শরীরের প্রতিটি অংশে টান ধরছে— দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির পর বললেন গিল, অভিনব সেলিব্রেশন নিয়ে কী বললেন রোহিত?

Photo: Representational Image

৪০৬ রান! এমন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুধু ব্যাটিং প্রতিভা থাকলেই হয় না, মাথাটাও ঠান্ডা রাখতে হয়। আর সেই পরীক্ষাতেই ভারতের পরিকল্পনা কী ছিল, ম্যাচের শেষে তা জানিয়ে দিলেন অধিনায়ক শুভমান গিল (Shubman Gill)। তাঁর কথায়, বড় রান তাড়া করার চাপকে একসঙ্গে না দেখে ছোট ছোট লক্ষ্যে ভাগ করে নিয়েছিল ভারত। আর ২৫ ওভারের মধ্যেই যখন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি রান উঠে যায়, তখনই ম্যাচের চাপটা চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে।

বুধবার রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ১১৭ বলে ডবল সেঞ্চুরি করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন ভারতীয় অধিনায়ক (Shubman Gill)। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই দ্রুততম দ্বিশতরান। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ইশান কিষাণের— ২০২২-এ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে জয়টা অবশ্য ভারতের পক্ষে ছিল যথেষ্ট কঠিন। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারে ৪০৫ রান তোলে। জন ক্যাম্পবেল, শাই হোপ এবং আমির জ্যাঙ্গু—তিন জনই শতরান করেন। ওয়ানডেতে এই প্রথম বার ৪০০-র বেশি রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


জবাব দিতে নেমে গিল, রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) সঙ্গে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। পাওয়ারপ্লের পর থেকে গতি আরও বাড়তে থাকে। এক দিকে রোহিতের (Rohit Sharma) অভিজ্ঞতা, অন্য দিকে গিলের অবিশ্বাস্য আগ্রাসন—ভারতের রান তোলার গতি দেখে বড় রান করেও ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপর।

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>𝗠𝗔𝗝𝗘𝗦𝗧𝗜𝗖. 𝗠𝗔𝗥𝗩𝗘𝗟𝗢𝗨𝗦. 𝗠𝗔𝗚𝗡𝗜𝗙𝗜𝗖𝗘𝗡𝗧 🫡<br><br>Shubman Gill becomes just the 2️⃣nd Indian to score multiple ODI double hundreds 👏👏<br><br>Updates ▶️ <a href=”https://t.co/6XCYRtZLAi”>https://t.co/6XCYRtZLAi</a><a href=”https://x.com/hashtag/TeamIndia?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#TeamIndia</a> | <a href=”https://x.com/hashtag/INDvWI?src=hash&amp;ref_src=twsrc%5Etfw”>#INDvWI</a> | <a href=”https://x.com/mflone_?ref_src=twsrc%5Etfw”>@mflone_</a> | <a href=”https://x.com/ShubmanGill?ref_src=twsrc%5Etfw”>@ShubmanGill</a> <a href=”https://t.co/e6MCoUfNbV”>pic.twitter.com/e6MCoUfNbV</a></p>&mdash; BCCI (@BCCI) <a href=”https://x.com/BCCI/status/2105333689618235876?ref_src=twsrc%5Etfw”>September 30, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

 

‘শরীরের প্রতিটি অংশে টান ধরছে’

ম্যাচের পর গিলের (Shubman Gill)প্রথম কথাতেই অবশ্য ধরা পড়ে তাঁর শরীরের উপর ধকলের ছবি। বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার শরীরের প্রতিটি অংশে টান ধরছে। দুপুরে প্রচণ্ড গরম ছিল। ওরা যেভাবে ব্যাট করছিল, তাতে ১৩ ওভার ফিল্ডিং করার পরই মনে হচ্ছিল যেন ২৫ ওভার ফিল্ডিং করে ফেলেছি’।

