হ্যারি কেন মজে ট্রাম্পের সঙ্গে গলফের স্মৃতিতে, ইংল্যান্ড শিবিরে হালান্ড-বাহিনী বধের টিপস দিয়ে গেলেন বেকহ্যাম

Photo: X

রাত পোহালেই নরওয়ের বিরুদ্ধে হাই ভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে নামবে তাঁর দল। কিন্তু সেই ম্যাচের আগে কোনও মানসিক চাপে নেই ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর গলফ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প জুড়ে দিলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

হ্যারি কেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গলফের দ্বৈরথ নিয়ে একটা গুজব রটেছিল ঠিকই। তবে তা যে একেবারেই গুজব নয়, বরং ‘বেশ অবাস্তব মনে হচ্ছিল’ তাঁর, তা জানিয়ে দেন কেন।

চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে আটটি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তাঁদের ঠিক পিছনেই সাত গোল নিয়ে আছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনের ঝুলিতে রয়েছে ছয় গোল। ফলে (ভারতীয় সময়ে) রবিবার মাঝরাতে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ গোল্ডেন বুটের লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।


তবে ব্যক্তিগত দ্বৈরথ নয়, এই ম্যাচে ও বিশ্বকাপে দলের সাফল্যই তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে এমনই বার্তা দিয়ে রাখলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে নিজের তুলনা করতেও রাজি নন তিনি।

বরং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর গলফের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেই বেশি আগ্রহী। সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি কেনের সঙ্গে এক দফা গলফ খেলেছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় কেন একজন অসাধারণ ফুটবলার। আমি ওর সঙ্গে গলফ খেলেছি এবং ওকে আমার খুব ভালো লাগে। ও বেশ ভালো গলফও খেলে। সত্যিই দারুণ।”

তবে ঘটনাটা সাম্প্রতিক কালের নয়। কেন জানান, প্রায় ১৮ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় তাঁদের সেই গলফের লড়াই হয়েছিল। এমনকী, ৮০ বছর বয়সেও ট্রাম্পের গলফ খেলার দক্ষতা দেখে তিনি যে বেশ ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছিলেন, তাও এ দিন জানিয়েছেন কেন।
মেক্সিকোর বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ৩-২ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হ্যারি কেন। পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করেন তিনি। এরপরই ইংল্যান্ড অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমেও লিখেছিলেন, “ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন একজন অসাধারণ ফুটবলার!!!”

এদিকে কেন জানান, শুক্রবার ইন্টার মায়ামির ফোর্ট লডারডেল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুশীলনের সময় ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম দলের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানান। কেন বলেন, “তিনি শুধু আমাদের শুভকামনা জানিয়েছেন। প্রায় প্রতিটি ম্যাচের পরই তিনি আমাকে বার্তা পাঠান এবং আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “ডেভিড ইংল্যান্ডের বড় সমর্থক। দেশের হয়ে খেলতে, অধিনায়কত্ব করতে এবং প্রতিবার ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে দিয়ে যেভাবে খেলেছেন, তা তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা আমরা সবাই জানি।”

কেনের কথায়, “তিনি আমাদের সমর্থন জানাতেই এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়াটা ভালো লেগেছে। দলের আরও কয়েকজনও তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। তিনি ইংল্যান্ডের একজন কিংবদন্তি। আশা করি, আগামীকালের ম্যাচে আমরা এমন পারফরম্যান্স করব, যাতে তিনি গর্বিত হন।”

দলের সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন। তিনি বলেন, “আমি এসব নিয়ে খুব একটা ভাবি না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলকে জিততে সাহায্য করা। যদি গোল করতে পারি এবং তার ফলে দল জেতে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার।”

হালান্ডের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে ইংল্যান্ড অধিনায়কের মন্তব্য, “আমরা দু’জনই ভিন্ন ধরনের ফুটবলার। হালান্ড শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অসাধারণ একজন স্ট্রাইকার। আমি হয়তো খেলায় একটু বেশি জড়িয়ে থাকতে পছন্দ করি। প্রত্যেকেরই নিজস্ব শক্তি রয়েছে।”

২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন কেন। এবারও সেই সম্ভাবনা থাকলেও ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের লক্ষ্য পূরণেই বেশি মনোযোগ দিতে চান। তাঁর কথায়, “যদি আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে পারি, তাহলে ব্যক্তিগত যে কোনও পুরস্কারের চেয়েও সেটাই অনেক বড় সাফল্য হবে।”

এদিকে এই ম্যাচে মাঠে নামলেই ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়েন রুনির ১২০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন কেন। এই মাইলফলক নিয়ে তিনি বলেন, “এটা অবশ্যই গর্বের বিষয়। দেশের হয়ে এতগুলো ম্যাচ খেলা বিশেষ সম্মানের। তবে এই মুহূর্তে আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচেই। ওসব নিয়ে আলাদা করে ভাবছি না।”

ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও কেনের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “হ্যারি একজন অসাধারণ নেতা। দলের জন্য সে সবসময় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে এবং এই মুহূর্তে দারুণ ফর্মে রয়েছে। এমন একজন ফুটবলারকে কোচিং করানো সত্যিই সৌভাগ্যের।”