দীর্ঘ অপেক্ষার পরে টেস্ট দলে ফিরে এসেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন দেবদত্ত পাডিক্কল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক সাফল্যের পর তাঁর মাথায় উঠেছে ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’-এর মুকুট। ব্যক্তিগত সাফল্যে খুশি হলেও পাডিক্কলের কাছে দলের জয়ই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। পাশাপাশি ভারতের তিন নম্বর জায়গা, তরুণ ব্যাটিং লাইন-আপ এবং ধীর পিচে স্পিন সামলানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি।
শুরুতেই ইনিংসে জীবন পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাডিক্কল বলেন, ‘এটা খেলারই অংশ। সত্যি বলতে, যত দ্রুত সম্ভব ওই ঘটনা ভুলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচে তখনও অনেক সময় বাকি ছিল। তাই পরের বলে মন দেওয়া দরকার। আমিও সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’
ভারতীয় ব্যাটিংয়ে তিন নম্বর জায়গার নিজের জায়গা পাকা করা প্রসঙ্গে খুব বেশি চিন্তিত নন পাডিক্কল। তাঁর কাছে ব্যাটিং অর্ডারের চেয়ে দলের প্রয়োজনে রান করাটাই বড়। বললেন, ‘সত্যি বলতে, আমি শুধু রান করতে পেরে খুশি। কোথায় রান করছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিন নম্বরে হোক বা অন্য কোথাও—তাতে কিছু যায় আসে না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল দল যেন জেতে। সেই জয়ে যত দিন আমি অবদান রাখতে পারব, তত দিনই আমি খুশি।’
তবে তরুণ ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপের সামনে যে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন পাডিক্কল। তাঁর কথায়, ‘অনেক কাজ বাকি। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, এটা তরুণ একটা দল। আমাদের প্রতিনিয়ত শিখে যেতে হবে। প্রত্যেকের মধ্যেই এখনও অনেক উন্নতির জায়গা রয়েছে। সবাই খুব ক্ষুধার্ত এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।’
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে সিরিজ সেরার সম্মান পেলেও দ্বিতীয় টেস্টে দল জিততে না পারায় আক্ষেপ রয়েছে পাডিক্কলের। তিনি বলেন, ‘খুব ভাল লাগছে। তবে এই ম্যাচটাও যদি আমরা জিততে পারতাম, তা হলে আরও ভাল লাগত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি খুশি যে দলের হয়ে অবদান রাখতে পেরেছি।’
মন্থর পিচে স্পিনারদের বিরুদ্ধে সাফল্যের রহস্য কী? এই প্রশ্নের উত্তরে পাডিক্কল বলেন, ‘ব্যাট করতে নামার সময় পরিকল্পনা একেবারে পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। ড্রেসিংরুমেও আমরা অনেক আলোচনা করেছি—কী ভাবে স্পিন খেলব, কী ভাবে স্পিনারদের সামলাব। প্রত্যেকে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল। মাঠে ব্যাটাররা যে ভাবে সেই পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েছে, সেটাই আসল।’
দীর্ঘ সময় পরে টেস্ট দলে ফিরে জায়গা পাকা করে নেওয়ার লড়াই প্রসঙ্গে পাডিক্কলের বক্তব্যও স্পষ্ট, ‘সব সময়ই দেশের হয়ে খেলতে চাই। তাই কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। আমার নিয়ন্ত্রণে শুধু এটুকুই। প্রথম এগারোয় সুযোগ পাওয়া আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে যখনই সুযোগ পাই, সতীর্থদের সাহায্য করার চেষ্টা করি। সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি খুশি যে সেটা করতে পেরেছি।’
কলম্বোয় টেস্ট ড্র হলেও সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছে ভারত। আর সেই সিরিজে পাডিক্কলের উত্থান ভারতীয় দলের ব্যাটিংয়ের জন্য নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। ব্যক্তিগত জায়গা নয়, দলের প্রয়োজনকে সামনে রেখে রান করে যাওয়াই যে তাঁর লক্ষ্য—সিরিজ সেরার বক্তব্যে সেটাই আরও এক বার বুঝিয়ে দিলেন এই তরুণ ব্যাটার।