ফের দেড়শোর নীচে অলআউট পাকিস্তান, ইংল্যান্ডের পেসারদের দাপটে ফের চরম ব্যর্থতা

Helpless Pakistan Photo-SNS

ইংল্যান্ডে শেষ টেস্টে কোচ বদলে, দলে চার-চারটি পরিবর্তন করেও বিন্দুমাত্র লাভ হল না পাকিস্তানের। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ফের ধস নামল তাদের ব্যাটিংয়ে।

ফের ধস নামল পাকিস্তানের ইনিংসে। ব্যাটিং ব্যর্থতা যেন এই সিরিজেই পাকিস্তানের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। ফের দেড়শো রানের মধ্যেই শেষ তারা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই সিরিজে টানা পঞ্চম বার ২০০-র নীচে অলআউট হল পাকিস্তান। ১৫০ বা তারও কম রানে তাদের অলআউট হওয়ার ঘটনা এই নিয়ে তৃতীয় বার।

এই টেস্টে পাকিস্তানের তিনজন ক্রিকেটারের অভিষেক হয়। দলে চারটি পরিবর্তন এনে এই টেস্টে নামেন বাবর আজম-রা। এ দিন টস জিতে ইংল্যান্ড প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের দলে কোনো পরিবর্তন নেই। কিন্তু পাক দলে চারটি পরিবর্তন হয়। আগের দুই টেস্টের মতো এজবাস্টনেও কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছাড়াই দুই দল নামে।


টসে হারার পর বাবর বলেন, ‘নতুন ছেলেদের জন্য এই টেস্ট একটা ভাল সুযোগ। বাইরের আলোচনা বা সমালোচনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা শুধু এই ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার দিকেই মন দিচ্ছি। এই মাঠে ভাল পারফর্ম করার জন্য আমি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। সাদা বলের ক্রিকেটে এখানে আমি ভাল খেলেছি। এখানকার পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে আমরা মানিয়ে নিয়েছি’। কিন্তু বাবর সাত রানের বেশি তুলতে পারেননি।

পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করলেন সৌদ শাকিল। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৪৩ রান। মহম্মদ আব্বাস করলেন ২১। কিন্তু এই দু’জন ছাড়া আর কেউই ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারলেন না। এগারোজনের মধ্যে আটজনই দশও পেরোতে পারলেন না।

ইংল্যান্ডের পেসাররা শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের উপর চাপ তৈরি করেছিলেন। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে তাঁরা পাকিস্তানকে বড় রান করার কোনও সুযোগই দেননি। জশ টাঙ চারটি উইকেট নেন। অলি রবিনসন ও জোফ্রা আর্চার তিনটি করে উইকেট নেন। রান তোলার ক্ষেত্রে কার্যত একাই লড়াই করেন সৌদ শাকিল। বাকিরা সবাই ছিলেন ক্ষণিকের অতিথি।

তবে ইংল্যান্ডের বোলিংয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে একটি ব্যতিক্রমের কথাও উঠে আসছে—গাস অ্যাটকিনসন। বোলিংয়ে ধারাবাহিক ভাবে ভাল করার পরেও উইকেটের সংখ্যার বিচারে ভাগ্য তাঁর সঙ্গে নেই।পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সামনে ভাল বোলিং পরিস্থিতিতে ব্যাট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিচে এখনও বোলারদের জন্য যথেষ্ট সাহায্য রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের ব্যর্থতার পর এ বার ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।

পাকিস্তানের জন্য অবশ্য ছবিটা ক্রমশ উদ্বেগজনক। টানা পাঁচ ইনিংসে ২০০-র নীচে রান—তার মধ্যে তিন বার ১৫০ বা তার কম। সিরিজে ব্যাটিং বিভাগ যে গভীর সমস্যায় রয়েছে, এই পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।