২০২৭ বিশ্বকাপে খেলতে হলে ১০ ওভার বল করতেই হবে হার্দিককে, চোট সারানোর মন্ত্র দিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ট্রেনার

Hardik Pandya Photo-SNS

বিশ্বকাপে খেলতে হলে শুধু ব্যাট হাতে ঝড় তুললে চলবে না। দশ ওভার বল করার ক্ষমতাও প্রমাণ করতে হবে হার্দিক পাণ্ড্যকে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় জায়গা করে নিতে হলে তাঁকে পুরো ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে হবে। এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ট্রেনার রামজি শ্রীনিবাসন। তাঁর মতে, ম্যাচে দশ ওভার বল করার জন্য অনুশীলনে অন্তত ১৫-২০ ওভার বল করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে হার্দিককে। না হলে তাঁর ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ম্যাচে ১০ ওভার, অনুশীলনে ২০ ওভার!

হার্দিকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিক ভাবে চোটমুক্ত থাকা। গত কয়েক মাসে একের পর এক চোট তাঁর ক্রিকেটজীবনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ আইপিএলে চোট পাওয়ার পর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে তিনি। ২০২৫-এর মার্চে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের পর আর কোনও এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচেও খেলেননি এই অলরাউন্ডার।


এই পরিস্থিতিতে হার্দিকের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে শ্রীনিবাসন এক সর্বভারতীয় দৈনিককে বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলতে হলে ওকে অন্তত ১০ ওভার বল করতেই হবে। আর সেই ১০ ওভার কার্যকর ভাবে বল করার জন্য অনুশীলনে ১৫-২০ ওভার বল করার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। এ ভাবেই প্রস্তুতি নিতে হয়’।

শুধু বোলিংয়ের পরিমাণ বাড়ালেই অবশ্য হবে না। হার্দিকের সামগ্রিক ফিটনেসের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রেনার। তাঁর মতে, দক্ষতা, শক্তি, শারীরিক সক্ষমতা, চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া, পুষ্টি এবং মানসিক প্রস্তুতি— সব কিছুই ক্রিকেটীয় দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগোতে হবে।

শ্রীনিবাসনের কথায়, ‘এক জন ক্রিকেটারকে সম্পূর্ণ ফিট হতে হবে। তার দক্ষতা, ফিটনেস, শক্তি, শারীরিক প্রস্তুতি, চোট এড়ানোর ব্যবস্থা, সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া, পুষ্টি এবং মানসিক অবস্থা— সব কিছুই তার ক্রিকেটীয় দক্ষতাকে মাথায় রেখে সাজাতে হবে। উল্টোটা হলে চলবে না’।

বার বার চোটে পিছিয়ে পড়ছেন হার্দিক

আইপিএল ২০২৬-এর শেষ দিকের কয়েকটি ম্যাচে পিঠের পেশিতে টান ধরার কারণে খেলতে পারেননি হার্দিক। তার পরে বেঙ্গালুরুর বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে পুনর্বাসন চলাকালীন উরুর পেশি এবং পায়ের শিনের চোটও তাঁর সমস্যায় যোগ হয়।

অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজের জন্য ভারত ‘এ’ দলে জায়গা পেয়েছিলেন হার্দিক। কিন্তু বল করার সময় ফের ব্যথা অনুভব করায় তাঁকে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়াতে হয়। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন আরও পিছিয়ে যায়।

তবে হার্দিকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে নারাজ শ্রীনিবাসন। তাঁর মতে, তিন ধরনের ক্রিকেটেই খেলার মতো প্রতিভা রয়েছে এই অলরাউন্ডারের। প্রয়োজন সঠিক মূল্যায়ন এবং পরিকল্পিত ভাবে কাজ করা।

তিনি বলেছেন, ‘হার্দিকের তিন ধরনের ক্রিকেটেই খেলার মতো প্রতিভা রয়েছে। ওর শরীরও সেই চাপ সামলাতে পারে। প্রথমেই ওর শারীরিক অবস্থার সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষকেরা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেগুলো বুঝতে হবে। একেবারে গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। বিশ্বকাপের আগে আমরা হার্দিককে সম্পূর্ণ ফিট দেখতে চাই। তার জন্য ওকে অনেক বেশি ম্যাচ অনুশীলন করতে হবে’।

জাহির, বালাজি, নেহরাদের থেকে শিখুন

চোটের ধাক্কা সামলে কী ভাবে ক্রিকেটে ফিরে আসতে হয়, সেই শিক্ষা হার্দিককে প্রাক্তন ভারতীয় পেসার জাহির খান, লক্ষ্মীপতি বালাজি এবং আশিস নেহরার কাছ থেকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শ্রীনিবাসন।

২০১১-য় ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন চোটের সঙ্গে লড়াই করে এই তিন পেসারের প্রত্যাবর্তনকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেছেন শ্রীনিবাসন।

তাঁর কথায়, ‘হার্দিকের উচিত লক্ষ্মীপতি বালাজির কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া। ২০১২-য় ভারতীয় দলে ফিরে এসে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং নিউজিল্যান্ড সফরে বালাজি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। কী ভাবে সে ফিরে এসেছিল? সেই প্রক্রিয়াটা বোঝা জরুরি’।

হার্দিককে সরাসরি জাহির ও বালাজির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘জাহির খান এবং লক্ষ্মীপতি বালাজির সঙ্গে হার্দিকের কথা বলা উচিত। ওঁরা অনেক চোটের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, তার পরেও শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করেছেন। আশিস নেহরাও অসাধারণ। এত চোট পেয়েও প্রতিবার আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছেন। হার্দিকের উচিত ওঁদের জিজ্ঞাসা করা, কী ভাবে নিজেদের ফিটনেসের পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন’।

২০২৭ বিশ্বকাপের আগে হার্দিককে নিয়ে ভারতীয় দলের পরিকল্পনা তাই অনেকটাই নির্ভর করছে তাঁর ফিটনেস এবং বোলিংয়ের সক্ষমতার উপর। ব্যাট হাতে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাকা করতে হলে দশ ওভার বল করার পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে এই তারকাকে।