আজকের রাত পোহালেই শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বৈরথ দিয়ে শুরু হবে ফুটবলের মহাযুদ্ধ। ফুটবলপ্রেমীদের চার বছরের অধীর অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে ঠিকই। কিন্তু আরও একটা স্মরণীয় ঘটনা দেখার জন্য তাদের চিরকালের অপেক্ষা কি এ বার বিশ্বকাপে শেষ হবে, না তা অধরাই থেকে যাবে?
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।প্রায় দুই দশক ধরে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোটি কোটি সমর্থককে মুগ্ধ করেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই কিংবদন্তির মুখোমুখি লড়াই কখনও দেখা যায়নি। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সেই স্বপ্নের দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে, যদি কয়েকটি নির্দিষ্ট সমীকরণ মিলে যায়।
অনেকেই বলছেন, এ বারের বিশ্বকাপেই হয়তো এই দুই মহাতারকাকে শেষবার দেখা যাবে। কারণ, এখন মেসির বয়স ৩৯ ও রোনাল্ডো ৪১। দু’জনেই রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
কিন্তু কী ভাবে এই বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি ও রোনাল্ডো?
এ বারের বিশ্বকাপ যেহেতু ৪৮ দলের, তাই প্রথম পর্বে এ বার আটের জায়গায় ১২টি গ্রুপ করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপে চারটি করে দল। প্রতি গ্রুপের সেরা দুই দল উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। কিন্তু সেখানে খেলবে ৩২টি দল। ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির মধ্যে সেরা আটটি দলও পৌঁছবে এই দ্বিতীয় পর্বে। পয়েন্ট, গোলপার্থক্য, গোলের সংখ্যার বিচারে এদের মধ্যে সেরা আটকে বেছে নেওয়া হবে।
আর্জেন্টিনা রয়েছে ‘জে’ গ্রুপে এবং পর্তুগাল রয়েছে ‘কে’-তে। ৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার মাত্র তিনটি বাস্তবসম্মত রাস্তা রয়েছে। প্রথম সম্ভাবনা, দুই দলই যদি নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে নক-আউট পর্বে এগোয়, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁদের দেখা হতে পারে। দ্বিতীয় সম্ভাবনা, দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে রানার্স-আপ হয়, সেক্ষেত্রে ১৬ দলের রাউন্ডেই এই মহারণ হতে পারে। আর তৃতীয় সম্ভাবনা, গ্রুপপর্বে ভিন্ন অবস্থানে শেষ করলে দুই দলকে এমনভাবে এগোতে হবে যাতে শেষ পর্যন্ত ফাইনালেই মুখোমুখি হওয়া যায়। শেষ সম্ভাবনাটি কঠিন। তবে প্রথম দুটি সম্ভাবনার আশা করা যেতেই পারে।
অবশ্য নতুন ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকায় সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে নক-আউট পর্বের ড্রয়ে নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। তাদের সঙ্গে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডন। ‘কে’-তে পর্তুগালর সঙ্গে রয়েছে কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। ঠিকঠাক খেলতে পারলে পর্তুগালও এই গ্রুপে সেরা হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে পারে।
ফিফার অফিসিয়াল ফিক্সচার অনুযায়ী ৩২-এর রাউন্ডে ‘জে’-র সেরারা খেলবে ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় সেরাদের বিরুদ্ধে এবং ‘কে’-র সেরা দল মুখোমুখি হবে ‘ডি’, ‘ই’, ‘আই’, ‘জে’ অথবা ‘এল’-এর তিন নম্বর দলের বিরুদ্ধে। ফিফার সূচী অনুযায়ী আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি নিজেদের গ্রুপে সেরা হয় এবং ৩২ ও ১৬-র নক আউট রাউন্ডেও জেতে, তাহলে আট দলের রাউন্ডে, অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হবে।
একই ভাবে দুই দলই তাদের গ্রুপে রানার্স হয়ে নক আউট পর্বে এগোলে ১৬ দলের রাউন্ডেই দুই মহাতারকা মুখোমুখি হতে পারেন। কিন্তু যদি গ্রুপ পর্বে কোনও এক দল শীর্ষে থাকে ও অন্য দল রানার্স বা তিন নম্বর হিসেবে নক আউটে ওঠে, তখন ফাইনাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও পর্তুগালের সম্ভাবনা কতটা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসি-রোনাল্ডো প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি যুগের নাম। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্যবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপে তাঁদের সাক্ষাৎ কখনও ঘটেনি। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল বিশ্বের শিরোপার লড়াই নয়, বরং দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষাতেও প্রহর গুনছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।