তার পরেই এল ৪০০ রান তাড়া করার মানসিক চাপের কথা। গিলের (Shubman Gill) বক্তব্য, ‘দারুণ একটা ম্যাচ হয়েছে। বিরতির সময় স্কোরবোর্ডে ৪০০ রান দেখে কিছুটা চাপ ছিল। পিচ বা মাঠ যেমনই হোক, ৪০০ রান তাড়া করা সহজ নয়। এই পারফরম্যান্সের জন্য আমি খুবই গর্বিত। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকতে পেরে খুব ভাল লাগছে’।

আরও পড়ুন: জেসুসের সঙ্গে ঝামেলার জেরে পর্তুগাল শিবির ছেড়ে চলে গেলেন রোনাল্ডো, এর পর কি অবসরের ঘোষণা?

কী ভাবে চারশোর চাপ সামলাল ভারত?

গিল (Shubman Gill) জানালেন, ৪০০ রান নিয়ে একবারেই ভাবেননি তাঁরা। বরং ম্যাচটাকে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে নিয়েছিলেন। বলেন, ‘আমরা ম্যাচটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিই। প্রথমে আমাদের লক্ষ্য ছিল পাওয়ারপ্লেতে ৭৫-৮০ রান করা, কোনও উইকেট না হারিয়ে। আমরা জানতাম বল একটু পুরনো হয়ে গেলে ব্যাট করা ভাল হবে’।

২৫ ওভার পর্যন্তও ছিল নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। গিল (Shubman Gill) বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ২৫ ওভারের সময় যদি ২০০-২১০ রানের আশপাশে থাকি, তা হলে ভাল জায়গায় থাকব। কিন্তু আমরা তখন ২৩০-২৪০ রান করে ফেলেছিলাম। তার পর চাপটা আর আমাদের উপর ছিল না, চাপটা পড়ে যায় ওদের উপর’।

নিজেদের বোলিং নিয়েও একেবারে সন্তুষ্ট নন ভারত অধিনায়ক (Shubman Gill)। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। গিল বলেন, ‘শুরুতে আমরা ভাল বল করতে পারিনি, প্রথম ম্যাচের মতোই। ওরা অনেক স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাট করেছে এবং খুব ভাল খেলেছে। একটা সময় মনে হচ্ছিল ওরা ৪২০-৪৩০ রানও করে ফেলতে পারে’।

সেখান থেকে শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০-৩০ রান কমে আটকে দিতে পারাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গিল। তাঁর কথায়, ‘শেষ দিকে ২০-৩০ রান কমিয়ে রাখতে পারাটাও আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা ছিল’।

মাইলফলক গড়া ইনিংস নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস নয়

এই ম্যাচে একের পর এক মাইলফলক গড়েন শুভমান গিল (Shubman Gill)। প্রথমে দ্রুততম ভারতীয় অধিনায়ক হিসাবে ওয়ানডে শতরান, তার পর দ্বিশতরান। ১১৭ বলে ২০০ পূর্ণ করে ইশানের রেকর্ড ভেঙে দেন গিল (Shubman Gill)। আরও বড় ব্যাপার, এটি গিলের দ্বিতীয় ওয়ানডে দ্বিশতরান। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দু’বার ২০০ পার করে ফেললেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেটে এই কৃতিত্ব আরও এক বার তাঁর ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার প্রমাণ হয়ে রইল।

গিলের (Shubman Gill)ইনিংসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের নিয়ন্ত্রণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই শট খেলেন নিজের পছন্দের জায়গায়। রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের বদলে বলের গতি ব্যবহার করে একের পর এক বাউন্ডারি মারেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২২৩ রান, যা তাঁকে ভারতের ওয়ানডে রান তাড়া করার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের মালিক করেছে।

