‘দুটো সোনার পদক ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখব’- এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বললেন হরমনপ্রীত

সোনা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই এশিয়ান গেমসে এসেছিল ভারত। মঙ্গলবার সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে দুর্দান্ত ভাবে। শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় বার মহিলা ক্রিকেটে সোনা জিতেছে হরমনপ্রীত কৌরের ভারত। আর এই সাফল্যের পরেই অধিনায়কের আশা, ভারতের জন্য এ বার একের পর এক সোনার দরজা খুলবে।

সোনা জয়ের পর হরমনপ্রীত বলেন, ‘সোনা জিততে পেরে খুব ভাল লাগছে। যে কোনও ক্রীড়াবিদের স্বপ্ন থাকে এই পদক জেতা। আমাদের দল সোনার দরজা খুলে দিয়েছে। ভারত যত বেশি সোনা জিতবে, আমাদের জন্য ততই ভাল’। মঙ্গলবারের ম্যাচের পরই ভারতীয় দল দেশে ফিরবে। তবে অন্য ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের খেলা যে তাঁরা নজরে রাখবেন, সেটাও জানিয়েছেন অধিনায়ক।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান করেছিল ভারত। স্মৃতি মন্ধানা ৪৫ বলে ৭৯, শেফালি বর্মা ২৯ বলে ৪৮ এবং রিচা ঘোষ মাত্র ২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রান করেন। জবাবে ৬৯ রানেই শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ফলে ১৪৭ রানের বিশাল জয় পায় ভারত।


এই সোনা নিয়ে হরমনপ্রীতের কথায় ছিল আলাদা আবেগ। তিনি বলেন, ‘আমার এবং দলের কাছে এটা খুব বড় ব্যাপার। এখানে আসার পর থেকে আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল—সোনা নিয়ে ফেরা। আমরা চেয়েছিলাম ভারতের পতাকা উড়ুক এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজুক। তবে আমরা ভাবিনি যে আমরাই প্রথম সোনা এনে দেব। আমি নিশ্চিত, ভারতের অন্য ক্রীড়াবিদরাও অনেক সোনা জিতবেন’।

জাপানে এসে মাঠের পরিবেশ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। বিশেষ করে হাইব্রিড পিচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু হরমনপ্রীতের বক্তব্য, সে সব নিয়ে তাঁরা বেশি ভাবেননি। তাঁর কথায়, ‘আমরা খুব খোলা মন নিয়ে এখানে এসেছিলাম। কী হবে, কী হবে না, সেটা জানতাম না। মাঠে এসে হাইব্রিড পিচ দেখেও সবাই স্বস্তিতে ছিল। সংবাদমাধ্যমে পড়েছিলাম যে মাঠ সেই মানের নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ চোট পায়নি। একই সঙ্গে এখানে রানও হয়েছে, আবার বোলাররাও সাহায্য পেয়েছেন’।

ভারতীয় অধিনায়ক আরও জানান, ইংল্যান্ডে খেলার সময় হাইব্রিড পিচে তাঁদের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তাই জাপানের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। ‘আমরা ইংল্যান্ডে হাইব্রিড পিচে অনেক ম্যাচ খেলেছি। তাই এই পিচ কী ভাবে আচরণ করতে পারে, সেটা জানতাম। সেই অনুযায়ী নিজেদের খেলা বদলে নিয়েছিলাম। অন্য কিছু সুবিধা হয়তো সেই মানের ছিল না, কিন্তু ওরা যথাসাধ্য ভাল ব্যবস্থা করেছে,’ বলেন হরমনপ্রীত।

 

 

তাঁর মতে, বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলিতেই মন দিয়েছিল দল। ‘স্টেডিয়াম বা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভাবার বদলে আমরা খেলাটা উপভোগ করেছি। ওই বিষয়গুলি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমরা কী ভাবে খেলব, কী ভাবে ম্যাচে নামব—সেটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাই সুযোগ-সুবিধা কেমন, কতটা, সেই সব নিয়ে বেশি ভাবিনি’, বলেছেন ভারত অধিনায়ক।

এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের অনুভূতিও আলাদা বলে জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। তাঁর কথায়, ‘ক্রিকেটার হিসাবে আমরা সব সময় এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং অলিম্পিক্সের অংশ হতে চেয়েছি। এত দিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ খেলেছি। কিন্তু পদকের জন্য খেলার অনুভূতি আমাদের খুব বেশি জানা ছিল না। গত দু’টি এশিয়ান গেমসে সেই সুযোগ পেয়েছি। ভবিষ্যতে সুযোগ-সুবিধা, স্টেডিয়াম এবং দর্শক—সবই আরও ভাল হবে বলে আশা করি’।

আর এই সোনার পদকের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত স্মৃতিও। একটু হেসে হরমনপ্রীত বলেন, ‘এ বার অন্তত আমরা দু’টি পদক বাড়িতে রেখে ফ্রেমে বাঁধাতে পারব। আমরা ট্রফি জিতলে সেগুলি বোর্ডের অফিসে চলে যায়, আমাদের কাছে থাকে না। কিন্তু এই পদকটা আমাদের’।

সামনে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ক্রিকেট। সেখানেও পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন হরমনপ্রীত। তাঁর কথায়, ‘অনেক কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। কিন্তু মাঠে যত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারব, ততই ভাল। লস অ্যাঞ্জেলিসে ক্রিকেট এখনও খুব জনপ্রিয় নয়। ওরাও নিজেদের সাধ্যমতো সেরা ব্যবস্থা করবে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে খেলায় মন দেওয়া এবং সেই পরিবেশে নিজেদের সেরাটা দেওয়া’।

এশিয়ান গেমসের সোনা নিয়ে দেশে ফিরছেন হরমনপ্রীতরা। তবে অধিনায়কের চোখ এখন অন্য খেলার দিকেও— এই সোনার পথ ধরেই যেন ভারতের পদকের সংখ্যা আরও অনেক বাড়ে।