ভারতে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নের যে তাঁকে এক দিন জাপানের পথ দেখাবে, তা তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি। বিহারে জন্ম ক্রিকেটার অভিষেক আনন্দের (Abhishek Anand)। চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হাতে ছিল মাত্র দু’ঘণ্টা। সেই ছোট্ট সময়ের সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তাঁর জীবন। আজ তিনি জাপানের জাতীয় দলের ক্রিকেটার।
বিহারে জন্ম ও পটনায় বেড়ে ওঠা অভিষেক আইআইটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। কলেজজীবন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ছিল গভীর টান। ভারতে থেকেই চাকরির পাশাপাশি ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু কলেজে পড়ার সময় জাপানের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা থেকে চাকরির প্রস্তাব আসে। সামনে তখন বড় প্রশ্ন—ক্রিকেটের টানে ভারতেই থেকে যাবেন, নাকি জাপানে গিয়ে নতুন পেশাদার জীবন শুরু করবেন?
শেষ পর্যন্ত জাপানের ক্রিকেট সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন অভিষেক। জানতে পারেন, সেই সময় জাপানের ক্রিকেট দল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলছে। সেই খবরেই তিনি দেখতে পান এক নতুন সম্ভাবনা।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🚨 Meet Abhishek Anand 🚨
Abhishek is From Rohtas, Bihar. He migrated to Japan in search of Job.
During weekends, he started playing club cricket and then got selected in Japanese national cricket team 👏🏻
An Inspiration Story 👇🏻 https://t.co/6kJQTtUpzW</p>— Ajay Jadeja (@AjayJadeja171) <a href=”https://x.com/AjayJadeja171/status/2101878256698110236?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 21, 2026</a></blockquote>
<script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
অভিষেক (Abhishek Anand) বলেন, ‘ভারতে থেকেই ক্রিকেট এবং চাকরি— দুটোই চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জাপানের ক্রিকেট সম্পর্কে কিছু তথ্য খুঁজতে শুরু করি। সৌভাগ্যবশত, সেই বছর জাপান ইস্ট এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলেছিল। তখনই মনে হল, জাপানে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রয়েছে এবং আমি ওখানে গিয়ে ক্রিকেট-চর্চা করতে পারি’। এর পরেই নেন সিদ্ধান্ত, ‘প্রায় দু’ঘণ্টা জাপানের ক্রিকেট সম্পর্কে খোঁজখবর করার পর চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করে জাপানে চলে আসি’, জানান তিনি।
জাপানে পৌঁছনোর ক্রিকেট থেকে একেবারেই দূরে সরে যাননি অভিষেক (Abhishek Anand)। বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে শেষ পর্যন্ত যোগ দেন টোকিও ফ্যালকন ক্রিকেট ক্লাবে। সেখানে টানা তিন বছর ভাল খেলার পর নজরে পড়েন জাপান ক্রিকেট সংস্থার নির্বাচকদের।
আরও পড়ুন: মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালকে হারাল আতলেতিকো, জুভেন্টাসের স্বস্তি, পিএসজি-র ক্লাসিক জয়
তাঁর কথায়, ‘জেসিএ প্রতি বছর আমার পারফরম্যান্সের দিকে নজর রাখছিল। তৃতীয় বছরে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জানায় যে আমার পারফরম্যান্স ভাল হয়েছে’।এর পরই তাঁকে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়। কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পর ২০২৫ সালে জাপানের জাতীয় দলে জায়গা করে নেন অভিষেক(Abhishek Anand) ।
অভিষেক (Abhishek Anand)বলেন, ‘ওরা বলেছিল, ‘আমরা চাই তুমি আমাদের জাতীয় দলের হয়ে খেলো। তাই কঠোর অনুশীলন করো এবং নিজের সেরাটা দাও।’ আমি সেটাই চালিয়ে যাই। তার পর ২০২৫ সালে জাতীয় দলে নির্বাচিত হই’।
জাপানের হয়ে এখনও পর্যন্ত ১৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন অভিষেক(Abhishek Anand)। একটি অর্ধশতরানও রয়েছে তাঁর নামের পাশে। প্রয়োজনে মিডিয়াম পেস বোলিংও করেন তিনি। ভারতের বিরুদ্ধে জাপানের ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অবশ্য তাঁকে দলে রাখা হয়নি। তবে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের সমর্থন করবেন তিনি। ‘ম্যাচটা নিয়ে আমি খুবই উত্তেজিত। দলে নেই ঠিকই, কিন্তু দলের সঙ্গে থাকব এবং সতীর্থদের সমর্থন করব,’ বলেন অভিষেক।
ইচ্ছে আছে ভারতীয় দলের দুই বিহারি ভাই বৈভব সূর্যবংশী ও ইশান কিষাণের সঙ্গে দেখা করারও। সেই ইচ্ছা পূরণ হবে কি না, তা অবশ্য জানেন না অভিষেক(Abhishek Anand)। তবে চেষ্টা তো করবেনই। ভারতের ক্রিকেটের ভিড় থেকে জাপানের জাতীয় দলের জার্সি— মাত্র দু’ঘণ্টার একটি সিদ্ধান্ত যে জীবনের গল্প এ ভাবে বদলে দিতে পারে, অভিষেক আনন্দ(Abhishek Anand) তারই বিরল উদাহরণ।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/QpMtnNwskj4?si=b2S-614NWCpjPxVz” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>v