বিশ্বকাপের পরেই বিতর্ক! এফবিআই জেরার খবরে তোলপাড়, মুখ খুলল আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা

Photo: X

বিশ্বকাপ ফাইনালের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়াল আর্জেন্টিনা ফুটবল। অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার ঠিক আগে এফবিআইয়ের জেরার মুখে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (AFA) সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিশ্বকাপ শেষ করে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে চার্টার বিমানে বুয়েনস আইরেস ফেরার আগে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে তাপিয়া ও কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এফবিআই অফিসাররা। এমনও দাবি ওঠে যে, তাপিয়ার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কিন্তু সেই সমস্ত খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাপিয়া বা তোভিগিনোকে মার্কিন আদালত সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। তাঁদের কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তবে একটি তৃতীয় পক্ষকে মার্কিন গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হয়ে কিছু নথি ও তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নথিতে এএফএ-র কয়েকজন আধিকারিকের নাম উল্লেখ রয়েছে বলেও স্বীকার করেছে সংস্থা।


তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এএফএ-সংক্রান্ত ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বাণিজ্যিক ও স্পনসরশিপ চুক্তি। অভিযোগ, এই অর্থের একটি বড় অংশ মার্কিন ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে এবং সেখানে অর্থপাচার বা ব্যাঙ্ক জালিয়াতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাগুলি। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ অল্প সময়ের জন্য রাখা হয়েছিল। পরে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে, এমনই দাবি মার্কিন মিডিয়ার।

তবে এখনও পর্যন্ত তাপিয়া বা তোভিগিনোর বিরুদ্ধে সরকারি ভাবে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। এফবিআইও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, এএফএ-র বক্তব্য, সংস্থার দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং চলমান তদন্তের জেরে তাদের প্রশাসনিক কার্যকলাপে কোনও প্রভাব পড়েনি।

এ দিকে, বিশ্বকাপ ফাইনালের পরে মারপিটের ঘটনায় মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা। স্পেনের তারকা দানি ওলমোকে ঘুসি মারার অভিযোগে অভিযুক্ত আয়ালা জানিয়েছেন, তিনি নিজের আচরণের জন্য অনুতপ্ত। তবে দাবি করেছেন, ওলমোর উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরেই তিনি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেননি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। সেই সময়েই আয়ালা ও ওলমোর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায়, আয়ালা ওলমোর মুখের দিকে হাত চালিয়েছেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

ঘটনার ব্যাখ্যায় আয়ালা বলেন, “আমি যা করেছি, তার জন্য দুঃখিত। আমার ওইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত হয়নি। কিন্তু ওলমো এমন কিছু কথা বলেছিল, যা আমাকে উত্তেজিত করে দেয়।” যদিও তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, “আমি ঘুসি মারিনি, ওকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, সুযোগ পেলে ব্যক্তিগতভাবে দানি ওলমোর কাছেও ক্ষমা চাইবেন।

ফাইনালের পর শুধু আয়ালাই নন, আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারের আচরণও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরতে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ফিফা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।