টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরে কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে গম্ভীরকে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের চাকরি থাকবে কিনা, তা নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এমনকি নিউজিল্যান্ড দল ভারত সফরে আসার আগেই এই গুঞ্জন বড় আকারে প্রকাশ পেয়েছিল। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, খুব সম্ভবত গৌতম গম্ভীরের জায়গায় ভারতীয় দলে নতুন কোচকে দেখতে পাওয়া যাবে। কিন্তু তা বাস্তবে রূপ পায়নি।

আলোচনার টেবিলে তা থমকে গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের মাটিতে খেলতে এসে সিরিজ তুলে নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে। তখনও আইসিসি-র কর্মকর্তারা দফায় দফায় আলোচনায় বসেছিলেন গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে। সেই ভাবনা গোড়াতেই স্তব্ধ হয়ে যায়। তারপরে ভারতে খেলতে আসে নিউজিল্যান্ড দল। একদিনের ম্যাচে সফররত নিউজিল্যান্ড দল ভারতকে বেশ চাপে ফেলে দেয়। কিন্তু রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো তারকা ক্রিকেটার থাকাতেত অনেকটাই সুবিধা আদায় করে নিয়েছে শুভমন গিলরা। বিরাট কোহলি বড় রানের অঙ্ক উপহার দিলেও, রোহিত শর্মা সেইভাবে সাফল্য তুলে আনতে পারেননি। তবুও বলতে দ্বিধা নেই, এই দুই ব্যাটসম্যানের সৌজন্যে ভারতের মুখ রক্ষা হয়েছে। আসলে এই দুই তারকাকে মাঠে দেখে তরুণ ক্রিকেটাররা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। যার ফলে ভয়হীন ক্রিকেটাররা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে ভুল করেননি।

তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড শিবিরে পরপর তিনটি ম্যাচে ধস নামিয়ে দিয়েছে ভারতীয় দল। ভারতীয় দলের খেলা দেখে তারাও বেশ শঙ্কিত। ভারতের তরুণ ব্রিগেড যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তাতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন অভিষেক শর্মা থেকে শুরু করে সূর্যকুমার যাদবরা।


এখন প্রশ্ন , টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই কি কোচের পদ থেকে গৌতম গম্ভীরকে সরে যেতে হবে? বিশ্বকাপের আগে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত ফর্মে তাঁর দল। তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ় জিতে গিয়েছে ভারত। কিন্তু ভারতের টেস্ট দলের কোচ হিসাবে গম্ভীরের ফল খুব খারাপ।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতলেও এক দিনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়েও সাফল্যের থেকে তাঁর ব্যর্থতা বেশি চোখে পড়েছে। সেই কারণে গৌতম গম্ভীরের পদ নিয়ে জল্পনা কিছুতেই থামছে না। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকিয়া।তিনি জানিয়েছেন, কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার জন্য একটি কমিটি তাঁদের রয়েছে। সেখানে প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা রয়েছেন। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেন। দল নির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটিও রয়েছে। তাঁরাও যোগ্যতা প্রমাণ করে এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক আমি নই। তাঁরা একই টেবিলে বসে আলোচনা করবেন। তার পর সিদ্ধান্ত নেবেন। তাড়াহুড়ো করার মতো কিছু নেই।’

পাশাপাশি শইকিয়া আরও জানিয়েছেন, ‘ভারতের মতো দেশে যে খারাপ ফল করলে সমালোচনা হবে তা তাঁরা জানেন। কারও মুখ তো বোর্ড বন্ধ করতে পারবে না। প্রত্যেকেই ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ। প্রত্যেকের মতামত আছে। গণতান্ত্রিক দেশে তো কারও মুখ বন্ধ করতে পারি না। সংবাদমাধ্যমেও নানা রকম জল্পনা চলেছে। বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটারেরাও নিজেদের মতামত দিচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৯৩ বছরে মাত্র এক বার ঘরের মাঠে দুই বা তার বেশি টেস্টের সিরিজ়ে চুনকাম হয়েছিল ভারত। কিন্তু গম্ভীর জমানায় দু’বছরে দু’বার তা হয়েছে। প্রথমে নিউ জ়িল্যান্ড ও পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে হারিয়ে গিয়েছে। এক দিনের পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের মধ্যে তিনটি হেরেছেন গম্ভীর। শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জ়িল্যান্ড হারিয়েছে ভারতকে। ফলে পরিসংখ্যান তাঁর পক্ষে নেই। তবে তাঁর প্রশিক্ষণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলে গম্ভীরকে সরানোর প্রসঙ্গটা বড় করে দেখা নাও দিতে পারে।