তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য ফ্রান্স কোচের, যা শুনে চটতে পারে ফিফা

Photo: Representational Image

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে দুই দলেরই। তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচকে ঘিরে কোনো উৎসাহ নেই কোনো শিবিরেই। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচের আগে যে এমন মন্তব্য করবেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশঁর, তা ভাবাই যায়নি। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিলেন, এই ম্যাচ খেলার ইচ্ছা নেই তাঁর দল কিংবা প্রতিপক্ষ— কারওরই।

মায়ামিতে শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ০-২-এ হেরে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কাছে ১-২-এ হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়েছে ইংল্যান্ডের। সেই হতাশার আবহেই দেশঁ বলেন, ‘আমি মনে করি, ইংল্যান্ড এই ম্যাচ খেলতে চায় না। আমরাও চাই না। কিন্তু আমাদের খেলতেই হবে। এটাই বাস্তব’।

তবে ম্যাচটিকে পুরোপুরি গুরুত্বহীন বলেও মনে করেন না ফরাসি কোচ। তাঁর কথায়, ‘এই ম্যাচের কোনো দলই ফাইনালে উঠতে পারেনি। তাই মানসিক দিক থেকে এটা কখনওই ফাইনালের মতো নয়। কিন্তু আমরা ফ্রান্সের জার্সি পরে খেলছি। দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। সেই দায়িত্ব আমাদের পালন করতেই হবে’।


দেশঁর কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ শেষেই শেষ হচ্ছে তাঁর দীর্ঘ কোচিং অধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের কোচ হিসেবে এটাই আমার শেষ ম্যাচ। তাই অবশ্যই আমি চাই, আমরা জিতি এবং এই অধ্যায়ের ইতি টানি একটা ভালো ফল দিয়ে’।

তবে ফরাসি শিবিরে দল নির্বাচন নিয়ে এখনও কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। একাধিক ফুটবলার চোট ও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। কিলিয়ান এমবাপে খেলবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই জল্পনা উড়িয়ে দেশঁ বলেন, ‘এমবাপে ফিট আছে। তবে কারা শুরু করবে, সেটা এখনও ঠিক করিনি। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে’।

দেশঁর বিদায়ী ম্যাচে জয় উপহার দিতে মরিয়া ফরাসি ফুটবলাররাও। দলের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে বলেন, ‘আমরা এই ম্যাচ জিততে চাই। কোচ আমাদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য তাঁকে জয় দিয়েই বিদায় জানাতে চাই’।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচকে অনেকেই ‘চকোলেট মেডেল’-এর লড়াই বলে ব্যঙ্গ করেন। এ বার সেই ম্যাচের প্রতি অনীহা দেখানোয় ফিফার রোশানলে পড়তে পারেন ফরাসি কোচ। কিন্তু বাস্তব ঘটনা হল, এই ম্যাচ নিয়ে সাধারণ মানুষেরও তেমন কোনো আগ্রহ নেই। টিকিটের চাহিদাও কম।

তবে দেশঁ এই কথা অবশ্যই বলেছেন যে, ফাইনালে না উঠতে পারার যন্ত্রণা যতই থাকুক, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালে কোনো ম্যাচই গুরুত্বহীন হতে পারে না। তাই অনীহা থাকলেও, শেষবারের মতো দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতেই মাঠে নামবে তাঁর দল।