বিশ্বকাপ জিতিয়েই নেতৃত্ব ছাড়লেন হরমনপ্রীত, ‘অধিনায়কত্ব শেষ, যাত্রা নয়’

Photo: X

দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। এশিয়ান গেমসেও সোনা যেতেন। তার পরেই আচমকা নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন হরমনপ্রীত কৌর। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকেই সরে দাঁড়ালেন ৩৭ বছরের তারকা। তবে ক্রিকেটার হিসাবে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। অর্থাৎ নেতৃত্বের ব্যাটন ছাড়লেও হরমনপ্রীতের ক্রিকেটযাত্রা থামছে না।

মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান হরমনপ্রীত। তাঁর নেতৃত্বেই গত নভেম্বরে প্রথম বার মহিলাদের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত সম্প্রতি তাঁর নেতৃত্বে এশিয়ান গেমসেও টানা দ্বিতীয় বার সোনা জিতেছে ভারতীয় দল। সেই সাফল্যের পরেই এল নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা।

হরমনপ্রীত লিখেছেন, “আজ আমি সব ফরম্যাটে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এটা মোটেই সহজ সিদ্ধান্ত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন অনেক মুহূর্ত, যা সারা জীবন আমার সঙ্গে থাকবে।’


কেন এমন সিদ্ধান্ত? হরমনপ্রীতের বক্তব্যে তারও ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর মনে হয়েছে, দলের এখন আর তাঁর নেতৃত্বের প্রয়োজন নেই। দলকে সঠিক জায়গায় রেখে সরে দাঁড়াতে পারছেন বলেই তাঁর শান্তি হচ্ছে।

হরমনপ্রীতের কথায়, ‘আমার মনে হয়, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এই দলকে যা দেওয়ার ছিল, সব দিয়েছি। নিজের সময়, পরিশ্রম, আবেগ—সব কিছু উজাড় করে দিয়েছি। অনেক সময় দলের স্বার্থে নিজের পারফরম্যান্স, নিজের উন্নতি এবং ব্যক্তিগত ইচ্ছাকেও পিছনে রাখতে হয়েছে’।

তবে এখানেই শেষ নয়। বরং নতুন ভাবে শুরু করতে চান তিনি। হরমনপ্রীত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, ‘এখন আবার শুধুমাত্র ক্রিকেটকে ভালবেসে খেলার জন্য প্রস্তুত আমি। অধিনায়কত্ব শেষ হচ্ছে, কিন্তু ক্রিকেট নয়।

হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট পেয়েছে একাধিক বড় সাফল্য। ২০২২ সালে ওয়ান ডে দলের নেতৃত্ব নেওয়ার পর ২০২৩ সালে তিন ফরম্যাটেরই অধিনায়ক হন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ভারত পাঁচটি টেস্ট, ৫১টি ওয়ান ডে এবং ১৫৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য অবশ্যই ২০২৫ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জয়।

এশিয়ান গেমসের সাম্প্রতিক সোনাও তাঁর নেতৃত্বের মুকুটে আর একটি পালক। সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত পর পর দ্বিতীয় বার এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেটে সোনা জেতে। সেই সময় হরমনপ্রীত বলেছিলেন, ‘সোনা জেতাটা দারুণ অনুভূতি। যে কোনও অ্যাথলিটের স্বপ্ন থাকে দেশের জন্য সোনা জেতা। আমরা ভারতের জন্য সোনার দরজা খুলে দিয়েছি’।

হরমনপ্রীতের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পিছনে বিসিসিআইয়ের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকেরও ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুয়াহাটিতে হওয়া সেই বৈঠকে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা এবং কোচ অমল মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।

এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন—পরবর্তী অধিনায়ক কে? সম্ভাব্য উত্তর হিসেবে সবার আগে উঠে আসছে স্মৃতি মন্ধানার নাম। তবে বিসিসিআই এখনও নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি।

হরমনপ্রীত অবশ্য বিদায়বেলায় দল নিয়েই আশাবাদী। তাঁর কথায়, ‘আমি আবেগে ভরা হৃদয় নিয়ে নেতৃত্ব ছাড়ছি, কিন্তু একই সঙ্গে মনে শান্তিও রয়েছে। কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমার দল এখন খুব ভাল জায়গায় রয়েছে’।

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের নেতৃত্বের অধ্যায় শেষ। কিন্তু ভারতীয় জার্সিতে হরমনপ্রীতের গল্প এখনও বাকি।