দীর্ঘ একযুগ পর ফের বিশ্বকাপের নকআউটের ছাড়পত্র পেল জার্মানি। এর আগে ২০১৪ সালের পর টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সেই হতাশা কাটিয়ে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২ তে পৌঁছে গেল জার্মান জায়ান্ট’রা। আর জার্মানির এই সাফল্যের অন্যতম কারিগর ডেনিজ উন্দাভ। বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই দু’ম্যাচে তিন গোল হয়ে গিয়েছে তাঁর । যদিও, উন্দাভের এই লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। একটা সময়ে ভোর চারটে ঘুম থেকে উঠে কারখানায় কাজ করতে যেতেন। সেখানে দীর্ঘ আটঘন্টা কাজ শেষে অনুশীলন করতেন তিনি।
যদিও, লড়াইয়ের এখানেই শেষ নয় উন্দাভের জন্য। ১৯৯৬ সালে ১৯ জুলাই ভারেলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাঁর দাদা জার্মানিতে চলে আসেন। এদিকে, ১৪ বছর বয়সে ওয়েডার ব্রেমেন অ্যাকাডেমি থেকে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, চেহারা ছোটখাটো হওয়ায় ফুটবলে তাঁর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। তবে, এহেন প্রত্যাখ্যানও ভেঙে দিতে পারেনি উন্দাভকে। পরিবার তুরস্কের উরফা প্রদেশে থাকলেও ১৭ বছর বয়সে দাদার কাছে জার্মানিতে চলে আসেন তিনি। সেখানে, চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে যোগ দেন উন্দাভ।
ক্লাব থেকে প্রাপ্ত অর্থে সংসার চালানো সম্ভব ছিল না বলেই সকালে কারখানায় কাজ করতেন তিনি। আর অবসর সময়ে অনুশীলন ছিল তাঁর নিত্য সঙ্গী।২০২০ সালে বেলজিয়ামের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোয়াজে যোগ দেওয়ার পর তাঁর কেরিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স তাঁকে ইউরোপের বড় মঞ্চে তুলে আনে। এরপর ২০২৪ জার্মানির জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি। উন্দাভ হলেন ইয়াজিদি বংশোদ্ভূত প্রথম ফুটবলার যিনি বিশ্বমঞ্চে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এই প্রসঙ্গে বলা যায়, মাস কয়েক আগেও কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গে বির্তকে জড়িয়েছিলেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে একটি ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে শেষ সময়ে গোল করে উন্দাভ জানিয়েছিলেন, তিনি প্রথম একাদশে থাকার যোগ্য। জবাবে নাগেলসমান বলেছিলেন, শুরু থেকে খেললে হয়তো গোলটি করতে পারতেন না উন্দাভ। তবে, মাঠের পারফরম্যান্সেই সব বির্তকের জবাব দিয়েছেন তিনি। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর জার্মানি কোচ নাগেলসমানও স্বীকার করে নিয়েছেন, পরের ম্যাচে উন্দাভকে প্রথম একাদশে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন তিনি।