শামি আরও ৩০-৪০টি টেস্ট উইকেট নিতে পারত, অবসর নিয়ে আক্ষেপ শাস্ত্রীর! নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন!

Image: X

ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) অধ্যায় শেষ। কিন্তু তাঁর আরও কিছু দেওয়ার ছিল বলে মনে করেন রবি শাস্ত্রী (Ravi Shastri)। প্রাক্তন ভারতীয় কোচের মতে, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার আগে অন্তত আরও একটি সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল বাংলার এই পেসারের। শামির (Mohammed Shami) ঝুলিতে আরও ৩০ থেকে ৪০টি টেস্ট উইকেট যোগ হতে পারত বলেও মনে করেন তিনি। শামির (Mohammed Shami) অবসরের সিদ্ধান্তে তাই হতাশ শাস্ত্রী (Ravi Shastri)। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ফিটনেস নিয়ে বারবার সংশয় প্রকাশ করে কেন শামিকে (Mohammed Shami) জাতীয় দলের বাইরে রাখা হল?

শুক্রবার টেস্ট অভিষেকের ঠিক ১৩ বছর পূর্তির দিনে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন শামি (Mohammed Shami) । ৬৪টি টেস্ট খেলে তাঁর সংগ্রহ ২২৯টি উইকেট। তবে ভারতের হয়ে শেষ টেস্ট খেলেছেন তিন বছরেরও বেশি আগে, ২০২৩-এর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: গুরনুরের চার উইকেটে ওয়েলিংটনে ধস নিউজিল্যান্ডের! ১৩৪ রানেই শেষ স্যান্টনারদের ইনিংস


‘আরও ৩০-৪০টি উইকেট পেতে পারত’

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচের আগে ‘এক্সট্রা ইনিংস’ অনুষ্ঠানে শামির অবসর নিয়ে মুখ খোলেন শাস্ত্রী (Mohammed Shami) । তাঁর কথায়, ‘দেশের হয়ে এত ভাল খেলা একজন ক্রিকেটারকে এ ভাবে চলে যেতে দেখতে খারাপ লাগে। আমার সত্যিই মনে হয়েছিল, ওর ঝুলিতে আরও ৩০ থেকে ৪০টি উইকেট ছিল। গত ১২ মাসের মধ্যে ওর খেলা উচিত ছিল। টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবেই ওর দলে থাকা উচিত ছিল বলে আমার মনে হয়।’

২০২৩-এর এক দিনের বিশ্বকাপের পর থেকেই চোটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে শামিকে (Mohammed Shami) । ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার করান তিনি। পরে হাঁটুর সমস্যাও ভুগিয়েছে তাঁকে। সেই কারণে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ টেস্টের সিরিজে খেলতে পারেননি।

২০২৫-এর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ও এক দিনের সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পাঁচটি ম্যাচেও খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৫-এ ইংল্যান্ড সফরের আগে ফের চোটের ধাক্কা লাগে। সেই সময় প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর জানিয়েছিলেন, শামির (Mohammed Shami)  বোলিংয়ের চাপ নেওয়ার ক্ষমতা তখনও যথেষ্ট জায়গায় পৌঁছয়নি। পাঁচ টেস্টের কঠিন সিরিজে তাঁকে খেলানোর ব্যাপারে চিকিৎসক দলেরও আপত্তি ছিল।

Mohammed Shami

‘জিমের ফিটনেস নয়, মাঠের পারফরম্যান্সই আসল’

শামির (Mohammed Shami) ফিটনেস নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলার বিষয়টি মানতে পারছেন না শাস্ত্রী (Ravi Shastri)। তাঁর মতে, জিমে কতটা ফিট, তার চেয়ে ম্যাচে কত ওভার বল করতে পারছেন, সেটাই একজন পেসারের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শাস্ত্রীর (Ravi Shastri) কথায়, ‘ম্যাচে যদি ১০ বা ১২ ওভার বলই করতে না পারো, তা হলে জিমে ফিট থেকে কী লাভ? এখানে তো এমন একজন ক্রিকেটার রয়েছে, যে দলের হয়ে প্রচুর পরিশ্রম করছে, নিয়মিত বল করছে। তাই ওকে আরও একটা সুযোগ না দেওয়ায় আমি কিছুটা হতাশ’।

বাংলার হয়ে নিয়মিত খেলার প্রসঙ্গও তুলেছেন প্রাক্তন ভারতীয় কোচ। তাঁর বক্তব্য, ‘শামির ফিটনেস ভাল নয়, এমন অনেক খবর আমি শুনেছি। কিন্তু ও তো বাংলার হয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলেছে। ১৫ থেকে ২০ ওভার পর্যন্ত বল করেছে। নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে একজন ক্রিকেটারকে আর কী করতে হবে?’

আরও পড়ুন: আইএসএলে গোলের বন্যা বইয়ে আজ চেন্নাইয়ে নামছে ইস্টবেঙ্গল, হাবাস-বাহিনীকে আটকাতে মরিয়া মিরান্ডার দল

ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সই জবাব

জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন শামি (Mohammed Shami) । ২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। দলকে চ্যাম্পিয়ন করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ২০২৬-২৭ মরসুমের রঞ্জি ট্রফিতেও দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলার পেসার। প্রথম তিন ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন ১৪-র গড়ে। দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে ৫৯ রানে পাঁচ উইকেট এবং মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩৭ রানে চার উইকেট পেয়েছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দলেও শামিকে (Mohammed Shami)  রাখা হয়নি। আগরকর তখন জানিয়েছিলেন, তাঁর ফিটনেস নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে পর্যাপ্ত ম্যাচও খেলেননি তিনি। পাল্টা শামি বলেছিলেন, বাংলার হয়ে চার দিনের ক্রিকেট খেলতে পারলে ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলতেও তাঁর সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

শাস্ত্রী (Ravi Shastri) আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, রিচার্ড হ্যাডলি এবং ওয়াসিম আক্রমের মতো কিংবদন্তি পেসাররাও নিয়মিত বোলিংয়ের উপর জোর দিতেন। তাঁর মতে, চোট-আঘাত ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের কোনও অভিজ্ঞ পেসার চোট পেলে শামির মতো বোলারকে তখন প্রয়োজন হতে পারে। ভাল ফর্মে থেকে আইপিএলেও ভাল খেললে জাতীয় দলে ফেরার দরজা খোলা থাকতে পারে তাঁর।

টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও সাদা বলের ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান শামি। ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলে শামির (Mohammed Shami) ফেরার সম্ভাবনাও তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শাস্ত্রীর বক্তব্য, অভিজ্ঞ এই পেসারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেওয়ার মতো এখনও অনেক কিছু রয়েছে। তাই তাঁর কথা মাথায় রাখা উচিত নির্বাচকদের।

দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/eb8_EaSGfOk?si=fYQZG3BHLzao7Cz4″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>