আইপিএলের পরবর্তী মরসুমে কি কলকাতার দলের হয়ে খেলতে দেখা যাবে হার্দিক পান্ডিয়াকে? সে রকম সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে।
আলোচনার কেন্দ্রে হার্দিক পান্ডিয়া। মুম্বইয়ের অধিনায়ককে কি এ বার নিলামের আগেই ছেড়ে দেওয়া হবে? তাঁকে দলে নিতে আগ্রহী কলকাতা নাইট রাইডার্স? তবে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সম্ভাব্য অদলবদলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এক তারকা ব্যাটার। যাঁকে নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে দুই দলের মধ্যে। এই মতপার্থক্য না মিটলে হার্দিকের কেকেআরে আসা কঠিন।
‘হার্দিককে নাও, হর্ষিত ও অঙ্গকৃশকে দাও’
খবর অনুযায়ী, হার্দিকের বদলে মুম্বইয়ের প্রথম পছন্দ ছিল কেকেআরের সুনীল নারাইন, বরুণ চক্রবর্তী এবং রিঙ্কু সিং। কিন্তু এই তিন ক্রিকেটারকে ছাড়তে একেবারেই রাজি নয় কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি।
এর পরেই নতুন প্রস্তাব দিয়েছে মুম্বই। তারা চাইছে, হার্দিকের বদলে হর্ষিত রানা এবং অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে পেতে। হর্ষিত ২০২৪-এ কেকেআরের আইপিএল জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। অন্য দিকে, ২০২৬-এর আইপিএলে কলকাতার হয়ে সর্বাধিক রান করেছিলেন তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার অঙ্গকৃশ। মুম্বইয়ের একজন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার প্রয়োজন। সেই জায়গায় অঙ্গকৃশকে পেলে তাদের দলের একটি বড় সমস্যা মিটতে পারে।
কিন্তু অঙ্গকৃশকে ছাড়তে চাইবে কি কেকেআর? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাঁকে ভবিষ্যতের তারকা হিসাবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দলের বর্তমান কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ভাল। ফলে এই ক্রিকেটারকে ছাড়ার ব্যাপারে কলকাতা কতটা আগ্রহী, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
হার্দিককে নিয়ে চোটের আশঙ্কা
হার্দিককে নেওয়ার ব্যাপারে কেকেআরের প্রথম থেকেই কিছু সংশয় ছিল। তাঁর চোটের সমস্যা এবং ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত আইপিএলের পর থেকে এখনও কোনও ম্যাচ খেলেননি তিনি। একই ভাবে হর্ষিতের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গত আইপিএলে চোটের কারণে খেলতে পারেননি এই পেসার।
ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার আইপিএলের কতগুলি ম্যাচ খেলতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে টেস্টের ব্যস্ত সূচি থাকায় তাঁকে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নয় মুম্বই।
দৌড়ে রাজস্থান, চেন্নাইও
হার্দিককে পাওয়ার দৌড়ে শুধু কেকেআর নয়, রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস এবং চেন্নাই সুপার কিংসও। রাজস্থানের যশস্বী জয়সওয়াল এবং রবি বিষ্ণোইকে পাওয়ার চেষ্টা করছে মুম্বই। তবে সেই আলোচনা এখনও বিশেষ এগোয়নি।
চেন্নাইয়ের তরুণ ব্যাটার আয়ুষ মাথরেকে দলে নিতে চেয়েছিল মুম্বই। কিন্তু সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সিএসকে। হার্দিককে পেলে চেন্নাই তাঁকে অধিনায়কত্ব দিতে পারবে কি না, সেও বড় প্রশ্ন।
এ দিকে কেকেআরের সামনে নতুন অধিনায়ক খোঁজার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অজিঙ্ক রহাণের অবসরের পরে সেই জায়গা পূরণ করতে হার্দিককে উপযুক্ত মনে করছে কলকাতা। ২০২২-এ গুজরাত টাইটান্সকে প্রথম মরসুমেই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। যদিও এখন হার্দিক সেই ফর্মে নেই। নিজের ফর্ম নিয়েই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন যেখানে, সেখানে অধিনায়কত্ব নিয়ে কতটা ভাবতে পারবেন, সেটাই দেখার।
১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব দলকে দলে রেখে দেওয়া ক্রিকেটারদের তালিকা জমা দিতে হবে। তার আগেই হার্দিককে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায় মুম্বই। কিন্তু কেকেআর অঙ্গকৃশকে ছাড়তে রাজি হবে কি না, তার উপরেই অনেকটা নির্ভর করছে এই অদলবদল চুক্তির ভবিষ্যৎ।