সাদা বলের ক্রিকেটে নো-বল হলে দেওয়া হয় ফ্রি হিট। এ বার টেস্ট ক্রিকেটেও চাইছেন সেই নিয়ম?
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ভারতীয় স্পিনারদের একের পর এক নো-বল দেখে এমনই অভিনব প্রস্তাব দিলেন দলের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। যদিও খানিকটা মজার ছলেই তাঁর এই মন্তব্য, তবু ক্রিকেটের নিয়মে এমন বদলের ভাবনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
কলম্বো টেস্টে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় স্পিনাররা মোট ১০টি নো-বল করেছেন। ২০২১-এর পর কোনও টেস্টে ভারতীয় স্পিন আক্রমণের এটাই সর্বোচ্চ নো-বল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচে এই অতিরিক্ত রান এবং অতিরিক্ত বল নিয়েই চিন্তিত ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
বুধবার ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে বাহুতুলে এই দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। মাঝেমধ্যে এটা অবশ্যই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কোনও পরিস্থিতিতে উইকেট পাওয়া যাচ্ছে না, তখন বোলার অতিরিক্ত চেষ্টা করতে গিয়ে আরও বেশি চেষ্টা শুরু করে দেয় বোলার। তবে সে কোনও অজুহাত হতে পারে না’।
বিশেষ করে রবীন্দ্র জাডেজা এবং সারাংশ জৈনের রান-আপ ও টেক-অফ পয়েন্ট নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের স্পিন কোচ। বাহুতুলে বলেন, ‘জাডেজা এবং সারাংশের সঙ্গে টেক-অফ পয়েন্ট নিয়ে অনেক কাজ করা হয়েছে। কিন্তু কখনও কখনও নির্দিষ্ট একটি ডেলিভারিতে ওরা একটু বেশি জোর দিয়ে ফেলে এবং তখন ক্রিজ পেরিয়ে যায়। আমি নিশ্চিত, ওরা এটা ঠিক করে আরও ভাল করবে’।
এর পরেই আসে সেই চমকপ্রদ ‘ফ্রি হিট’ প্রসঙ্গ। সাদা বলের ক্রিকেটে নো-বলের পর ব্যাটারকে যে সুবিধা দেওয়া হয়, টেস্টেও তেমন ব্যবস্থা চালুর পক্ষে সওয়াল করেন বাহুতুলে। অবশ্য তিনি নিজেই জানিয়ে দেন, নিয়মকানুনের ‘রক্ষাকর্তা’ তিনি নন!
বাহুতুলের কথায়, ‘আমি নিয়মের রক্ষাকর্তা নই। তবে যদি ফ্রি হিট চালু করা হয়, তা হলে নো-বলের সংখ্যা অবশ্যই কমবে। কোনও দলই নো-বল করে অতিরিক্ত একটি বল এবং অতিরিক্ত রান দিতে চাইবে না’।
অর্থাৎ, নো-বলের শাস্তি আরও কঠিন হলে বোলাররাও রান-আপের শেষ ধাপটিতে বেশি সতর্ক হবেন—এটাই তাঁর যুক্তি। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে ফ্রি হিট চালুর ভাবনা বাস্তবে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
নো-বল কমাতে শুধু ম্যাচের সময়ই নয়, নেটে অনুশীলনের সময়ও নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহুতুলে। তাঁর বক্তব্য, ‘নেটেও বার বার মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ম্যাচের পরিস্থিতির মতোই আমরা প্রতিটি অনুশীলনকে গুরুত্ব দিই এবং বাইরে থেকে বিষয়টি নজরে রাখা হয়’।
তিনি আরও বলেন, ‘কখনও আমি নিজেই আম্পায়ার হিসেবে থাকি, কখনও অন্য কোচেরা আম্পায়ারের দায়িত্ব নেন। স্পিনার এবং পেসার—দুই ধরনের বোলারকেই আমরা নজরে রাখছি। বিষয়টিকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। কাজ এখনও চলছে’।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ভারতের স্পিনারদের নো-বল সমস্যা তাই ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলাদা আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আর সেই সমস্যা মেটাতে বাহুতুলের ‘টেস্টে ফ্রি হিট’-এর প্রস্তাব যে ক্রিকেটমহলে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে, তা বলাই যায়।