অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচ খেলার অবস্থায় রয়েছেন ইয়ামাল, সমর্থকদের খুশির খবর দিলেন স্প্যানিশ কোচ

Austria in World Cup Round of 32 Photo-SNS

অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে শুরু থেকেই খেলবেন স্পেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা লামিনে ইয়ামাল? তাদের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের কথা যদি সত্যি হয়, তা হলে তাঁকে আজ পুরো ম্যাচই খেলতে দেখা যেতে পারে। ৩২ দলের রাউন্ডে তাদের ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত স্পেনের তিনটি ম্যাচে কোচ দে লা ফুয়েন্তে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ইয়ামালকে ব্যবহার করেছেন। তাঁর শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ১৮ বছর বয়সী এই সুপারস্টারকে গ্রুপ ‘এইচ’-এর প্রথম ম্যাচে স্পেনের শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে, যখন গোলশূন্য থাকা ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল স্পেন, তখন বদলি হিসেবে তাঁকে মাঠে নামানো হয়।

আক্রমণভাগে গোলের সুযোগ তৈরির ব্যর্থতা নিয়ে যখন স্পেনকে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল, তখন পরের দুটি ম্যাচে ইয়ামালকে শুরুর একাদশে রাখেন দে লা ফুয়েন্তে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ জয়ের ম্যাচে তিনি দলের প্রথম গোলটি করেন। এরপর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-০-য় জেতা ম্যাচেও তিনি শুরু থেকেই খেলেন। তবে দুটি ম্যাচেই নির্দিষ্ট সময় পর তাঁকে তুলে নেন কোচ। তবে এখন পরিস্থিতি অন্যরকম। কোচের মতে, দলের প্রয়োজন অনুযায়ী যে ভূমিকাই দেওয়া হোক না কেন, তা পালনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ইয়ামাল।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে ইয়ামালের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমরা লামিনেকে যে ভূমিকাতেই খেলতে বলি না কেন, সে সেটাই খেলতে পারে। আমরা ওকে নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক থেকেছি। শুধু ওর ক্ষেত্রেই নয়, দলের সব খেলোয়াড়ের ফিটনেসের বিষয়ে একই নীতি অনুসরণ করেছি। প্রত্যেককে সুস্থ হয়ে ওঠার সময় দেওয়া উচিত। এখন লামিনে খুব ভালো অবস্থায় আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন, ও কতটা খেলতে চায়।” হাসতে হাসতে তিনি যোগ করেন, “তাই দেখা যাক, ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলে কি না।”


অন্যদিকে, দে লা ফুয়েন্তে আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি লিভারপুলে যোগ দেওয়া ভিক্টর মুনোজও এই ম্যাচে কিছু সময় খেলার সুযোগ পেতে পারেন। কাফ মাসলে চোটের কারণে তিনি স্পেনের প্রথম তিনটি ম্যাচে খেলতে পারেননি। তবে এই ম্যাচে খেলতে পারেন। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “ভিক্টর এখন ভালো অবস্থায় আছে। তবে ও অনেক দিন ধরে ম্যাচ খেলেনি। ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে, আমি তাকে দলে রাখতে পারব কি না।” ইয়ামালের ফিটনেস নিয়ে এই খবর নিঃসন্দেহে স্পেনের সমর্থকদের জন্য স্বস্তির কারণ। ২০২৪ ইউরো জয়ের সময় যে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল স্পেন, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেই ধার পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

দু’বছর আগে ইউরো জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা দুই ফুটবলার ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের চোট কোচকে গ্রুপ পর্বে কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। বিশেষ করে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে এই দুজনকে বদলি হিসেবে নামানোর আগে পর্যন্ত স্পেনের আক্রমণে ধার অনেকটাই কম ছিল। উইং থেকে গতি ও সরাসরি আক্রমণের অভাবে অনেক সময় স্পেনকে একপেশে দল বলেই মনে হয়েছে। প্রতিপক্ষ যখন রক্ষণভাগে গুটিয়ে গিয়ে খেলেছে, তখন বলের দখল ধরে রাখলেও সহজে রক্ষণভাগ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্প্যানিশরা।

পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে আরেকটি বিষয়। উইলিয়ামস বা ইয়ামালের স্বাভাবিক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত মুনোজ টুর্নামেন্টে এসেছেন ফিটনেস সমস্যা নিয়ে। অন্যদিকে, দলে থাকা আরেক উইঙ্গার জেরেমি পিনো উরুগুয়ের বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচে কাঁধে গুরুতর চোট পেয়েছেন। আজ ভারতীয় সময়ে রাত সাড়ে বারোটায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামবে স্পেন। তবে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে ইতিহাসও বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে স্পেন আর একবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।

এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে যথাক্রমে রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয় স্প্যানিশদের। এবারের বিশ্বকাপেও এখন পর্যন্ত নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি ‘লা রোহা’। তবে কোচ লুই দেলা ফন্তে সেই প্রত্যাশার চাপ সামলাতে এবং অতীতের হতাশার অধ্যায়কে পিছনে ফেলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ইতিহাস গড়তে মরিয়া।

কোচ সাংবাদিকদের বলেন, “সীমাহীন প্রত্যাশা আমাদের ভালোই লাগে। আমরাই সবার আগে নিজেদের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু দাবি করি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, আর সেটাই আরও উন্নতির পথে এগিয়ে দেয়। আমাদের দল ধীরে ধীরে অতীতের অনেক মুভমেন্ট আবারও ফিরে পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা যা খেলেছি, তাতেও আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু এখন আর ভুলের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের জিততেই হবে।”

টাইব্রেকারের সম্ভাবনা নিয়ে আলাদা করে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা সবকিছুরই অনুশীলন করি। আজ করেছি, গতকালও করেছি। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আমাদের যে ধারণা রয়েছে, তার ভিত্তিতে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্যই আমরা প্রস্তুতি নিই। পেনাল্টি নেওয়ার জন্য হয়তো আপনার কাছে আদর্শ খেলোয়াড়দের একটি তালিকা থাকবে, কিন্তু দেখা যেতে পারে, সেই সময় তারা মাঠেই নেই। পরিস্থিতি এলে তখনই দেখা যাবে কী করা যায়।”