বিশ্বকাপের টিকিট বন্টন নিয়ে অভিযোগের পাল্টা জবাব সৌরভের, কী বললেন তিনি?

Image: ANI

বিশ্বকাপের টিকিট বন্টন নিয়ে অভিযোগের পাল্টা জবাব দিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ইডেনের ক্লাব হাউসে তিনি বললেন, বিশ্বকাপের টিকিট বন্টন করা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি-র কঠোর নির্দেশ মেনে।

কী বললেন তিনি?

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে যা বললেন তা এরকম, ‘আজ সকালে আমি ইউটিউবে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই। সেটি লিখেছিলেন এক প্রাক্তন সাংবাদিক। সেখানে সিএবি-র টিকিট বণ্টন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অবশ্যই তাঁর সামনে কিছু কাগজপত্র ছিল, যা তাঁকে কয়েক জন ব্যক্তি দিয়েছিলেন বলে আমরা জানি। কিন্তু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল হিসাবে কিছু বিষয় আমরা একেবারে স্পষ্ট করে দিতে চাই’।


কীভাবে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সৌরভ বলেন, ‘বিশ্বকাপে—তা ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ হোক, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হোক কিংবা ভবিষ্যতে যে বিশ্বকাপগুলি হবে—টিকিট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হবে, তা রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে স্টেডিয়াম সংক্রান্ত একটি চুক্তি থাকে। সেই চুক্তি আইসিসি এবং বোর্ড-এর উদ্যোগে আয়োজক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলির কাছে পাঠানো হয়। গত বিশ্বকাপে বাংলা, মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাই, আমদাবাদ-সহ যে স্টেডিয়ামগুলি ম্যাচ আয়োজন করেছিল, প্রত্যেকের কাছেই একই ধরনের স্টেডিয়াম চুক্তি পাঠানো হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকেই সেই স্টেডিয়াম চুক্তির সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হয়।

গত বিশ্বকাপের সময় সদস্যদের টিকিট নিয়েও আলোচনা হয়। আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই বোর্ডের পাঠানো এবং সিএবিকে দেওয়া সেই স্টেডিয়াম চুক্তির দিকে, যা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার নির্দেশ ছিল।

চুক্তির Schedule 5, Clause F-এ স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে:

সন্দেহ এড়ানোর জন্য জানানো হচ্ছে, কোনও বিশেষ বরাদ্দ বা অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেওয়া যাবে না। এর মধ্যে লাইফ মেম্বার, অনারারি মেম্বার কিংবা সদস্যদের অন্য কোনও শ্রেণিও অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত সরকারি পদ্ধতিতে, যেমন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অথবা পরবর্তীতে জানানো অন্য কোনও মাধ্যমে, সমস্ত ম্যাচের টিকিট কিনতে হবে। টিকিট দেওয়া হবে কঠোর ভাবে ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে’।

অর্থাৎ, বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি একটি স্পষ্ট নির্দেশ এবং নীতি। এখানেই প্রশ্ন উঠেছিল—গত বিশ্বকাপে বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার অনারারি মেম্বাররা এবং অ্যাসোসিয়েট লাইফ মেম্বাররা কেন টিকিট পাননি, যদিও কিছু কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়া হয়েছিল।

আপনারা ওই ইউটিউব পেজে BookMyShow-এর কথা শুনেছেন। কিন্তু একটি বিষয় একেবারে পরিষ্কার করে দিতে চাই—BookMyShow সিএবির কোনও এজেন্সি নয়।

সমস্ত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পালনের জন্য বোর্ড একটি কেন্দ্রীয় টিকিটিং এজেন্সি হিসাবে BookMyShow-কে নিয়োগ করেছিল। আইসিসি এবং বোর্ড-এর কঠোর নির্দেশ মেনেই তাদের টিকিটিং ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হয়েছিল।

বোর্ড-এর নির্দেশ ছিল, সাধারণ মানুষ এবং সদস্যদের জন্য সমস্ত টিকিট অনলাইনে উপলব্ধ রাখতে হবে, যাতে তাঁরা টিকিট কিনে মাঠে এসে খেলা দেখতে পারেন এবং ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলি দর্শকে পূর্ণ থাকে।

সিএবির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে সিএবি-তে কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়ার একটি নীতি চলে আসছে এবং সেই নীতি এখনও রয়েছে। চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচের ক্ষেত্রেও সিএবি তার পুরনো নীতি অনুসরণ করেছে। অর্থাৎ, সিএবি-র অনারারি, অ্যাসোসিয়েট এবং লাইফ মেম্বারদের জন্য প্রয়োজনীয় কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়ার জন্য যত সংখ্যক কমপ্লিমেন্টারি টিকিট প্রয়োজন, সেগুলিও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। কারণ, বিশ্বকাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে আইসিসি এবং বোর্ডের নির্দিষ্ট এবং কঠোর নির্দেশিকা রয়েছে। কোনও রাজ্য যদি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করতে চায়, তা হলে তাকে সেই নির্দেশিকা মেনেই চলতে হবে। এই সমস্ত বিষয় পরিষ্কার ভাবে বোঝা প্রয়োজন’।

সৌরভ জানিয়ে দেন, ‘আমি সিএবি কে অনুরোধ করেছি আমার কথাগুলো পুরো রেকর্ড করে রাখতে। কারণ, বিষয়টি আমি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যেতে চাই’।

সৌরভের বক্তব্য উপর মহলে যাওয়ার পর তার কী প্রতিক্রিয়া হবে, তার চেয়েও বড় কথা, বিশ্বকাপের টিকিট বন্টন নিয়ে অভিযোগ ওঠা এর পর বন্ধ হবে, না এই বিতর্ক চলতেই থাকবে।