ভারতীয় যুব দলে ডাক পেলেও বাংলার রোহিত যাদবের পক্ষে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলা কি সম্ভব হবে? এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ, বাংলার ক্রিকেট সংস্থা সিএবি যাঁকে সাসপেন্ড করেছে, তিনি ভারতীয় দলের হয়ে খেলবেন কী করে?
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে বিসিসিআইয়ের জুনিয়র নির্বাচক কমিটি। সফরে তিনটি এক দিনের ম্যাচ এবং দু’টি চার দিনের ম্যাচ খেলবে দুই দল। এই সিরিজ শুরু হবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে। রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে অন্বয় এবং বীরেন্দ্র শেহবাগের ছেলে আর্যবীর এই সিরিজে জায়গা পেয়েছেন ওয়ানডে ম্যাচের দলে। তবে চার দিনের ম্যাচের দলে তাঁদের রাখা হয়নি।
বাংলার দুই ক্রিকেটার রোহিত যাদব ও অভিপ্রায় বিশ্বাসও এই দলে রয়েছেন। রোহিত দুই দলেরই সদস্য। অভিপ্রায় আছেন চার দিনের ম্যাচের দলে। অভিপ্রায়কে নিয়ে কোনো সমস্যা না হলেও রোহিতকে নিয়ে অনেক সমস্যাই আছে।
উত্তর প্রদেশ থেকে আসা রোহিতকে বয়স ভাঁড়ানোর দায়ে সম্প্রতি সাসপেন্ড করেছে সিএবি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর আধার কার্ডে দু’বার বয়স বদল করেছেন। শেষ যখন বয়স বদল করেন রোহিত, তখন প্রায় দু’বছর বয়স কমিয়ে দেন। আগে যে জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছিল তাঁর, সেই জন্মতারিখ অনুযায়ী এখন তাঁর বয়স ১৯-এর ওপরে। তাই কোনটা তাঁর আসল বয়স, সেটাই প্রমাণিত নয়। সেই কারণেই তাঁকে বাংলার কোনো দলেও রাখা হয়নি।
সম্প্রতি যারা ভুয়ো নথিপত্র দিয়ে ক্রিকেট প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এ রাজ্যে ক্রিকেট খেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে সিএবি। এমন পঞ্চাশেরও বেশি ক্রিকেটারকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বলে সিএবি-র দাবি, যারা একাধিকবার আধার কার্ডে ঠিকানা বদল করে ও বয়স বদল করে নিজেদের বাংলার ক্রিকেটার ‘বানিয়ে’ বঙ্গ ক্রিকেটের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। তাদের দু’বছরের জন্য সব স্তরের ক্রিকেট থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএবি।
এই তালিকার মধ্যে রোহিতও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন হল, রোহিত যে এই তালিকায় রয়েছেন তা বিসিসিআই-কে জানানো হয়নি কেন এবং বোর্ডই বা এই ক্রিকেটার সম্পর্কে খোঁজখবর না নিয়ে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করল কী করে?
ভারতীয় ক্রিকেটে, বিশেষ করে জুনিয়র এবং বয়সভিত্তিক (যেমন অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২৩) টুর্নামেন্টে বয়স ভাঁড়ানো এবং ভুয়ো ঠিকানা সংক্রান্ত জালিয়াতি রুখতে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ক্রিকেটারদের আধার কার্ডে তথ্য পরিবর্তনের ইতিহাস যাচাই করা বাধ্যতামূলক করেছে।
অনেক সময় ক্রিকেটাররা কম বয়সি টুর্নামেন্টে খেলার জন্য তাদের আসল জন্মতারিখ পরিবর্তন করে। আধার কার্ডের ইতিহাস যাচাই করলে ধরা পড়ে যায় যে জন্মতারিখটি সম্প্রতি পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা। ক্রিকেটাররা তাদের নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য পরিবর্তন করে অন্য কোনো রাজ্যের হয়ে অন্যায়ভাবে খেলার চেষ্টা করছে কিনা, তা এই ইতিহাস থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়।
সিএবি সেই পদ্ধতির মাধ্যমেই এই ক্রিকেটারদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পেয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে জুনিয়রদের দল গড়ার আগে ভারতীয় বোর্ড এমন কোনো যাচাই প্রক্রিয়া ব্যবহার করেনি। রোহিত এর আগেও ভারতীয় দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফর করে এসেছেন। সেখানে ভালো পারফরম্যান্সও দেখিয়েছেন। কিন্তু তখন তাঁর এই বয়স পরিবর্তনের কীর্তি জানা যায়নি।
এর মধ্যে যখন তা জানা গিয়েছে, তার পরেও কী করে তাঁকে জাতীয় দলে রাখা হল সেটাই প্রশ্ন। এই বিষয়ে সিএবি সচিব বাবলু কোলে-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিশেষ কিছুই বলতে চাননি। তবে রোহিত যে আধার কার্ডে দু’বার বয়স বদল করেছেন, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত।
তবে দূর্গাপুরের অভিপ্রায় বিশ্বাসের এমন কোনো সমস্যাই নেই। উইকেটকিপার অভিপ্রায় বাংলার টেস্ট তারকা ঋদ্ধিমান সাহার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং ভারতের অনূর্ধ্ব ২৩ দলে আগেই ডাক পেয়েছিলেন। কোচবিহার ট্রফিতেও তাঁর সাড়ে তিনশো রান আছে। সেই জন্যই তাঁকে ভারতীয় দলে ডেকে নেওয়া হল।