দুরন্ত লোবার জোড়া গোল, ইন্টার কাশীকে পাঁচ গোল দিয়ে লিগ টেবলে শীর্ষে লাল-হলুদ বাহিনী

মাত্র পাঁচ মাস আগের কথা। কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইন্টার কাশীকে ২-১-এ হারিয়ে প্রথম আইএসএল খেতাব জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। শুক্রবার পুনের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সেই ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধেই ফের জিতে লিগ টেবলের শীর্ষে উঠে পড়ল তারা।

তবে গতবারের তুলনায় এ বার আরও একপেশে লড়াই দেখা গেল। ইন্টার কাশীকে ৫-১ গোলে কার্যত উড়িয়ে দিল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। আর সেই জয়ের নেপথ্যে নবাগত একে আর্নো লোবা। প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই আইভরি কোস্টের এই ফরোয়ার্ড বুঝিয়ে দিলেন, তাঁকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়। জোড়া গোলের পাশাপাশি জোড়া অ্যাসিস্টও করলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বলা যায়, চলতি মরসুমে এনসুঙ্গি এফিয়ংকে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে জটিলতায় জড়িয়ে পড়ায় তিনি কবে কলকাতায় আসতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে লোবার পারফরম্যান্স অবশ্যই স্বস্তি দেবে লাল-হলুদ শিবিরকে।


মঙ্গলবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচে ওমানে আল সিবের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। তার আগে পরপর ম্যাচ খেলার ক্লান্তি এড়াতে প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন করেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ মহাগুরু হাবাস। ডেভিড লালনসাঙ্গা, এডমন্ড লালরিনডিকা এবং দিয়েগো জিভুলিচদের প্রথম একাদশে রাখেননি। তার বদলে একে লোবা, বিপিন সিংদের শুরু থেকে মাঠে নামান তিনি। প্রতিপক্ষে কোনো বিদেশি ফুটবলার নেই। তার উপর আইএসএলের প্রথম দু’ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি ইন্টার কাশী।

তাই শুরু থেকেই বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। আট মিনিটে লোবার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দানি রামিরেজ। কাশীর ডিফেন্ডার প্রতীক চৌধুরিকে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশ করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার (১-০)। ১৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান পি ভি বিষ্ণু। লোবার বাড়ানো বল ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে তাঁর শট গোলরক্ষক আলবিনো গোমসের হাতের নীচ দিয়ে জালে জড়িয়ে যায় (২-০)।

ম্যাচের ২১তম মিনিটে বক্সের মধ্যে রামিরেজ অবৈধ বাধা পাওয়ায় পেনাল্টি পায় লাল-হলুদ বাহিনী। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান লোবা (৩-০)। এর সাত মিনিট পরে খেলার গতির বিপক্ষে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডার লালচুংনুঙ্গা (৩-১)। তবে, তাতেও অবশ্য ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা তৈরি করতে পারেনি ইন্টার কাশী। ৩৫ মিনিটে বিপিনের ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন লোবা (৪-১)। ফলে, বিরতির আগেই ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সাবধানী ফুটবল খেলে হাবাসের দল। যদিও বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা অব্যহত ছিল তাদের। এই অর্ধে বেশ কয়েক বার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ইস্টবেঙ্গলের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কাশী। উল্টে ৮১ মিনিটে ইকোনোমিডিসের পাস থেকে পঞ্চম গোল করে দেন লুকাস জেলোনস্কি (৫-১)।

ওমান সফরের আগে এই বড় জয় নিশ্চয়ই আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ইস্টবেঙ্গলের। তবে ওমানে প্রতিপক্ষ অনেক কঠিন। তাই সেই ম্যাচে একেবারে অন্য ফুটবল খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। তার আগে শুক্রবার একটা ভালো ম্যাচ প্র্যাকটিস পেয়ে গেল তারা। পাশাপাশি লোবার দুরন্ত পারফরম্যান্স যে নতুন করে আশা জাগাতে পারে সমর্থকদের মনে, তা এই ম্যাচেই বোঝা গেল। সে দিক থেকে দেখতে গেলে এই ম্যাচ থেকে একাধিক ইতিবাচক দিক খুঁজে পেল ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলে তারা এই ধারাবাহিকতা কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটাই দেখার।