শাহবাজের সেঞ্চুরির পর শামির তিন উইকেট, কেরলে চালকের আসনে বাংলা, ফের ছ’পয়েন্টের আশা

Photo: X

রঞ্জি ট্রফিতে টানা তৃতীয় জয়ের দিকে এগোচ্ছে বাংলা। যদি আগামী দু’দিন আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকে, বৃষ্টি যদি বাধ না সাধে, তা হলে ছ’পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারে বাংলা দল।

প্রথম ইনিংসে বাংলার সাড়ে তিনশোর জবাবে কেরল মঙ্গলবার ব্যাট করতে নেমে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছে। মহম্মদ শামি ও শাহবাজ আহমেদের বোলিংয়ের দাপটে দ্বিতীয় দিনের শেষে তারা ১০১ রান তুললেও হারায় ছ’উইকেট। বাংলার চেয়ে ২৪৯ রানে পিছিয়ে তারা।

প্রথমে দিল্লি, তার পর সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ছয় পয়েন্ট করে তুলে বাংলা এখন গ্রুপের শীর্ষে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েই কেরলে গিয়েছে লক্ষ্মীরতন শুক্লর দল। কিন্তু আবহাওয়া খুব একটা ভাল না থাকায় প্রথম দিন ম্যাচই শুরু হয় অনেক দেরিতে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় চাপে পড়ে গিয়েছিলেন বাংলার ব্যাটাররাও। প্রথম দিনই তাদের ছ’উইকেট পড়ে যায়।


মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন স্কোরবোর্ডে ১৭২-৬ নিয়ে ব্যাট করতে নামেন শাহবাজ আহমেদ ও সুমন্ত গুপ্ত। বাংলাকে এই জায়গা থেকে টেনে তোলেন এই দুই ব্যাটার। তাঁদের ১০৩ রানের পার্টনারশিপই বাংলাকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলে। শাহবাজের ১২১ ও সুমন্তর ৪৯ রানের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অগাস্টে দলীপ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি করে দলের হাল ফিরিয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সি এই স্পিনার অলরাউন্ডার। এ বার তাঁর ব্যাটই বাংলাকে টেনে তোলে এবং কেরলের সামনে এক বড় ইনিংস দাঁড় করিয়ে দেয়।

আগের দিন ৩৫ রানে অপরাজিত শাহবাজ এ দিন আটটি চারের সঙ্গে সঙ্গে চারটি ওভার বাউন্ডারিও মারেন। তাঁর ইনিংসে যেমন এ রকম আগ্রাসন ছিল, তেমনই উইকেটে টিকে থাকার মতো যথেষ্ট ধৈর্যও ছিল। সুমন্তকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাকে আড়াইশো রানের গণ্ডী পার করিয়ে দেন তিনি। শাহবাজকে যোগ্য সঙ্গত দিতে সুমন্ত পাঁচটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৪৯ রান করার পর প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।

এর পরে বাংলাকে আরো অনেকটা এগিয়ে দিয়ে ৩৪৪ রানের মাথায় তিনিও আদিত্য সারওয়াটের বলে শচীন বেবির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। বাংলা ইনিংস শেষ করে ৩৫০ রানে।

বল হাতেও কম যাননি শাহবাজ। আট ওভার বল করে মাত্র আট রান দিয়ে দু’উইকেট নেন তিনি। ফেরান শচীন বেবি ও আদিত্য সারওয়াটেকে, যে দুজনের যৌথ চেষ্টায় থেমে গিয়েছিল তাঁর ইনিংস। তবে কেরলের ব্যাটিং লাইন-আপের ওপর দিয়ে প্রায় বুলডোজার চালিয়ে দেন মহম্মদ শামি। ৫৪ রানের মধ্যেই তিন উইকেট পড়ে যায় কেরলের।

দুই ওপেনার, যাঁদের একই নাম, অভিষেক নায়ার ফিরে যান ২৬ রানের মধ্যেই। তাঁদের একজনকের স্টাম্প ছিটকে দেন শামি। অধিনায়ক বিষ্ণু বিনোদেরও স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। প্রতিপক্ষের পাঁচ নম্বর ব্যাটার সলমন নিজারকে স্টাম্পের পিছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ভারতীয় দলের বাইরে থাকা এই পেসারই। সব মিলিয়ে আট ওভারে ২০ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন শামি। বিষ্ণু বিনোদ (৪১) ও শচীন বেবি (২৩) ছাড়া আর কেউই তেমন রান করতে পারেননি।

আপাতত বাংলার লক্ষ্য, বুধবার কেরলকে যথাসম্ভব দ্রুত অল আউট করে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেওয়া এবং এই ম্যাচ জিতে আরো ছ’পয়েন্ট নিয়ে কলকাতায় ফেরা।