আসন্ন বিশ্বকাপে যারা স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাবেন, সেই দর্শকদের পানীয় জলের জন্য অতিরিক্ত ডলার ব্যয় করতেই হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছে ফুটবলের বিশ্ব নিয়ামক সংস্থা ফিফা।
শেষ মুহূর্তে স্টেডিয়ামের আচরণবিধি সংশোধন করে জানানো হয়েছে, দর্শকরা আর কোনও ধরনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য জলের বোতল স্টেডিয়ামের ভিতরে নিয়ে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ, কেউ যদি বাইরে থেকে কোনও দামী জলের বোতল কিনে তাতে জল ভরে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবেন, তা হলে সেটি হচ্ছে না।
এর আগে ফিফা জানিয়েছিল, এক লিটার পর্যন্ত স্বচ্ছ ও খালি প্লাস্টিকের বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় সেই অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফিফার দাবি, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। বোতল ছুড়ে মারলে খেলোয়াড় বা দর্শকদের আঘাত লাগতে পারে বলে ফিফার আশঙ্কা। সেজন্যই এই নতুন নির্দেশিকা।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বিশ্বকাপের বেশ কিছু ভেন্যুতে প্রবল গরম পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, টুর্নামেন্টের বেশ কিছু ম্যাচ (অন্তত ২৬টি) প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হতে পারে এবং তাতে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকরাও অসুস্থ হতে পারে।
অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের জলের বোতল নিয়ে ঢুকতে না পারলে দর্শকেরা স্টেডিয়ামের ভিতরে বোতলজাত জল কিনতে বাধ্য হবে। যার ফলে জলের জন্য তাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনাও চলছে। অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, যদি নিরাপত্তাই মূল কারণ হয়, তাহলে স্টেডিয়ামের ভিতরে বিক্রি হওয়া জলের বোতল কীভাবে নিরাপদ বলে বিবেচিত হবে?
ফিফা অবশ্য জানিয়েছে, দর্শকদের গরম থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন স্টেডিয়ামের বাইরে ও আশপাশে হাইড্রেশন স্টেশন, কুলিং টেন্ট, মিস্টিং স্টেশন এবং অন্যান্য তাপ-প্রশমন ব্যবস্থা রাখা হবে। তাদের দাবি, বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়ামে জলের দাম অন্যান্য বড় ইভেন্টের সময় যে হারে রাখা হয়, সেই স্তরেই থাকবে।
আগামী ১১ জুন থেকে বিশ্বকাপ ফুটবল, ২০২৬-এ ৪৮টি দল অংশ নেবে। মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে কখনও এতগুলি দল নিয়ে, এতগুলি ম্যাচের বিশ্বকাপ হয়নি।