প্রয়াত প্রাক্তন ফুটবলার ইলিয়াস পাশা

বৃহস্পতিবার প্রয়াত হলেন প্রাক্তন ফুটবলার ইলিয়াস পাশা। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। মূলত রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে খেলা ইলিয়াস পাশা তাঁর নিখুঁত টাইমিং এবং অসামান্য গেম রিডিংয়ের জন্য বিশেষ পরিচিত ছিলেন। চাপের মুখেও মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে পারতেন পাশা। বেঙ্গালুরুর বিনায়ক ফুটবল ক্লাবের হয়ে ফুটবল জীবন শুরু করেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন অধিনায়ক। পরবর্তীকালে, ইন্ডিয়ান টেলিফোন ইন্ডাস্ট্রিজের হয়েও খেলেছেন তিনি। সন্তোষ ট্রফিতেও কর্ণাটকের হয়ে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন পাশা।
কলকাতায় মহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে সাইত নাগজি ট্রফি ও নিজাম গোল্ড কাপ জেতার পর ১৯৯০ সালে তিনি যোগ দেন ইস্টবেঙ্গলে। সেই মরসুমেই ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ত্রিমুকুট জেতেন পাশা। নব্বইয়ের দশকে লাল-হলুদ জার্সিতে রক্ষণভাগকে যথেষ্ট নির্ভরতা দিয়েছেন। ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলে খেলেছিলেন তিনি। এরই মাঝে ১৯৯৩-৯৪ মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়কত্বের দায়িত্বও সামলেছিলেন পাশা। তাঁর নেতৃত্বেই ইস্টবেঙ্গল প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা নেপালে ওয়াই-ওয়াই কাপ জেতার পাশাপাশি উইনার্স কাপে ইরাকের শক্তিশালী দল আল জাওরার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলে জয়লাভ করে তারা।
সন্তোষ ট্রফিতে কর্ণাটকের পাশাপাশি বাংলার হয়েও সন্তোষ ট্রফি খেলেছিলেন তিনি। ১৯৯৩ এবং ১৯৯৫ সালে দু’বার বাংলার হয়ে ঐতিহ্যশালী খেতাব জেতেন এই ডিফেন্ডার। ১৯৮৭ সালের ২৭ জানুয়ারি কোঝিকোড়ে নেহেরু কাপে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের জার্সিতে অভিষেক হয় ইলিয়াস পাশার। ভারতের জার্সি গায়ে তিনি মোট ৮ ম্যাচ খেলেছেন। কোচ সুভাষ ভৌমিকের অন্যতম প্রিয় ফুটবলার ছিলেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে পাঁচবার কলকাতা লিগ, চারবার ডুরান্ড কাপ, পাঁচবার শিল্ড, দু’বার রোভার্স কাপ, চারবার এয়ারলাইন্স গোল্ড কাপ এবং একবার করে ফেডারেশন কাপ, বরদলুই ট্রফি, সুপার কাপ, ম্যাকডাওয়েল কাপ, এস.এস.এস. ট্রফি এবং এ.টি.পি.এ. শিল্ড জিতেছিলেন পাশা।

২০১২ সালে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠা দিবসে ইলিয়াস পাশাকে জীবনকৃতি সম্মানে ভূষিত করা হয়। পরবর্তীকালে ২০১৯ সালে ক্লাবের শতবর্ষে সকল অধিনায়কের সঙ্গে পাশাকেও সম্মানিত করা হয়। বেঙ্গালুরুর বাড়িতে এদিন তাঁকে লাল-হলুদের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান ক্লাবের কর্মসমিতির সদস্য দীপ্তেন বসু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তিন প্রাক্তন ফুটবলার সরভানন, থমাস ও সিরাজ। পাশার প্রয়াণে বৃহস্পতিবার ক্লাবের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। লাল-হলুদের অনুর্দ্ধ ১৬ দল অনুশীলন শুরুর আগে নিরবতাও পালন করে।