এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের প্রধান দাবিদার জার্মানি

বিশ্বকাপ ফুটবল বলতেই ব্রাজিল এবং আর্জিন্টিনার পাশে যে দেশের নামটা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, সেই দেশটার নাম হল জার্মানি। ফিফা ক্রমতালিকায় এই মুহূর্তে দশম স্থানে রয়েছে জার্মানি। সেই কারণে যে কোনও দলের বিরুদ্ধে জার্মানি খেলতে নামলে তার একটা আলাদা চরিত্র তৈরি হয়ে থাকে। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানি এবারে রবিবার প্রথম সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হবে এমন একটা দেশের সঙ্গে, সেই দেশের জনসংখ্যা দেখলে অবাক হতে হবে। শুধু তাই নয়, ওই দেশটা এবারই প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিচ্ছে। সবারই কৌতূহল, সেই দেশের নাম কী। হয়তো সারা দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা অনেকেই শোনেননি দেশটার নাম। দেশটার নাম কুয়াসাও। ফিফা ক্রমতালিকায় তাদের স্থান ৮৩তম। শুধু তাই নয়, অবাক হতে হয় বাছাই পর্বের খেলায় এই ছোট্ট দেশটা কোনও খেলাতেই হার স্বীকার করেনি। আর এই দলের কোচ হলেন ৭৮ বছর বয়সী ডিক অ্যাডভোকেট। অনেকে হয়তো ভাবছেন, এমন একটা দুর্বল দলের সঙ্গে জার্মানি প্রথম ম্যাচে অনেক নজির গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল অনেক সময় দেখা যায়, পচা শামুকে পা কেটে যায়। হয়তো সেই কারণেই এই নতুন দেশটি এমন আক্রমণ গড়ে তুলতে পারে, সেক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জার্মানির। তাই অনেক অঙ্ক কষে জার্মানিকে কিন্তু লড়াই করতে হবে। গত দু’টি বিশ্বকাপে জার্মানি কিন্তু আহামরি কোনও ফলাফল দেখাতে পারেনি। তারা গ্রুপ পর্বের পরেই বিদায় নিয়েছিল।

১৯৫৪ সালে প্রথমবার জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়েছিল। ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে জার্মানি এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছিল বিশ্বকাপে। ব্রাজিলের মতো দলকে এত গোলের ব্যবধানে বিপক্ষ দল হারাতে পারে, তা প্রমাণ করে দিয়েছিল জার্মানি। অবশ্য সেবারও জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে এবারের বিশ্বকাপে অবশ্যই দাবিদার জার্মানি। কোচ য়ুলিয়ান নাগেলসম্যান আশা প্রকাশ করছেন, প্রথম ম্যাচটাকে সেরা খেলা উপহার দেওয়ার জন্য সব ফুটবলাররা তৈরি রয়েছেন। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ম্যানুয়েল নয়্যার অবসর ভেঙে আবার দলে এসেছেন। দলের অন্যতম ভরসা বলতে ফুটবলার কাই হাভার্ৎজ। এছাড়াও দলে দুরন্ত ফুটবলার বলতে জোশুয়া খিমিত। এবাদে এবারে যোগ্যতা অর্জন পর্বের খেলায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যায় জার্মানি। শেষ ম্যাচে জার্মানি ৬-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল স্লোভাকিয়াকে। স্বাভাবিকভাবে জার্মানি আক্রমণাত্মক খেলা খেলে থাকে যে কোনও দলের বিরুদ্ধে। অনেক সময় দেখা গিয়েছে আক্রমণে একজন খেলোয়াড়কে রেখে প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামতে। আসল কৌশলটা হল মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ শানিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে ব্যতিব্যস্ত রাখা। আবার এও দেখা গেছে, টোটাল ফুটবল খেলতে গিয়ে রক্ষণ ভাগের খেলোয়াড়রাও আক্রমণে উঠে আসেন। আর সেই আক্রমণ থেকে গোল করা জার্মানির খেলোয়াড়দের অভ্যাস। এই দিনই আবার মাঠে নামছে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম সেরা দল জাপান। জাপানের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ জানাবে নেদারল্যান্ডস।