বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেলেও ফুটবলের এই বিশ্বসেরা আসরকে কেন্দ্র করে বিতর্কের অবসান কিছুতেই হচ্ছে না, বরং প্রতিদিনই কিছু না কিছু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে যাচ্ছে। এ বার বিতর্কের তালিকায় যুক্ত হল আফ্রিকান দেশ ঘানা।
শুক্রবারের দুই ম্যাচের ফলের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে থমাস পার্টেকে ঘিরে নতুন বিতর্ক। ঘানার এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার বর্তমানে স্পেনের ক্লাব ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইউকে-তে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগের মামলা চলছে এবং তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু কানাডা সরকার তাঁর ভিসার আবেদন বাতিল করে দিয়েছে।
অর্থাৎ, ভিসা না পেলে আগামী ১৭ জুন টরন্টোয় পানামার বিরুদ্ধে ঘানার প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। ফিফাও এই ব্যাপারে হাত তুলে নিয়েছে।স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও দেশের ভিসা নীতিতে তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সরকারেরই।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজন হলেও দেশের অভিবাসন আইন অপরিবর্তিত থাকবে এবং প্রত্যেক আবেদনকারীকে আলাদা ভাবে আইন অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। ফলে পার্টের ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে কোনও ব্যতিক্রম হয়নি।
বিশ্বকাপে ভিসা-সংক্রান্ত বিতর্ক অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এ বার ফের একই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় আয়োজক দেশগুলোর অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এদিকে আরও একটি বিতর্কের জন্ম হয়েছে প্যালেস্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজুবকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিশ্বকাপের স্বীকৃত পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি তিনি। ফলে বিশ্বকাপকে ঘিরে খেলা ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনটি যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকল কানাডার ঐতিহাসিক সাফল্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দাপুটে জয়ের জন্য, তেমনই ভিসা-সংক্রান্ত বিতর্কও টুর্নামেন্টে চর্চার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।