লিওনেল মেসি দলে থাকলেও আর্জেন্টিনা আর ‘ওয়ান-ম্যান আর্মি’ নয়

একসময় আর্জেন্টিনা মানেই ছিল লিওনেল মেসি। দলের সাফল্য-ব্যর্থতা, আশা-নিরাশা— সবকিছুই যেন ঘুরপাক খেত এক মহাতারকাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ছবিটা বদলে গিয়েছে। মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক, এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তবুও আজকের আর্জেন্টিনা আর শুধুমাত্র মেসির দল নয়, বরং লিওনেল স্কালোনির হাতে গড়া এক সুসংগঠিত, ভারসাম্যপূর্ণ দল।

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে মেসির ফিটনেস নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলার সময় পাওয়া হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে তাঁর প্রস্তুতিতে সামান্য বিঘ্ন ঘটে। তবে স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলির একটিতে তাঁকে দেখা যেতে পারে।

কিন্তু মেসির ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা শিবিরে আতঙ্ক নেই। কারণ, গত চার বছরে স্কালোনি এমন একটি দল তৈরি করেছেন, যারা প্রয়োজনে মেসির উপর নির্ভর না করেও ম্যাচ জিততে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলিয়ান আলভারেজ এবং লতারো মার্তিনেজ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরী আন্তর্জাতিক স্ট্রাইকারদের মধ্যে অন্যতম।


বড় ম্যাচে গোল করার অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে, আর মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ খেলা তৈরির প্রধান স্তম্ভ।আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত তাদের দলের গভীরতা। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ থেকে শুরু করে ক্রিস্চিয়ান রোমেরো, অ্যালেক্সি ম্যাক্স অ্যালেস্টার, রদ্রিগো দে পল—প্রত্যেক পজিশনেই রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার। ফলে কোনও একজন তারকা ছিটকে গেলেও বিকল্পের অভাব নেই।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নতুন প্রজন্মের উত্থান। নিকো পাজ, ভ্যালেন্টিন বার্কোদের মতো তরুণ ফুটবলাররা বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ফলে আর্জেন্টিনা এখন শুধু অভিজ্ঞদের দল নয়, উঠতি প্রতিভাতেও সমৃদ্ধ।

২০২২-এ কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের সময় মেসি ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। কিন্তু চার বছর পরে ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তিকে ঘিরে প্রত্যাশার ধরন বদলেছে। এখন তিনি দলের একমাত্র ভরসা নন, বরং দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ নেতা, যিনি পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। স্কালোনির পরিকল্পনায় মেসি কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও হলেও পুরো দলটা তাঁর দিকে যে তাকিয়ে বসে থাকবে, তা নয়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দু’বার খেতাব জয় অত্যন্ত কঠিন কাজ। ১৯৬২ সালের পর কোনও দলই তা করতে পারেনি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ, এই দলের সাফল্যের ভিত্তি এখন শুধুমাত্র মেসির জাদু নয়, বরং সুসংহত দলগত ফুটবল, অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার দুর্দান্ত মিশ্রণ।

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত মেসি খেলবেন কি না, তা নয়। বরং প্রশ্ন হল—এই অসাধারণ ভারসাম্যপূর্ণ দলটি কি ইতিহাস গড়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারবে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।আর্জেন্টিনা তাদের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ১৭ জুন, আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে কানসাস সিটিতে। পরের দুটি ম্যাচ তারা খেলবে ডালাসে, যথাক্রমে অস্ট্রিয়া (২২ জুন) ও জর্ডনের (২৮ জুন) বিরুদ্ধে।