বিশ্বকাপ মানেই ফ্রান্স। গত তিন দশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলির অন্যতম নীল-বাহিনী। ১৯৯৮ এবং ২০১৮-য় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২-এ রানার্স-আপ। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় বিশ্ব খেতাবের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে ফিফার ক্রমতালিকায় বিশ্বের এক নম্বর দল ফ্রান্স।
কোচ দিদিয়ে দেশঁ-র সামনে এবার এক বিরল সুযোগ। ফুটবল ইতিহাসে কোনও কোচ এখনও দু’বার বিশ্বকাপ জেতেননি। সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার হাতছানি রয়েছে তাঁর সামনে। একইসঙ্গে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যও ফ্রান্সের সামনে।
ফরাসি শিবিরের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। গত মরসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই তারকা ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে ১২টি গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোশ্লাভ ক্লোজের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র চারটি গোল।
এমবাপের পাশাপাশি ফ্রান্সের আক্রমণভাগে রয়েছেন উসমানে দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, দেজিরে দু, রায়ান শেরকি এবং মার্কাস থুরঁ। কাগজে-কলমে এই আক্রমণভাগকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’-এ ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সেনেগাল, ইরাক এবং নরওয়ে। তবে প্রতিপক্ষদের হালকাভাবে নিলে চরম ভুল করবে ফরাসি শিবির। বিশেষ করে সেনেগাল ও নরওয়ের বিরুদ্ধে লড়াই যথেষ্ট কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবু গ্রুপের শীর্ষস্থান পাওয়ার দৌড়ে ফ্রান্সই সবচেয়ে এগিয়ে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের রেকর্ড বেশ মজার—১৯৯৮ সালে জয়, ২০০৬ সালে হার, ২০১৮ সালে জয়, ২০২২ সালে হার। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৬ সালে আবারও ট্রফি উঠতে পারে ফরাসিদের হাতেই। পরিসংখ্যান হয়তো সব সময় সত্যি হয় না, কিন্তু এমবাপেদের এই দলকে দেখে অনেকেই ইতিমধ্যে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন মাইক মেইগনান। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্ডে ও থিও হার্নান্দেজ। মাঝমাঠে আছেন এনগোলো কঁতে এবং তরুণ প্রতিভা ওয়ারেন জাইরে-এমেরি। আর সামনে রয়েছেন এমবাপে-দেম্বেলে-অলিসেদের ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগ।
এখন প্রশ্ন একটাই—কাতারের হতাশা ভুলে এবার কি শেষ হাসি হাসবে ফ্রান্স? উত্তর মিলবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে।
ফ্রান্সের গ্রুপ পর্বের সূচি
১৭ জুন: ফ্রান্স বনাম সেনেগাল (রাত ১২:৩০, ভারতীয় সময়)
২৩ জুন: ফ্রান্স বনাম ইরাক (রাত ২:৩০)
২৭ জুন: ফ্রান্স বনাম নরওয়ে (রাত ১২:৩০)