সালটা ২০১৮। রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। সেবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে কার্যত বুঁদ থ্রি লায়ন্স’রা। সমর্থকদের মুখে একটা একটাই স্লোগান, “ইট্স কামিং হোম।” কিন্তু, স্বপ্নের সেই বেলুনে একপ্রকার পিন ফুটিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন ক্রোয়েশিয়া। বলা ভালো, লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে সেদিন বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল হ্যারি কেন’দের। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষপর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট জোগাড় করে নিয়েছিল ক্রোট’রা।
কাট ব্যাক টু, ২০২৬। দীর্ঘ আট বছর পর বিশ্বকাপের আসরে ফের ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল টমাস টুচেলের ইংল্যান্ড। অবশেষে, আট বছর আগের সেই হারের মধুর বদলা নিলো হ্যারি কেন’রা। ডালাসে বুধবার রাতে ‘পুরনো ঘাতক’কে ৪-২ গোলে হারিয়ে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে দুরন্তভাবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল থ্রি লায়ন্স’রা। ম্যাচ জুড়ে, বিশেষত দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবল নজর কাড়ল ফুটবলপ্রেমীদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শুরুর ১২ মিনিটের মধ্যেই পেনাল্টি থেকে টমাস টুচেলের দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। আট মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করেন লুকা মদ্রিচ। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। যদিও প্রথম চেষ্টায় গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ বল আটকে দেন। তবে, তিনি গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয়বার আর একই ভুল করেননি কেন। এদিকে, শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও লড়াই ছাড়েনি ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৩৬ মিনিট নাগাদ প্রতি আক্রমণ থেকে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান মার্তিন বাতুরিনা। তবে, নাটকের তখনও অনেকটা বাকি ছিল। ৪২ মিনিট নাগাদ ফের গোলে করে ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যবধান ২-১ করে যান অধিনায়ক। এই গোলের ফলে বিশ্বকাপে কেনের গোলসংখ্যা পৌঁছাল দশে। গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড স্পর্শ করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। যদিও, প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে (৪৫+৫) মিনিটে সেই গোলটিও পরিশোধ করে দেন পেতার মুসা।
প্রথমার্ধ ২-২ অবস্থায় শেষ হলেও বিরতির পরে ম্যাচে কার্যত একাধিপত্য বিস্তার করে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করে থ্রি লায়ন্সদের এগিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। এরপর ক্রমশ ম্যাচ থেকে হারিয়ে যেতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। খেলার এই অর্ধে মাঝমাঠ ও আক্রমণে দাপট দেখিয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে মার্কাস রাশফোর্ড, হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম’রা। শেষ দিকে পরিবর্ত হিসেবে নেমে বুকায়ো সাকার নিখুঁত পাস কাজে লাগিয়ে গোল করেন মার্কাস রাশফোর্ড। তাতেই ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের।
ম্যাচ হারের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়া কোচের চিন্তা বাড়ালেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। এদিন একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝমাঝি তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ। তাঁর খেলায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট।