সূর্যকুমার, বুমরাহের জন্যই মুম্বই ছাড়তে চান হার্দিক?

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে হার্দিক পাণ্ডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হল। শুক্রবার থেকেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল যে, আগামী মরসুমে হয়তো আর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে দেখা যাবে না ভারতীয় অলরাউন্ডারকে। তবে দল ছাড়ার সম্ভাব্য কারণ শুধু মাঠের ব্যর্থতা নয়, তার নেপথ্যে রয়েছে ড্রেসিংরুমের অন্দরের একাধিক সমস্যা এবং মানসিক চাপও। সংবাদ মাধ্যমে  এমনই দাবি করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, হার্দিক ইতিমধ্যেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ২০২৪ সালে গুজরাত টাইটান্স ছেড়ে তিনি মুম্বইয়ে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পর থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য আসেনি। ২০২৪ সালে দল পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানিতে শেষ করেছিল। পরের মরসুমে কিছুটা উন্নতি করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত পৌঁছলেও, ২০২৬ সালে আবার হতাশাজনক পারফরম্যান্সে নবম স্থানে শেষ করতে হয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের দায়বদ্ধতা এবং মানসিকতা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন হার্দিক। তাঁর বিশ্বাস, জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গেলে তাঁর কাছ থেকে সবসময় শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয়। কিন্তু আইপিএলে একই সতীর্থদের মধ্যে সেই একই তাগিদ বা দায়বদ্ধতা তিনি দেখতে পাননি। ফলে দলের ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের কাঁধেই এসে পড়ে। যদিও হার্দিক প্রকাশ্যে কারও নাম করেননি, তবু তাঁর মন্তব্য যে দলের কিছু প্রতিষ্ঠিত তারকাকে ঘিরেই, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।


আরও জানা গিয়েছে, মরসুম চলাকালীন পিঠের চোট এবং ধারাবাহিক চাপের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন হার্দিক। এমনকি প্লে-অফের দৌড় থেকে দল ছিটকে যাওয়ার পরই তিনি নাকি নেতৃত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। পরে সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয় এবং তিনি দল ছাড়ার বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।

এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, “হার্দিকের বয়স এখনও মাত্র ৩২। গত কয়েক বছর তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে মুম্বইয়ে ফেরার পরও সমর্থকদের একাংশের সমালোচনা ও ব্যঙ্গের মুখে পড়তে হয়েছে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশও আগের মতো ছিল না। সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দলের ওপর প্রভাব ফেলেছে।”

সূত্রের আরও দাবি, দলগত লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে যদি প্রত্যেকে নিজের মতো করে ভাবতে শুরু করে, তাহলে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে স্থির থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই মরসুমের মাঝপথেই হার্দিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন যে, তিনি আর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে থাকতে চান না। এখন সকলের নজর অগস্ট মাসের দিকে, যখন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতে পারে।