ব্যাট হাতে নিজের দ্বিশতরান নিয়ে গিলের বক্তব্যে ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দলের পরিকল্পনা। ৪০০-র চাপকে ছোট ছোট লক্ষ্যে ভেঙে, পরিস্থিতি অনুযায়ী এগোনো—সাফল্যের নেপথ্যে সেটাকেই বড় করে দেখছেন ভারতীয় অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন গিল। কিন্তু ম্যাচের পর তাঁর কথায় রেকর্ডের উচ্ছ্বাসের চেয়ে বেশি ধরা পড়ে দীর্ঘ এক দিনের ক্লান্তি, প্রচণ্ড গরমে শরীরের ধকল এবং চাপের ম্যাচে পরিকল্পনা ধরে রাখার তৃপ্তি।

আরও পড়ুন: তিন ক্যারিবিয়ানের নজির গড়া সেঞ্চুরির পর শচীনকে টপকে ১২ হাজারে রোহিত, সঙ্গে তাণ্ডব গিলেরও

শিশুসুলভ সেলিব্রেশন কেন রোহিতের?

অন্য দিকে, রোহিত শর্মাও (Rohit Sharma)  কম যাননি। ৩৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে তিনি গিলের (Shubman Gill) সঙ্গে তৈরি করেন ২৫৫ রানের বিশাল ওপেনিং জুটি। ২৬.২ ওভারে সেই জুটি ভাঙলেও ততক্ষণে ভারতের রান তোলার গতি ম্যাচের ছবিটাই বদলে দেয়।

সেঞ্চুরির পর একটু লাফিয়ে উঠে, গর্জন করে সেলিব্রেট করেন ‘হিটম্যান’ রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) । সেই উদ্‌যাপনের নেপথ্যে কী বার্তা ছিল, তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা চললেও রোহিত নিজে অবশ্য রহস্যই রেখে দিলেন।

রোহিত (Rohit Sharma) বলেন, ‘ওটা আমি নিজের কাছেই রাখব। কিছু কিছু জিনিস নিজের সঙ্গে রাখার জন্যই হয়, সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নয়। তাই ওটা আমার জন্যই ছিল’।

তবে উদ্‌যাপনের নেপথ্যের একটা ছোট্ট আভাস দিয়েছেন রোহিত (Rohit Sharma) । বলেন, ‘রবীন্দ্র জাদেজা চেয়েছিল আমি স্লাইড করে, লাফিয়ে সেলিব্রেট করি। কিন্তু ৫০ ওভার ফিল্ডিং করার পর এবং এতক্ষণ ব্যাটিং করার পরে আর তা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না’।

শুভমান গিলের (Shubman Gill) সঙ্গে তাঁর বিশাল জুটি নিয়েও মুখ খুলেছেন রোহিত (Rohit Sharma) । বলেন, ‘উইকেটটা ভাল ছিল এবং আমরা শুধু ব্যাট করে যেতে চেয়েছিলাম। আমরা স্কোরবোর্ডের দিকে তাকাচ্ছিলাম না। বলের মান অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করছিলাম। পাশাপাশি একটা জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলাম। অন্য প্রান্তে গিল দুর্দান্ত ছিল। নিজের ব্যাটিংয়ের উপর ওর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল’।

অপরাজিত থেকে শুভমানের (Shubman Gill) ম্যাচ শেষ করারও প্রশংসা করেছেন রোহিত (Rohit Sharma) । তাঁর কথায়, ‘ওকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকতে দেখা দারুণ ব্যাপার। আসলে এটা একাগ্রতার বিষয়। নিজেকে বার বার বলতে হয়, উইকেট ছুড়ে দেওয়া যাবে না’।

রোহিত (Rohit Sharma) আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম পিচ ভাল এবং টপ অর্ডার থেকে আমাদের বড় রান দরকার। ঠিক সেটাই হয়েছে। উপরের দিকে আমাদের খুব ভাল একটা পার্টনারশিপ গড়ে উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেটাই আমাদের জিততে সাহায্য করে’।

দেখুন: কলকাতায় পৌঁছল উরুগুয়ে ফুটবল দল, ৬ অক্টোবর ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