টানা ১৬ গোলের পর ফয়সালা, ইস্পাত কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে ডুরান্ড কাপের শেষ চারে সবুজ-মেরুন

Durand Cup Semis Pic courtesy- MBSG X Handle

নির্ধারিত সময়ে ১-১। তার পরে টাইব্রেকারে সব শটেই গোলের পর গোল। শেষ পর্যন্ত সাডেন ডেথে বিশাল কয়েথের সেভ এবং টেকচাম অভিষেক সিংহের ঠান্ডা মাথার পেনাল্টিতে নাটকীয় জয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের।

সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসিকে টাইব্রেকারে ৯-৮ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠল সবুজ-মেরুন বাহিনী। গতবার এই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই ছিটকে গিয়েছিল তারা। তবে এ বার আর তা হয়নি।

এ দিন নির্ধারিত সময়ে মোহনবাগানের হয়ে গোল করেন সহাল আব্দুল সামাদ। জামশেদপুরকে ম্যাচে ফেরান দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি শুট আউটে স্নায়ুর চাপ সামলে জয় তুলে নেয় মোহনবাগান। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে শিলং লাজং এফসি অথবা নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি। যারা চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি।


ম্যাচের শুরুতেই, দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান। প্রণয় হালদারের পাস ঠিক মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি রাশিথোই মেইতেই। সেই আলগা বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন সহাল। নীচু শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

গোলের পরে আরও চড়া মেজাজে আক্রমণ শুরু করে সবুজ-মেরুন। দুই প্রান্ত দিয়ে টেকচাম অভিষেক সিং এবং শুভাশিস বসুর ওঠানামা বেশ ব্যস্ত রাখে জামশেদপুরের রক্ষণকে। ধীরে ধীরে অবশ্য ম্যাচে ফেরে জামশেদপুর। ১৫ মিনিটের পর থেকে বলের দখল বাড়াতে শুরু করে তারা।

১৭ ও ২৫ মিনিটে পরপর দুটি বড় সুযোগ পায় জামশেদপুর। প্রথমটি দুর্দান্ত সেভ করেন বিশাল। পরের বার ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ এলেও প্রতীক চৌধুরীর শট ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়।

ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় মোহনবাগানও। ২৭ মিনিটে সহালের ক্রস থেকে গোলের সামনে ফাঁকায় হেড করার সুযোগ পান দেজান দ্রাজিচ। কিন্তু সার্বিয়ান ফুটবলারের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ছয় মিনিট পরে অভিষেকের ক্রস ভলি মারতে গিয়েও বলের নাগাল পাননি দ্রাজিচ। ৩৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে লালেংমাওয়িয়া রালতের শট চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগেই ম্যাচে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। মোহনবাগানের বক্সের বাইরে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন রাশিথোই। বিশাল সেই শট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। তাঁর হাত থেকে ছিটকে আসা বলের সামনে ছিলেন দেবেন্দ্র। কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে স্কোর ১-১ করে দেন তিনি।

বিরতির পরে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে নামা সামির জেল্সকোভিচ চমৎকার পাস বাড়ান সহালের উদ্দেশে। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে শট নিলেও তা বারের উপর দিয়ে চলে যায়। দু’মিনিট পরে কিয়ান নাসিরির কর্নার থেকে আলবার্তো রদ্রিগেজের হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

৬৩ মিনিটের মাথায় ম্যাচের সম্ভবত সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করে মোহনবাগান। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন আলবিনো। সুযোগ বুঝে তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নেন সহাল। সামনে প্রায় ফাঁকা গোল, পাশে ছিলেন লিস্টন। সাহালের পাস তাঁর কাছে পৌঁছলেও বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি লিস্টন। হাতছাড়া হয় নিশ্চিত গোলের সুযোগ।

শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৯ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নেমে বাঁ দিক দিয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু ক্রস বাড়ান সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। জেমি ম্যাকলারেনের কাছে পৌঁছলেও তিনি বল গোলে ঠেলতে পারেননি।

নির্ধারিত সময়ে ফল ১-১ থাকায় শুরু হয় টাইব্রেকারের রুদ্ধশ্বাস লড়াই। প্রথম পাঁচ রাউন্ডে কোনও দল হার মানেনি। সাডেন ডেথেও চলতে থাকে একের পর এক গোলের পালা। প্রথম ১৬টি কিকই জালে জড়ায়।

অবশেষে সাডেন ডেথের চতুর্থ দফায় মোহনবাগানের নায়ক হয়ে ওঠেন বিশাল। জামশেদপুরের লওমসাংজুয়ালার শট আটকে দেন তিনি। তখনই সবুজ-মেরুনের সামনে সেমিফাইনালের দরজা অর্ধেক খুলে যায়। স্পটকিকে এগিয়ে আসেন অভিষেক। কোনও ভুল করেননি তিনি। বল জালে জড়াতেই যুবভারতীতে শুরু হয় সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।

নির্ধারিত সময়ে একাধিক সুযোগ পেয়েও দ্বিতীয় গোল করতে পারেনি মোহনবাগান। সেই ব্যর্থতার মূল্য প্রায় দিতে বসেছিল তারা। কিন্তু টাইব্রেকারের স্নায়ুর লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল সবুজ-মেরুন। ৯-৮ গোলে জয় নিয়ে ডুরান্ড কাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গলও। ফাইনালে ফের একে অপরের মুখোমুখি হতে দুই প্রধানকে আর একটি করে ধাপ পেরোতে হবে। তার পরই খেতাবি লড়াই।