ক্রমাগত সাফল্য পেলে সমর্থকরা নিশ্চয়ই মাঠে আসবেন: সৌম্যা

প্রশ্ন : জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে নাকে একটা চোট লেগেছিল। পরে অস্ত্রোপচার হয়। সেখান থেকে ফিরে আসাটা কতটা কঠিন ছিল?
সৌম্যা : সবে ছ’মাস হল, আমার নাকে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাই হয়তো একটু সময় লাগছে। কিন্তু, ক্লাবের হয়ে যখনই খেলার সুযোগ পেয়েছি, সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন : আইডব্লুএলে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম ভারতীয় ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন। এখনও পর্যন্ত দলের হয়ে পাঁচটা গোল সহ দুটো অ্যাসিস্ট রয়েছে। নিজের এই পারফরমেন্স নিয়ে কতটা খুশি?
সৌম্যা : খুবই খুশি। তবে, এটা ভেবে আরও ভালো লাগছে যে প্রথম পর্বে আমরা সবকটি ম্যাচই জিতেছি। দ্বিতীয় পর্বেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করব।

প্রশ্ন : ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একই মরসুমে তিনটে ট্রফি জেতার পরে আপনার অভিজ্ঞতা?
সৌম্যা : একজন খেলোয়াড় হিসেবে খুবই ভালো লাগছে। কারণ, ইস্টবেঙ্গল অনেক বড় ক্লাব। স্বাভাবিকভাবেই এই সাফল্য ক্লাবের প্রাপ্য। আমরা সবসময় সব টুর্নামেন্টে জেতার লক্ষ্যেই মাঠে নামি। তাই হয়তো এই সাফল্যটা পেয়েছি। সত্যি কথা বলতে আমি দু’বছর ধরে এই ক্লাবের হয়ে খেলছি। এখানে খেলার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো।


প্রশ্ন : এই তিনটে ট্রফি জয়ের মধ্যে কোনটা আপনার কাছে সেরা?
সৌম্যা : যেকোনও জয়ই সবসময় স্পেশ্যাল। তাই কোনও একটাকে বাছাই করা খুব কঠিন।

প্রশ্ন : ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একটা স্মরণীয় মুহূর্ত?
সৌম্যা : ইস্টবেঙ্গল আমরা সবাই একটা পরিবারের মতো থাকি। তার মধ্যে থেকেও যদি একটা বিশেষ মুহূর্ত বেছে নিতে হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই ২০২৪-২৫ ইস্টবেঙ্গলের বর্ষসেরা মহিলা ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়া।

প্রশ্ন : কোচ হিসেবে অ্যান্থনির ভূমিকা?
সৌম্যা : কোচ খুবই সাহায্য করেন। ভালো খেলার জন্য আমাদের সবসময় উৎসাহিত করেন। কোচ সবকিছুর উপর নজর রাখেন। ভুলভ্রান্তিগুলোকে শুধরে দেন। উনি খুব সহজেই খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে সেরা খেলাটা বার করে আনতে পারেন।

প্রশ্ন : ডায়নামো জাগ্রেবের অভিজ্ঞতা কেমন?
সৌম্যা : ডায়নামো জাগ্রেবের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তবে, এটা একটা পেশাদার ক্লাব হলেও ওদের শুধুই পুরুষ ফুটবল দল আছে। মহিলাদের জন্য আলাদা কোনও দল নেই বা বিশেষ কোনও সুযোগ নেই। ফলে, আমার ওখানে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তারপর আমি যখন আবার ভারতে ফিরে আসি, তখন আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে ভারত মহিলা ফুটবলের ক্ষেত্রে অনেক বেশি পেশাদার।

প্রশ্ন : দীর্ঘ ২৩ বছর পর মহিলা ফুটবলে ভারত এশিয়ান কাপের মূলপর্বের ছাড়পত্র পেয়েছে। দলের একজন খেলোয়াড় হিসেবে বর্তমান লক্ষ্য কী?
সৌম্যা : দীর্ঘ ২৩ বছর পর আমরা এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছি। ফলে, আমরা বিশ্বকাপ খেলার থেকে এক ধাপ দূরে আছি। তাই, বর্তমানে যেভাবেই হোক আমাদের গ্রুপ পর্বের দুটো-তিনটে ম্যাচে ভালো ফলাফল করতে হবে। তাহলে আমরা হয়তো বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।

প্রশ্ন : ভারতে মহিলা ফুটবল হয়তো সেভাবে এখনও জনপ্রিয়তা পায়নি । এটা কী সত্যি?
সৌম্যা: হয়তো পুরোপুরি জনপ্রিয়তা পায়নি। তবে, ধীরে ধীরে মানুষ জানছে। ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে প্রচুর মানুষ এসেছিলেন। এমনকি, সাফ ক্লাব কাপ জিতে দেশে ফেরার পরেও বিমানবন্দরে প্রচুর সমর্থক আমাদের জন্য এসেছিলেন। হয়তো, এতদিন কারোর ধারণা ছিল না মেয়েরাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রফি জিততে পারে। এখন সবাই বুঝতে পারছে। আমরা হয়তো এএফসিতেও নক আউটে পৌঁছাতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত সেটা হয়নি। আমার মনে হয়, আমরা যতবেশি খেতাব জিততে পারবো, সমর্থকরাও তত বেশি মাঠে আসার জন্য উৎসাহিত হবেন।