যে দুর্নীতি করবেন। তিনি একজন সৎ মানুষ। তিনি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতেন, তা হলে অনেক কিছুই করতে পারতেন’।


এর পরেই আবেগে ভেঙে পড়েন মিয়াঁদাদ। চোখের জল মুছতে মুছতে বলতে থাকেন, ‘ওকে ছেড়ে দিলে কী হবে? ও কি কাউকে খেয়ে ফেলবে, না কি কারও ক্ষতি করবে? ও-ও তো কারও সন্তান। আমি সব সময় ভাবি, ও এখন কী করছে’।

মিয়াঁদাদের কথায় স্পষ্ট, ইমরানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুধুমাত্র ক্রিকেটের নয়। ১৯৯২ সালে ইমরানের নেতৃত্বেই প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র বার ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মিয়াঁদাদ। ফলে দীর্ঘ দিনের সতীর্থের এই পরিস্থিতি তাঁকে গভীর ভাবে নাড়া দিয়েছে।

ইমরান ২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে ইমরান বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ইমরানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার ঘিরে ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্প্রচারকারী সংস্থার সংঘাত তৈরি হয়েছে। এমনকী লর্ডস টেস্টের মাঝপথে পাকিস্তান দল ম্যাচ বয়কট করতে পারে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পাকিস্তান দল মাঠে ফিরে আসে এবং খেলা চলতে থাকে।

এই আবহেই মিয়াঁদাদের কান্না নতুন মাত্রা যোগ করল বিতর্কে। ক্রিকেটের কিংবদন্তির মুখে প্রাক্তন অধিনায়কের জন্য এমন আবেগঘন আর্জি ফের সামনে এনে দিল ইমরান-ইস্যুকে। বাইশ গজের বাইরে পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসের দুই মহাতারকার সম্পর্ক যে এখনও কতটা গভীর, মিয়াঁদাদের ভেঙে পড়াই যেন তার প্রমাণ।