এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার। এখন সেই জায়গা নিয়েছে ভারত। ভারতীয় ক্রিকেটের এই উত্থানের নেপথ্যে আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এমনই মনে করেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন পেসার চামিন্ডা ভাস। তাঁর মতে, ২০০৭-এ শুরু হওয়া আইপিএল তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটের মানও পৌঁছে গিয়েছে অন্য উচ্চতায়।
শিলিগুড়িতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভাস বলেন, ‘এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার। এখন ভারত আধিপত্য বিস্তার করছে।’ ভারতীয় ক্রিকেটের পরিকাঠামো এবং প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটারদের উঠে আসার কথাও বলেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রায় ১৫ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন বাঁহাতি এই পেসার। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে ৩৫৫টি এবং এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪০০টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০০৩-এর বিশ্বকাপে ২৩টি উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও হয়েছিলেন ভাস।
শনিবার মহালয়ার দিন শিলিগুড়ির বাঘা যতীন অ্যাথলেটিক ক্লাব আয়োজিত বার্ষিক ম্যারাথনের সূচনা করতে শহরে এসেছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। পরে প্রতিযোগিতার সফল অংশগ্রহণকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ভাস।
ভারতীয় ক্রিকেটের বিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে সুনীল গাভাস্কর, শচীন তেন্ডুলকর থেকে বিরাট কোহলি এবং বর্তমান প্রজন্মের শুভমন গিলের উদাহরণ দেন ভাস। তাঁর মতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে এনেছে ভারত। সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের প্রতিদ্বন্দিতাও ক্রিকেটের উন্নতিতে সাহায্য করছে। আর সেই প্রক্রিয়ায় আইপিএলের অবদান অনস্বীকার্য।
ভারতের উঠতি ব্যাটিং প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীরও প্রশংসা করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন তারকা। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিভা বৈভব। তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ভাসেরও।
ভারতের ক্রিকেট পরিকাঠামোর প্রশংসা করলেও নিজের দেশের ছবিটা নিয়ে কিছুটা হতাশ ভাস। তাঁর মতে, ১৯৯৬-এ বিশ্বকাপ জয়ের পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে উন্নতি হলেও পরিকাঠামোর আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেট থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট পর্যন্ত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
তরুণ ক্রিকেটারদের সাদা বলের ক্রিকেটে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে লাল বলের ক্রিকেটে দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন ভাস। তাঁর মতে, ‘ঠিক ভাবে ক্রিকেট শিখতে চাইলে লাল বল দিয়ে শুরু করা উচিত। সাদা বলের ক্রিকেটে যাওয়ার আগে খেলাটা বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
ছোট শহর থেকে উঠে আসা ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সাফল্যের পথে ভৌগোলিক অবস্থান কখনও বাধা হতে পারে না। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন, নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমই আসল।
এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা ঘোষের উদাহরণ টেনে এনেছেন ভাস। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার নিজের পারফরম্যান্সের জোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তাঁর সাফল্য ছোট শহরের অন্য ক্রিকেটারদেরও দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখাবে বলে মনে করেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন পেসার।
বর্তমানে তাঁর প্রিয় ভারতীয় পেসার কে? প্রশ্নের উত্তরে ভাসের পছন্দ জশপ্রীত বুমরা। পাশাপাশি, ২০০৮-এ রোহিত শর্মার সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেই সময়ের পছন্দের ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে রোহিতের নাম উল্লেখ করেন ভাস। ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও বীরেন্দ্র সহবাগের অবদানের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। আধুনিক ভারতীয় ক্রিকেটের সাফল্যের ভিত গড়তে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন ভাস।
তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, ফিটনেস বজায় রাখতে হবে, অনুশীলনে গুরুত্ব দিতে হবে এবং মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, অন্যদের সাহায্য করার মানসিকতাও রাখতে হবে।
তবে সব কিছুর উপরে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখার কথা বলেছেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন তারকা।