বিশ্বকাপ দলে থাকবেন রোহিত, বিরাট? বড় ইঙ্গিত দিলেন ভারতীয় দলের হেড কোচ গম্ভীর

Gautam Gambhir Photo-SNS

টি-টোয়েন্টি নয়, টেস্ট ক্রিকেটকেই অগ্রাধিকার দিতে চান চিনি। ভারতের ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচির মাঝে ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজের আগে কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে ওয়ান ডে থেকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে হার্দিক পাণ্ড্য এবং যশপ্রীত বুমরার গুরুত্বও বুঝিয়ে দিলেন গম্ভীর।

নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১২টি ম্যাচ খেলবে ভারত। সূচির চাপে শেষ ওয়ান ডে এবং প্রথম টেস্টের মধ্যে থাকছে মাত্র দু’দিনের ব্যবধান। ১৯ নভেম্বর ওয়েলিংটনে শুরু হওয়ার কথা প্রথম টেস্ট। তার আগে শেষ ওয়ান ডে হবে ১৬ নভেম্বর তৌরাঙ্গায়। ফলে ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকে মাত্র দু’দিনের মধ্যে পাঁচ দিনের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়া সোজা হবে না।

গম্ভীর বলছেন, টেস্টের প্রস্তুতির জন্য সাদা বলের ক্রিকেট থেকেও ব্যাটারদের বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, ‘টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যাটারদেরও সাদা বলের ক্রিকেট থেকে বিরতি দিতে হয়। টি-টোয়েন্টি থেকে এক দিনের ক্রিকেটে যাওয়া সহজ, কিন্তু টেস্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন’। জিওস্টার-এর এক অনুষ্ঠানে কথাগুলি বলেন ভারতীয় দলের কোচ।


এই কারণেই শুভমান গিল, কে এল রাহুল, যশস্বী জয়সওয়াল, বুমরা, মহম্মদ সিরাজ, রবীন্দ্র জাদেজা এবং নীতীশ রেড্ডির মতো ক্রিকেটারদের কয়েকটি ওয়ান ডে ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গম্ভীর নির্দিষ্ট করে কারও নাম বলেননি।

কমবে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটার

ভবিষ্যতে তিন ফরম্যাটে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারের সংখ্যা কমানো হবে বলেও মনে করছেন গম্ভীর। তাঁর বক্তব্য, ‘এক জন কোচ হিসাবে আমি চাই যত বেশি ক্রিকেটার তিন ফরম্যাট খেলুক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোচ বা নির্বাচকেরা যতই চান, আগামী দিনে তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটার খুব কমই থাকবে। কারণ ক্রিকেটারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাতে হবে— সে স্পিনার হোক বা জোরে বোলার’।

তবে ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে টেস্টকেই দেখছেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, ‘একটি শক্তিশালী টেস্ট ক্রিকেট খেলা দেশই আসলে শক্তিশালী ক্রিকেটীয় দেশ। উল্টোটা আমি কখনও বিশ্বাস করিনি। শক্তিশালী টি-টোয়েন্টি দল মানেই শক্তিশালী ক্রিকেটীয় দেশ— এটা বিশ্বাস করি না। তাই লাল বলের ক্রিকেট এখনও আমাদের অগ্রাধিকার’।

বিশ্বকাপের আগে হার্দিক-বুমরার ছন্দ জরুরি

২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় হতে চলা সেই বিশ্বকাপের আগে ভারতের পরিকল্পনায় হার্দিক এবং বুমরা দু’জনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘হার্দিক হোক বা যশপ্রীত বুমরা— দু’জনেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি দলের এমন ক্রিকেটার নেই যে ১০ ওভার বল করতে পারে, ছয় বা সাত নম্বরে ব্যাট করতে পারে এবং একই সঙ্গে ম্যাচে এমন প্রভাব ফেলতে পারে।’

বিশেষ করে হার্দিককে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন গম্ভীর। আইপিএলের পর খুব বেশি ক্রিকেট খেলেননি হার্দিক। তাই বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেললে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

গম্ভীরের কথায়, ‘বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ খেলার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্ধেক প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে যাওয়া যায় না। পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলতে হবে, ছন্দ ঠিক রাখতে হবে। বিশ্বকাপে কোনও ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ চলে না’।

রোহিত-বিরাটকে নিয়ে বড় ইঙ্গিত

ওয়ান ডে অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্ব নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, গিলের পাশে রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকাটা বড় সুবিধা। তাঁর এই কথা থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় বিশ্বকাপ দলে রোহিত, বিরাটদের তিনি চান কি না।

গম্ভীর বলেন, ‘ওয়ান ডে-তে রোহিত এবং বিরাটকে পাশে পাওয়া গিলের সৌভাগ্য। মাঠে এবং মাঠের বাইরে ওরা ওকে সাহায্য করতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেটে কাউকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা সব সময়ই কঠিন। আর তরুণ অধিনায়ককে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হলে কাজটা আরও কঠিন। এখনও পর্যন্ত গিল সেই পরীক্ষায় ভাল ভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে’। বিশ্বকাপেও রোহিত, বিরাটের উপযোগিতা নিয়ে এর চেয়ে বেশি আর কিই বা ইঙ্গিত দিতে পারেন গম্ভীর?

তবে গিলের সাম্প্রতিক ওয়ান ডে ফর্ম নিয়ে যে কিছুটা কঠিন সময় যাচ্ছে, তাও মেনে নিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর আশা, ‘ওয়ান ডে ক্রিকেটে ও একটু কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।’

দু’বছরের কোচিং পর্বে সাফল্য এবং ব্যর্থতা—দুই-ই দেখেছেন গম্ভীর। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি টেস্টে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারও এসেছে। সেই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘আমারও উত্থান-পতন, ব্যর্থতা এবং সাফল্য এসেছে। এই ধরনের দায়িত্ব নিলে উত্থান-পতন থাকবেই।’