শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের সামলানো কঠিন কাজ ছিল না, জানিয়ে দিলেন পাড়িক্কল, তৃপ্তিদায়ক জয়, মন্তব্য শুভমানের

Photo: BCCI

গলে টেস্ট শুরুর আগে শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের নিয়ে প্রচুর চর্চা হয়েছিল। ভারতীয় ব্যাটাররা তাদের বিরুদ্ধে আদৌ লড়াই করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছিল সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমেও। অতটা চর্চা যে একটু বাড়াবাড়িই হয়ে গিয়েছিল, তা প্রথম টেস্ট জয়ের পর জানিয়েই দিলেন ম্যাচের সেরা দেবদত্ত পাড়িক্কল।

দুই ইনিংস মিলিয়ে ২১১ রান (১৬৭ ও ৪৪) করে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক পাড়িক্কাল মনে করেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনারদের সামলানো খুব একটা কঠিন ছিল না। কারণ, উইকেটে বল খুব বেশি ঘুরছিল না।

ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হওয়ার পর পাড়িক্কাল বলেন, ‘উইকেটটা একটু ধীরগতির ছিল, তবে বল পড়ে খুব বেশি ঘুরছিল না। তাই বাঁহাতি ব্যাটারদের পক্ষে বাঁহাতি স্পিনারদের সামলে খেলা কঠিন হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টা দাঁড়িয়েছিল, কে নিজের দক্ষতা দিয়ে প্রতিপক্ষের উপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে’। গলের উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার বলেন, ‘উইকেটে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষয় হচ্ছিল। এটা ভাল টেস্ট উইকেট। তৃতীয় দিন থেকে বল অনেক বেশি ঘুরতে শুরু করে’।


কিন্তু এই উইকেটেই যাঁর ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়ে হার মানতে বাধ্য হয় শ্রীলঙ্কা, দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ভারতের জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন যে তরুণ বাঁহাতি স্পিনার, সেই মানব সুথারকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়ে দেন, এই তরুণ স্পিনারের মধ্যে দীর্ঘ দিন ভারতের হয়ে খেলার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গিয়েছে ভারত। সেই জয়ের অন্যতম কারিগর মানব। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৫ রানে ছ’উইকেট নিয়ে ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১০ উইকেট। ১০/১২৬ ম্যাচের এই পরিসংখ্যানের সুবাদে পর পর দুই টেস্টে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার নজিরও গড়েছেন তিনি।

ম্যাচের শেষে মানবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শুভমান বলেন, ‘দুর্দান্ত বোলিং করছে মানব। খুবই প্রতিশ্রুতিমান ক্রিকেটার বলে মনে হচ্ছে। আমার মনে হয়, ও ভারতের হয়ে দীর্ঘ দিন খেলতে পারে’।

শুধু মানব নন, প্রথম ইনিংসে ১৬৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরার পুরস্কার পাওয়া দেবদত্ত পাড়িক্কালেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারত অধিনায়ক। চোটের কারণে সাই সুদর্শন খেলতে না পারায় তিন নম্বরে সুযোগ পেয়েছিলেন পাড়িক্কাল। সেই সুযোগ দু’হাত ভরে কাজে লাগিয়ে প্রথম ইনিংসে বড় রান করেন তিনি।

শুভমান বলেন, ‘পাড়িক্কলের ব্যাটিং দেখার অভিজ্ঞতাই দারুণ ছিল। সেঞ্চুরি করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেঞ্চুরির পরেও ও যেভাবে ইনিংসটাকে আরও টেনে নিয়ে যায়, সেটাই সবচেয়ে ভাল লেগেছে। দল ভাল জায়গায় থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় ইনিংসে ও যেভাবে ব্যাট করেছে এবং প্রতিপক্ষের উপর আধিপত্য বজায় রেখেছে, তা দেখার মতো ছিল’।

এই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ১৯৩ রানে অলআউট হলেও তা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন শুভমান। তাঁর কথায়, ‘একেবারেই এ নিয়ে চিন্তিত নই। আমরা তৃতীয় ইনিংসে লিডটা ৪০০ রানের আশপাশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। উইকেটে ইচ্ছামতো রান করা সহজ ছিল না। তাই আমরা আরও আগ্রাসী ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করছিলাম। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে আমরা কত ওভার বল করার সুযোগ পাব, তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলাম না। সেই প্রক্রিয়ায় কয়েকটা উইকেট হারিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমরা তখনও বেশ স্বচ্ছন্দে ছিলাম’।

একেই ভারতের ৬০০ তম টেস্ট, তার ওপর দাপুটে জয়। সেই জন্যই একে আরো ‘স্পেশ্যাল’ আখ্যা দিতে চান ভারত অধিনায়ক। এই জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যেও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ভারত। অধিনায়ক খুশি যে, এই জয় দলের উপর থেকে কিছুটা চাপ কমিয়েছে, যদিও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ৫৩.৩৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ভারত এখনও পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ভারতের আগে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (৭৭.৭৮), দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৫) এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ (৬৬.৬৭)। তবে অধিনায়কের কাছে লক্ষ্য স্পষ্ট— বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছনো।

শুভমান বলেন, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছনোটাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। টেস্টে জয় সহজে আসে না এবং এই জয়টা সত্যিই আনন্দের’। ভারত ম্যাচ জেতার ঠিক পরেই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তাই আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি বলে স্বস্তিতে ছিল ভারতীয় দলও।

শুভমান বলেন, ‘এই জয় আমাদের কাছে অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক। আমরা ভাল জায়গায় ছিলাম ঠিকই, কিন্তু আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত চলবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। তবে দল দারুণ ভাবে সাড়া দিয়েছে’।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি সিলভা মনে করেন, টস এই ম্যাচে বড় ভূমিকা নিয়েছে। টসে জিতে ভারত প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরিস্থিতির সুবিধা ভরপুর কাজে লাগায়।

ডিসিলভা বলেন, ‘ওরা টসে জিতে প্রথমে বড় রান তুলে নেয়। আর আমাদের ব্যাটিংয়ে উইকেট পড়তে শুরু করার পর পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হয়। আমার মনে হয়েছিল, দ্বিতীয় দিন থেকে আমরা ম্যাচে ছিলাম। ছেলেরা লড়াই করেছে, এমনকি চতুর্থ ইনিংসেও। গলে শেষ ইনিংসে ব্যাট করা মোটেই সহজ কাজ নয়’।

শ্রীলঙ্কার অধিনায়কের মতে, প্রথম তিন দিন ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট বেশ ভাল ছিল। তিনি বলেন, “প্রথম তিন দিন ব্যাট করার জন্য উইকেট ভাল ছিল। তবে গলে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যে সহজ হবে না, সেটা জানতাম। রাহুল এবং পাড়িক্কাল যেভাবে শুরু করেছিল, তাকে ওরা বড় ইনিংসে পরিণত করে আমাদের উপর চাপ তৈরি করে। এটাই ওদের কৃতিত্ব’।