ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মন্তব্যও মাঝেমধ্যে সেই উত্তাপ বাড়িয়ে দেয়। এ বার প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানকে নিয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আক্রম। পাঠানের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে আক্রমের মুখে উঠে এল তাঁর সমাজমাধ্যমের পোস্টও।
ইরফানের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা ২০০৪-এ। অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন পাঠান। সেই সময় ধারাভাষ্যকার হিসেবে সেখানে ছিলেন আক্রম। তরুণ পাঠানের বোলিং অ্যাকশন যে আক্রমের সঙ্গে বেশ মিল ছিল, তা নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। আক্রম জানিয়েছেন, সেই সময় ইরফান তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু পরামর্শও নিয়েছিলেন।
এক পডকাস্টে আক্রম বলেন, “২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ইরফানের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। আমি তখন ধারাভাষ্য দিচ্ছিলাম। ও আমার খুব বড় ভক্ত ছিল। আমাদের দেখে বড় হয়েছে। আমি ওকে দু’-একটা পরামর্শ দিয়েছিলাম। তবে কেরিয়ারের শুরুতেই ও খুব ভাল করেছিল। শুরু থেকেই ওর বোলিং অ্যাকশন আমার মতো ছিল।”
তবে শুধু বোলিং নিয়েই যে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হত, তা নয়। আক্রমের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা করে নেওয়ার পর মানসিক প্রস্তুতিটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “ক্রিকেটারেরা যখন কোনও বিষয়ে জানতে চায়, তখন মূলত মানসিকতার ব্যাপারেই পরামর্শ দেওয়া যায়। অ্যাকশন নিয়ে তখন আর খুব বেশি কিছু করার থাকে না, কারণ সেই পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েই তো তুমি দেশের হয়ে খেলছ। কব্জির অবস্থান, কী ভাবে ব্যাটারকে বুঝবে—এই ধরনের বিষয় নিয়ে কথা হত।”
ইরফানের সঙ্গে এখনও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আক্রম। কিন্তু সেখানেই এসেছে খানিক খোঁচা। তাঁর দাবি, পাকিস্তানকে নিয়ে ইরফানের সমাজমাধ্যমের পোস্ট তাঁর ভাল লাগে না।
আক্রমের কথায়, “ইরফান ভাল ছেলে। এখনও আমার সঙ্গে দেখা করে। তবে ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও না কোনও বিষয় নিয়ে টুইট করতেই থাকে। কিন্তু আমাদের সমর্থকেরাও তৈরি থাকে। ওরাও এ ধরনের বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার মানুষ নয়। তাঁরাও জবাব দিতেই থাকে।”
তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের অতিরিক্ত আবেগ নিয়ে আক্রমের আপত্তি রয়েছে। তাঁর মতে, ক্রিকেটকে ক্রিকেট হিসাবেই দেখা উচিত। ম্যাচ হার-জিতের পর সেটিকে সেখানেই শেষ করে পরের ম্যাচের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
আক্রম বলেন, “মানুষের হাতে বোধহয় অনেক বেশি সময়। তাঁরা কেন বুঝতে পারেন না যে এটা শুধুই একটা খেলা? দিনের শেষে এটা একটা ম্যাচ। কাউকে জিততে হবে, কাউকে হারতে হবে। তার পর পরের ম্যাচের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু বহু বছর আগের ঘটনাও এখনও মনে রেখে দেওয়া হয়। প্রতিশোধের কথা বলা—এসব ১৯৭০-এর মানসিকতা।”
অর্থাৎ, ইরফান পাঠানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও ভালই। কিন্তু পাকিস্তানকে নিয়ে তাঁর সমাজমাধ্যমের মন্তব্য যে আক্রমের পছন্দ নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রাক্তন পাক অধিনায়ক।