রণজিত দাস: ৭৯তম সন্তোষ ট্রফির ফাইনাল রাউন্ড খেলতে বাংলা দল রবিবার আসামের উদ্দ্যেশে রওনা দিচ্ছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ান বাংলা দল তাদের প্রথম ম্যাচ ২১ জানুয়ারি নাগাল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।গ্রুপ পর্যায়ে নাগাল্যান্ড তাদের গ্রুপে দুই শক্তিশালী দল যথাক্রমে মণিপুর ও মিজোরামকে ছিটকে দিয়ে ফাইনাল রাউন্ডে উঠে এসেছে। গ্রুপ-এ’তে বাংলা দল সরাসরি ফাইনাল রাউন্ডে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ফাইনাল রাউন্ডের ১২ দলকে দুটো গ্রুপে ভাগ করে খেলা হচ্ছে।গ্রুপের ৫টা ম্যাচের মধ্যে বাংলা দল দ্ধিতীয় ম্যাচে উত্তরাখণ্ডের মুখোমুখি হবে। উত্তরাখণ্ড গতবারের জাতীয় গেমসে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে।
বাংলা দল তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচ যথাক্রমে রাজস্হান ও তামিলনাড়ুর সঙ্গে খেলবে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলা দলকে আয়োজক আসামের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। ৬ দলের গ্রুপ থেকে প্রথম ৪টে দল নকআউট স্টেজে খেলার সুযোগ পাবে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলা দলের নকআউট পর্যায়ে যেতে বিশেষ বেগ পেতে হবেনা। ৩৩বারে চ্যাম্পিয়ান বাংলা দল নকআউটে গ্রুপ-বি’র দলের বিরুদ্ধে খেলবে। গ্রুপ-বির ৬টা দলের মধ্যে ওড়িশা, সার্ভিসেস ও কেরল দলগুলোকে হারিয়েই বাংলা দল গতবার সন্তোষ ট্রফি’তে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে।
গ্রুপ-বি’তে অন্যন্য দল হিসেবে পাঞ্জাব, রেলওয়েজ ও মেঘালয় রাজ্য দলগুলো আছে। বাংলা দলের পরেই পাঞ্জাব ৮বার এবং কেরল ও সার্ভিসেস দল ৭বার করে সন্তোষ ট্রফিতে জয়ী হয়েছে। নামের তালিকার ভিত্তিতে কোচ সঞ্জয় সেনের প্রশিক্ষনের বাংলা দল এবার যথেষ্ট শক্তিশালী দল হয়েছে। সহকারী কোচ হিসেবে সৌরেন দত্ত ও গোলকিপার কোচের পদে অর্পন দে’ বাংলা দলের সাথে যুক্ত আছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ান বাংলা দলের ৬ জন ফুটবলার এবারের দলে আছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ৮জন ফুটবলার এবারের দলের মূল চালিকাশক্তি বলা যায়।বাংলা দলে ৫জন ফরোয়ার্ড নেওয়া হয়েছে।
রবি হাঁসদা ও নরহরি শ্রেষ্ঠা ছাড়া উত্তম হাঁসদা,সুময় সোম ও করন রাই–প্রত্যেকেই বিগত কলকাতা লিগে তাদের ক্লাব দলের হয়ে নিয়মিত গোলের মধ্যেই ছিল।এছাড়া গোলের মধ্যে থাকা ইস্টবেঙ্গলের সায়ন ব্যানার্জীর নাম উল্লেখ করা যায়। কলকাতা লিগের পরিচিত ও অভিজ্ঞ ফুটবলার নিয়েই প্রধানতঃ বাংলা দল তৈরি হয়েছে। উত্তম হাঁসদা,আকিব নওয়াব ও আকাশ হেমব্রমরা দলে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে কিনা তা লক্ষ্যনীয়। রবি হাঁসদা ১২টা গোল করে চ্যাম্পিয়ান বাংলা দলের উল্লেখযোগ্য মুখ হয়ে উঠেছিল। এবারের সন্তোষ ট্রফিতে বিপক্ষ দলের কাছে সে প্রধান টার্গেট হয়ে উঠবে। দেড়মাস প্র্যাকটিসের মধ্যে বাংলা দল ৫টা প্রস্ততি ম্যাচ খেলেছে। প্রস্ততির যথেষ্ট সময় পেয়ে বাংলা দলকে নিয়ে কোচ সঞ্জয় সেন আশাবাদী। তার মতে, ‘ছেলেরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলেই আবার চ্যাম্পিয়ান হওয়া কঠিন হবেনা।’
প্রসঙ্গতঃ বলা যায়,গতবার চ্যাম্পিয়ান বাংলা দলের সকল ফুটবলারদের রাজ্য সরকার পুলিশের ভালো পদে নিয়োগ দিয়েছিল। চাকরি পাওয়ার আশায় বাংলা দলের ছেলেরা তাদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে। দীর্ঘদিন বাদে ইস্টবেঙ্গল দল থেকে একঝাঁক ফুটবলার বাংলা দলে যোগ দিয়েছে। আইএসএল ও আইলিগের ফুটবলাররা সন্তোষ ট্রফিতে খেলার সুযোগ পায়না। চাকরি পাওয়ার আশাতেই বাংলা দলের হয়ে খেলার ঝোঁক বেড়েছে। বাংলা দলের সাফল্যে এই তাগিদ কতটা কাজে দেয়ে, সময়ে তার উত্তর মিলবে।