‘মানসিক ভাবে ক্লান্ত’, স্বীকার করে নিলেন গম্ভীর! ভারতের কোচের দায়িত্ব কি চাপে ফেলছে তাঁকে?

Gautam Gambhir Photo-SNS

ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচের দায়িত্বে গৌতম গম্ভীরের অভিজ্ঞতা ভালোমন্দ মেশানো।

এক দিকে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য, অন্য দিকে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যর্থতা এবং একাধিক সিরিজে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার চাপ।

সব মিলিয়ে গত কয়েক মাস বেশ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এ বার সেই চাপের কথা আর চেপে রাখতে পারলেন না গম্ভীর।


নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে সাত উইকেটে হারের পরে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিন ধরনের ক্রিকেটে দলের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কখনও মানসিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন? গম্ভীরের উত্তর, ‘হ্যাঁ, সত্যিই এমন হয়েছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি সামলানোর মতো মানসিক শক্তি আমার রয়েছে। যত দিন পারব, এই চাপ সামলাতে পারব। আমি সে ভাবেই তৈরি। চাপ নিতে পারি, প্রয়োজনে গুলিও খেতে পারি। তবে আমিও মানুষ। কখনও কখনও ক্লান্ত হয়ে পড়তেই পারি। এখন পর্যন্ত অবশ্য সেই পরিস্থিতি সামলে নিতে পেরেছি।’

ভারতের কোচ মানেই বাড়তি চাপ

গম্ভীরের কথায়, ভারতীয় দলের কোচিং করানোর দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে যখন দলকে নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। তাঁর কথায়, ‘কাজের চাপ যে কঠিন, তা আমি জানি। বিদেশে গিয়ে খেলতে হলে পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। ভারতের মতো দলের কোচিং করানোর সময় প্রত্যেকের প্রত্যাশা থাকে, প্রতিটি ম্যাচেই জিততে হবে। কেউ সামান্য ভুলের সুযোগ দিতে চায় না। তবে বাস্তব পরিস্থিতিটাও বুঝতে হবে। আমি এই দায়িত্ব উপভোগ করছি।’

একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছেন, অজুহাত দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মানুষ তিনি নন। গম্ভীর বলেন, ‘আমার অভিধানে ভয় বলে কোনও শব্দ নেই। আমার চিন্তাভাবনা বা আদর্শেও ভয়ের কোনও জায়গা নেই। আমরা পেশাদার। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, অজুহাতের কোনও জায়গা নেই।’

দল নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি

শুধু মানসিক চাপ নয়, দলের নির্বাচন এবং ক্রিকেটারদের সামলানোর কঠিন দিক নিয়েও মুখ খুলেছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, একজন প্রধান কোচের কাজ সকলকে খুশি করা নয়, বরং দলের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।

গম্ভীরের কথায়, ‘আমার কাজ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। সাজঘরে বসে সকলের পছন্দমতো সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব সহজ। কিন্তু আমার দায়িত্ব সাজঘরের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দেওয়া। যারা দীর্ঘ সময় ধরে ভাল খেলেছে, তাদের পাশে থাকা এবং যথেষ্ট সমর্থন জোগানো।’

ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো যে কোচের কাছে সহজ নয়, তাও স্বীকার করেছেন তিনি।

গম্ভীরের বক্তব্য, ‘কোচ হিসেবে এই কথোপকথনগুলো সব সময় কঠিন। আমার কাছে সততা, স্পষ্ট কথা বলা এবং স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটাই একজন প্রধান কোচের দায়িত্ব। যত দিন আমি সেটা করতে পারব, তত দিন প্রত্যেকের চোখে চোখ রেখে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব।’

শ্রেয়স আইয়ারদের প্রশংসা

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-২-এ জিতেছে ভারত। যদিও শেষ দু’টি ম্যাচে হেরেছে শ্রেয়স আইয়ারের দল। গম্ভীরের মতে, অল্প প্রস্তুতি নিয়ে নিউজিল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম তিনটি ম্যাচ জেতা যথেষ্ট বড় কৃতিত্ব।

তিনি বলেন, ‘ছেলেরা মাত্র এক দিন প্রস্তুতির সময় পেয়েছিল। ১৫ ঘণ্টার বিমানযাত্রার পরে মাত্র এক বেলা অনুশীলন করে সম্পূর্ণ আলাদা পরিবেশ, আবহাওয়া এবং মাঠের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছিল। তার পরেও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে যে ভাবে ওরা খেলেছে, তার জন্য গোটা দল প্রশংসার যোগ্য। এই সাফল্যের কথা আমাদের মনে রাখা উচিত।’

শ্রেয়সের অধিনায়কত্বেরও প্রশংসা করেছেন ভারতীয় কোচ। তাঁর মতে, অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ নিয়েও শ্রেয়স যে ভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।

এ বার ভারতের সামনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের এবং টেস্ট সিরিজ়ের চ্যালেঞ্জ। টি-টোয়েন্টির সাফল্যকে পিছনে ফেলে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে চান গম্ভীর। তবে তাঁর স্বীকারোক্তি, দায়িত্বের চাপ রয়েছে, মানসিক ক্লান্তিও আসে। কিন্তু আপাতত লড়াই থামানোর কোনও ইচ্ছা নেই তাঁর।