৪১ বছর বয়সেও ইতিহাস লিখেই চলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বৃহস্পতিবার ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের শেষ-৩২-এর ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার রেকর্ড গড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্সে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আরও একটি নজির গড়েন রোনাল্ডো। ৪১ বছর বয়সে তিনি টুর্নামেন্টের নকআউটে শুরুর একাদশে নামা সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারও হয়ে যান। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে সেই রেকর্ডকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন।
টরন্টোয় এই ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস শেষ-৩২-এর ম্যাচে একাধিক ভিএআর সিদ্ধান্ত, বাতিল হওয়া গোল এবং দীর্ঘ সংযুক্ত সময়ে ভরপুর নাটকের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় পর্তুগাল। সেই সময় বক্সের মধ্যে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় তারা। স্পট-কিক থেকে নির্ভুল শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রোনাল্ডো। এটাই ছিল তাঁর বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে প্রথম গোল।
তবে ম্যাচের শেষদিকে বড় সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে রোনাল্ডোকে তুলে নিয়ে মাঝমাঠকে শক্তিশালী করার কৌশল নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত কাজে দেয়। বদলি হিসেবে নামা গনজালো রামোস সংযুক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। বিশেষ করে বাঁ দিক দিয়ে রাফায়েল লেয়াও একের পর এক আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি রবার্তো মার্তিনেজের দল। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়াও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও বিরতির আগে কোনও গোলের দরজা খুলতে পারেনি।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ইভান পেরিশিচ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৬৮ মিনিটে ভিএআরের হস্তক্ষেপে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্পট-কিক থেকে নির্ভুল শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ৪১ বছর বয়সি রোনাল্ডো।
এরপরও ম্যাচে নাটক আরও বাকি ছিল। দুই দলেরই একাধিক গোল অফসাইড কিংবা ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর দীর্ঘ সংযুক্ত সময় যোগ করা হয় এবং ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়।
ম্যাচের শেষদিকে রোনাল্ডোকে তুলে নেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তাঁর পরিবর্তে নামা গনজালো রামোসই হয়ে ওঠেন নায়ক। সংযুক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লেয়াওয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল করেন রামোস। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও আর সফল হয়নি।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্পেন, যারা শেষ-৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পরের পর্বে উঠেছে।