ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের ঝড় এ বার সরাসরি অস্ট্রেলীয় মহিলা ক্রিকেট দলের দরজায় এসে আছড়ে পড়ল। অস্ট্রেলিয়া মহিলা দলের সহ-অধিনায়ক অ্যাশলেই গার্ডনারের প্রাক্তন স্ত্রী মনিকা রাইট প্রকাশ্যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সতীর্থ জর্জিয়া ভলের সঙ্গে গার্ডনারের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে রাইটের দাবি, এমন ঘটনা ঘটার পরেও গার্ডনার কী ভাবে নেতৃত্বে থাকতে পারেন?
অস্ট্রেলিয়ান ওয়েবসাইট কোড স্পোর্টসকে রাইট বলেছেন, ‘কেউ যদি দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এবং আদর্শ হিসেবে সম্মান পান, তা হলে নিজের আচরণে নৈতিক মান বজায় রাখার দায়িত্বও তাঁর।’
এর পরেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাইটের কথায়, ‘আমি বুঝতে পারছি না, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কেন প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। তাদের নীরবতার মানে কি অ্যাশলেই এবং জর্জিয়ার কাজের প্রতি তাদের সমর্থন আছে?’
রাইটের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, গার্ডনারের সঙ্গে ভলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এক জন জুনিয়র কর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যায় না, বিশেষ করে যখন সেখানে স্পষ্ট ক্ষমতার অসমতা রয়েছে এবং তার পরেও নেতৃত্বের পদে থাকা যায় না।’
এখানেই থামেননি গার্ডনারের প্রাক্তন স্ত্রী। নেতৃত্বের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘অধিনায়কদের কাছে একটি মানদণ্ড তৈরির প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। এই ধরনের আচরণ সেই মানদণ্ডের ধারেকাছেও যায় না।’
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে। গার্ডনার এবং রাইট ২০২৫-এর এপ্রিলে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় বলে জানা যায়। পরে রাইট সমাজমাধ্যমে গার্ডনারের সতীর্থ ভলের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘এই সেই ব্যক্তি, যার জন্য আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ সেই পোস্টের পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। গার্ডনার এবং ভল দু’জনেই অবশ্য অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
রাইটের অভিযোগের পর গার্ডনারের নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া মহিলা দলের সহ-অধিনায়ক। পাশাপাশি উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগে সিডনি সিক্সার্সের অধিনায়কও তিনি। রাইটের দাবি, ব্যক্তিগত আচরণের ক্ষেত্রেও পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য একই মানদণ্ড থাকা উচিত।
অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে অতীতের একটি উদাহরণ টেনে রাইট বলেন, ‘মহিলা ক্রিকেটকেও যদি পুরুষ ক্রিকেটের মতো একই মানদণ্ডে বিচার করা হয়, তা হলে সেটাই হওয়া উচিত। এমন ঘটনা ঘটলে একই মাত্রার জবাবদিহিও থাকতে হবে।’
তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এই বিতর্ককে ব্যক্তিগত বিষয় হিসাবেই দেখছে। তাদের বক্তব্য, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত করে যে আমাদের কর্মক্ষেত্রের সমস্ত সম্পর্ক ‘রেসপেক্ট অ্যাট ওয়ার্ক’ নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এর মধ্যে নেতৃত্বের দায়িত্ব এবং দলের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপযুক্ত স্বার্থের সংঘাত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রয়েছে। অন্যথায়, আমরা একে ব্যক্তিগত এবং একান্ত নিজস্ব বিষয় হিসাবেই বিবেচনা করি।’
গার্ডনারের ক্লাব সিডনি সিক্সার্স অবশ্য তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছে। দলের জেনারেল ম্যানেজার এবং প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার র্যাচেল হেইন্স বলেন, ‘অ্যাশের ব্যক্তিগত জীবন বা এই ধরনের কোনও বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমাদের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়েছে। আমি ওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ও জানে যে আমরা ওর পাশে আছি।’