ইনফান্তিনোকে সরাতে ‘অভিযোগ, ইঙ্গিত আর ভুল তথ্য’! সমালোচকদের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দাগল ফিফা

Photo: Representational Image

প্রবল চাপের মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ এবং পদত্যাগের দাবি উঠছে। তার মধ্যেই ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচকদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানাল ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার অভিযোগ, ইনফান্তিনোকে দুর্বল করে তাঁর কর্তৃত্ব খর্ব করার জন্য একটি ‘পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা’ চলছে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একাধিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর দাবি, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এমন এক মহিলাকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগটি অবশ্য জোরালো ভাবে অস্বীকার করেছেন ইনফান্তিনো। ফিফাও সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

স্কাই নিউজকে দেওয়া বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, ‘এখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে যে, কিছু মানুষ পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক ভাবে ফিফা ও তার সভাপতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন’।


এর পরেই আরও কড়া বার্তা দিয়েছে ফিফা। সংস্থার বক্তব্য, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বা তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে তাঁকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

ফিফার কথায়, ‘যাঁদের ফিফার সদস্য সংস্থাগুলির সমর্থন নেই, তাঁরা অভিযোগ, ইঙ্গিত বা ভুল তথ্যের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করবেন না, যে লক্ষ্য তাঁরা ফিফার প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জন করতে পারেন না’।

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবিকেও সরাসরি আক্রমণ করেছে ফিফা। তাদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্য ভিত্তিহীন দাবি এবং স্পষ্টতই মিথ্যা অভিযোগ’। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর দীর্ঘ ফুটবল প্রশাসনিক জীবনের কথাও তুলে ধরেছে সংস্থা। ফিফার দাবি, ইউরোপ এবং বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্কের বয়স ৩০ বছরেরও বেশি।

শুধু ফিফা নয়, ইনফান্তিনো নিজেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ফিফার এক মুখপাত্র আগে স্কাই নিউজকে জানিয়েছিলেন, ‘ইনফান্তিনো এই অভিযোগগুলি জোরালো ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং এগুলি সম্পূর্ণ অসত্য। অনুচিত আচরণ বা কোনও বিধি কিংবা নিয়ম ভঙ্গের ইঙ্গিতও মানহানিকর।’

উয়েফার তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মহিলাকে একটি ‘বিদায়কালীন অর্থ’ দেওয়া হয়েছিল এবং স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ করার খরচও বহন করা হয়েছিল। উয়েফার দাবি, সেই সময়কার নিয়ম মেনেই ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর নেতৃত্ব এবং ফিফার ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়েও সম্প্রতি প্রবল সমালোচনা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিফার এই বিবৃতি কার্যত স্পষ্ট করে দিল—ইনফান্তিনোকে সরানোর যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।

ফিফার বার্তা আরও স্পষ্ট, সমালোচনা করা যেতেই পারে, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সভাপতিকে সরানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।