বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করেও লাল কার্ড থেকে রেহাই পেলেন মেসির সতীর্থ, উল্টো সুর আক্রান্ত স্প্যানিশ তারকার

Photo: Representational Image

স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের যন্ত্রণা তো ছিলই। তার সঙ্গে ম্যাচ শেষে মারামারিতে জড়িয়ে সরাসরি লাল কার্ডও দেখেছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তবে অবাক করা সিদ্ধান্ত নিল ফিফা। ম্যাচের সরকারি নথি থেকে পারেদেসের সেই লাল কার্ড মুছে ফেলা হয়েছে। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, তিনি শাস্তি এড়িয়ে গিয়েছেন। বরং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।

রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, পারেদেস প্রথমে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা টিপে ধরেন। পরে গাভিকে মাটিতে ফেলে দেন। একই সময়ে নাহুয়েল মোলিনাকেও স্পেন অধিনায়ক রদ্রির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়।

প্রথমে জানা গিয়েছিল, ম্যাচ শেষে রেফারি পারেদেসকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। কিন্তু পরে ফিফার প্রকাশিত ম্যাচ রিপোর্টে সেই লাল কার্ডের উল্লেখ নেই। কারণ, ফিফা গোটা ঘটনাটি শৃঙ্খলাভঙ্গের পৃথক তদন্তের আওতায় নিয়ে গিয়েছে। ফলে ম্যাচ রিপোর্টের লাল কার্ডের বদলে শাস্তির বিষয়টি এখন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।


ফিফার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিভাগের একজন প্রসিকিউটরকে ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলিতে ফিফার শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

পারেদেসের হিংসাত্মক আচরণের জেরে তাঁর অন্তত তিন ম্যাচের নির্বাসন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্পেনের মিডফিল্ডার গাভি মাঠের সেই ঘটনার জন্য পারেদেসকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার পক্ষে নন। দেশে ফেরার পর এল পার্তিদাজো দে কোপে-কে গাভি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না পারেদেসকে নির্বাসিত করা উচিত। আমি বুঝি, বাচ্চাদের কাছে এটা ভালো বার্তা নয়। কিন্তু ফুটবলে শারীরিক লড়াই আর কিছুটা আগ্রাসন থাকেই’। গাভির এই বিবৃতি অপ্রত্যাশিত হলেও সত্যি।

ফিফা যখন পারেদেস-সহ আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার ও দলের আচরণ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, তখন প্রকাশ্যে এল ফাইনাল শুরুর ঠিক আগে টানেলের একটি অদেখা ভিডিও। সেখানে দেখা গেল, আর্জেন্টাইন ড্রেসিংরুমে উত্তেজনার আবহ।

সেই ভিডিওয়ে দেখা যাচ্ছে, ড্রেসিংরুমের উত্তেজনার আবহ কাটিয়ে সতীর্থদের শান্ত থাকার বার্তা দিচ্ছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই ভিডিও ঘিরেই এখন তুমুল চর্চা ফুটবলমহলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে টানেলে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘সব কিছু ভুলে যাও। শান্ত হও। শুধু খেলাটার উপর মন দাও’। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত বার্তা শুনে সতীর্থদেরও শান্ত হতে দেখা যায়।

ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অনেকের ধারণা, এটাই হয়তো বিশ্বকাপে মেসির শেষ ম্যাচ হতে পারে। সেই কারণেই দলের উপর মানসিক চাপ ছিল অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতেই অধিনায়ক হিসেবে সকলকে শান্ত রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি।

তবে মাঠে সেই বার্তার প্রতিফলন ঘটেনি। গোটা ম্যাচে স্পেনের দাপটের সামনে ছন্দ খুঁজে পায়নি আর্জেন্টিনা।টানেলের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর অনেক সমর্থকেরই মত, ম্যাচের আগেই দলের উপর কতটা মানসিক চাপ ছিল, তারই প্রমাণ মিলেছে মেসির কথায়।

কেউ কেউ আবার মনে করছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অধিনায়কের এই বার্তায় লুকিয়ে ছিল তাঁর নিজের আবেগও— যে আবেগ হয়তো ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকার শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চকে ঘিরেই তৈরি হয়েছিল। তবে মেসি এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কোনও ঘোষণা করেননি।