১৫ বছর পর মেলবোর্নের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল ইংল্যান্ড

প্রথম তিনটি টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিজেদের দখলে আগেই তুলে নিয়েছিল। তাই সবার লক্ষ্য ছিল বক্সিং ডে টেস্ট অস্ট্রেলিয়া যদি জেতে, তাহলে ইংল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করার পথটা সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই আশা সার্থক হল না। অস্ট্রেলিয়া হেরে গেল সাত উইকেটে ইংল্যান্ডের কাছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পরে মেলবোর্নের মাঠে দু’দিনেই টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গেল। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ায় ২০১০-১১ সালের সফরে মেলবোর্নের মাঠে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই মাঠেই ইংল্যান্ডের লজ্জা মুক্তি হল।

মোলবোর্নে মাঠে নামার আগে মদ্যপান বিতর্কে জর্জরিত ছিল ইংল্যান্ড। অভিযোগ উঠেছিল দ্বিতীয় টেস্টের মাঝে নুসার সমুদ্র সৈকতে প্রচুর মদ্যপান করেছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। তার প্রভাব পড়েছিল খেলার মাঠে। মেনকি ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড নির্দেশ দিয়েছিল তদন্ত করে ব্যাপারটাকে প্রকাশ্যে আনা। তাই বেন স্টোকসের ইংল্যান্ড দল বেশ চাপের মধ্যেই ছিল মাঠে নামার আগে। এমনকি কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম তাঁর পদ হারাতে পারতেন। তবে এই জয়ের ফলে সেখান থেকে কিছুটা স্বস্তি পেলেন তিনি। মেলবোর্নের উইকেটে বেশ ঘাস ছিল। পরিকল্পনা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা খুব সহজেই ইংল্যান্ড শিবিরে ধস নামিয়ে দিতে পারবেন। সেই পাতা ফাঁদে নিজেরাই ছন্দ হারালেন। দু’দিনে মিলে ৩৬টি উইকেট পড়ল। তার মধ্যে প্রথম দিনেই ২০টি উইকেট পড়েছিল। যা গত ১১৬ বছরে সিরিজের ইতিহাসে নেই এবং তা নজির। দু’দিনের মোট রান হয়েছে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫৭২। পার্থে প্রথম দিন ১৯টি উইকেট পড়েছিল। সেই উইকেটে ব্যাটসম্যানরা সমস্যায় পড়ে যায়। চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা সাহসী ব্যাটিং করে দলকে জিতিয়ে দিয়েছেন।

মেলবোর্নে টসে জিতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই সঠিক ছিল। ইংল্যান্ডকে বার বার সমস্যায় ফেলা ট্র্যভিস হেডস ১২ রানে আউট হন। প্রথম চার ব্যাটসম্যান কেউই রান পাননি। আর পঞ্চম উইকেটে উসমান খোয়াজা ও অ্যালেক্স ক্যারে জুটি কিছুটা শক্ত হাতে ব্যাট করেন। কিন্তু সেইভাবে বড় রানের অঙ্কে তাঁরা পৌঁছতে পারেননি। অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন একটি ম্যাচে ব্যর্থ। পেসার মাইকেল নেসের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। তাঁর ব্যাটে ভর করে ১৫০ রান পার করে অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৫২ রানে। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার যশ টাং। তিনি ৪৫ রান দিয়ে পাঁচটি উইকেট দখল করেন। অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা সামনে রেখেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা আশায় বুক বেঁধেছিলেন ম্যাচটা তাঁদের হাতেই থেকে যাবে। কিন্তু প্রথম ইনিংসে সেইভাবে ইংল্যান্ড দলও বড় অঙ্কের রান উপহার দিতে পারেনি স্কোরবোর্ডে। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শেষ হয় মাত্র ১১০ রানে। অর্থাৎ ৪২ রানে পিছিয়ে গিয়েছিল।


দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে অস্ট্রেরিয়ার আবার ধস নামে। তারা ১৩২ রানে সবাই আউট হয়ে যায়। খেলেছে মাত্র ৩৪.৩ ওভার। এই ১৩২ রানের মধ্যে ওপেনার হেডস ৪৬ রান করেছিলেন। সেই অর্থে আর অন্য কেউ রানের ধারেকাছে পৌঁছয়নি। তারই মাঝে লাবুসেনের উইকেট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সম্মতি জানাননি। ইংল্যান্ডের বোলার ব্রাইডন কার্স চারটি উইকেট পান। আর দু’টি উইকেট পেয়েছেন নেসের। ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল ১৭৫। তবে প্রথম ইনিংসে তারা সেইভাবে ব্যাট করতে পারেনি।

ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার প্রথমবার ক্রলি ও ডাকেট কিছুটা ভালো খেলেন। মিচেল স্টার্কের বলে ডাকেট ৩৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। আর অপর ওপেনার ক্রলি করেন ৩৭ রান।

শেষ পর্যন্ত বেথেল ৪০ রান করে ইংল্যান্ডকে সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে দেন। ইংল্যান্ড ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের প্রয়োজনীয় রান তুলে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ে।