শনিবার মরসুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতে যত না লড়াই দেখা যাবে দুই প্রধানের বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে, তার চেয়ে বেশি লড়াই হবে দেশীয় ফুটবলারদের। কারণ, কোনও দলই তাদের বিদেশিদের সবাইকে এই ম্যাচে নামাতে পারছে না। তাই মূলত দেশীয় ফুটবলারদের নিয়েই মরসুমের প্রথম ম্যাচে দল নামাতে হবে দুই প্রধানের কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ও প্যানাগিওতিস দিলমপেরিস বা প্যানোসকে।
ইস্টবেঙ্গলের সদ্য যোগ দেওয়া স্প্যানিশ ফুটবলার ড্যানি রামিরেজ ছাড়া আর কোনও বিদেশিকে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনিই একমাত্র গত দু’দিন ধরে অনুশীলন করছেন দলের সঙ্গে। আরেক বিদেশি মহম্মদ রশিদের বুধবার চলে আসার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি। শোনা যায়, তিনি পারিবারিক সমস্যার জন্য নির্ধারিত বিমান ধরতে পারেননি বলে গতকাল কলকাতায় এসে পৌঁছতে পারেননি। অন্য বিমানে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে এসে পৌঁছলেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার এসে শুক্রবার তিনি যদি অনুশীলনে নামতেও পারেন, তা হলেও কি শনিবার তাঁকে ম্যাচে নামাতে পারবেন স্প্যানিশ কোচ হাবাস? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
একই অবস্থা মোহনবাগানের ডিফেন্ডার আলবার্তো রদ্রিগেজের। তাঁর এসে পৌঁছনোর কথা শুক্রবার। অর্থাৎ, তিনি শনিবারের ম্যাচের আগে ঠিকমতো অনুশীলনই করতে পারবেন না। এই অবস্থায় তাঁকে শনিবার মাঠে নামানোর ঝুঁকি নেবেন তাদের কোচ প্যানোস, এমন সম্ভাবনাও কম। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের নয়া বিদেশি সার্বিয়ার দেজান দ্রাজিচ বুধবার সকালে এসে পৌঁছেছেন। বিকেলে তিনি শুধু গা ঘামান, দলের সঙ্গে মূল অনুশীলনে নামতে পারেননি। আজ থেকেই অনুশীলন শুরু করার কথা তাঁর। ফলে শনিবার হয়তো দুই দলে একদিকে রামিরেজ ও অন্যদিকে দ্রাজিচকে দেখা যাবে। তাও শুরু থেকে কি না, বলা কঠিন।
অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের বিদেশি কোচেরা কখনো বিদেশি ফুটবলারদের অন্তত এক সপ্তাহ অনুশীলন না করিয়ে ম্যাচে নামান না। কারণ, বাইরের কোনো দেশ থেকে এসে একজন বিদেশি ফুটবলারের অন্তত ৫-৬ দিন লাগে এ দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে। ইউরোপের ফুটবলারদের আরো বেশি সময় লাগে এ দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে অন্তত ৭০-৮০ শতাংশ মানিয়ে না নিয়ে ম্যাচে নামলে তাদের পেশিতে টান ধরে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। সে জন্যই তাদের তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামাতে চান না কোচেরা।
সে জন্যই শনিবার ডার্বিতে মূলত ভারতীয়দের লড়াই-ই দেখা যাবে বলে মনে হচ্ছে। তবে ইস্টবেঙ্গলের রামিরেজ প্রথম দিন থেকেই ভালো অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন। ‘প্রথমদিন অনুশীলনেই খুব ভাল লেগেছে আমার। শনিবার ডার্বিতে মোহনবাগানকে হারাতে চাই। সেজন্য দলকে যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করব’, বলেছেন রামিরেজ।
এ দিকে লাল-হলুদ শিবিরের দায়িত্ব নিয়ে খুশি কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও। এক সময় তিনি ছিলেন মোহনবাগানের সমর্থকদের নয়নের মণি। এখন সবুজ-মেরুনের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের কোচ তিনি। তবে এই তাঁর কোনো অনুতাপ বা অনুশোচনা নেই। পেশাদার কোচেদের তেমন কিছু থাকার কথাও না। তিনি বলেছেন, ‘কলকাতায় বহু বছর ধরে কাজ করেছি। অনেক দিন পরে ফিরলাম। এখন তো এটা আমার দ্বিতীয় বাড়ি হয়ে গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ হয়ে আসাটা আমার কাছে আনন্দের। সামনে লম্বা মরশুম। অনেক চড়াই উতরাই আসবে। সমর্থকদের আমাদের পাশে থাকতে হবে সব সময়। অধৈর্য হলে চলবে না’।
কলকাতার দুই প্রধানের সমর্থকেরা অধৈর্য্য হয়ে উঠলে কী হয়, তা হাবাসের আগেই দেখা হয়ে গিয়েছে। তাই তিনি আগে থেকেই সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরার বার্তা দিয়ে রেখেছেন। প্যানোস অবশ্য কলকাতায় এই প্রথম। তাই তাঁর পক্ষে কলকাতার ফুটবলপাগলদের ভালো ভাবে জানা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েই এসেছেন।
মোহনবাগানের মতো ক্লাবে যে তুমুল প্রত্যাশার চাপ থাকে, তা তিনি জানেন। তাই আগেই বলে দিয়েছেন, ‘এই ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর দায়িত্ব কতটা বেড়ে যায়, তা আমি বুঝি। আমরা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করব, যাতে সবুজ মেরুন সমর্থকেরা গর্বিত হতে পারেন। আপনাদের সমর্থনের শক্তি প্রয়োজন আমাদের। কারণ, দল এবং সমর্থকেরা যখন এক হয়ে এগিয়ে চলে, তখনই ফুটবল সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ট্রফি জয়ের জন্য যা খুবই দরকার’।
ইস্টবেঙ্গলের বরিস সিং ও দানিশ ফারুখের চোট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাই এই দুজন হয়তো ডার্বিতে নাও খেলতে পারেন। বাকিরা অবশ্যই খেলবেন। অন্যদিকে, মোহনবাগানের মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসো, কিয়ান নাসিরি, শুভাশিস বোস, অভিষেক সিং, মেহতাব সিং, রাহুল ভেকে, দীপেন্দু বিশ্বাস-দের সঙ্গে নবাগত অ্যালেক্স সাজিও হয়তো খেলবেন ডার্বিতে। ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে যাওয়া সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও এই ডার্বি একটা বড় চ্যালেঞ্জ।