রোমাঞ্চ-নাটকে ভরপুর শেষ ষোলোর ম্যাচে অন্যতম আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২-এ হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।
এ ছাড়াও বিপক্ষে ছিলেন আয়োজক দেশের সমর্থকেরা। তাদের সামনে গত ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় মেক্সিকো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে এবং খেতাব জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে লড়াকু ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতে বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল মেক্সিকোর। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ইংল্যান্ডের দিকে। প্রথমে ৩৬ মিনিটে বুকায়ো সাকার নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। দুমিনিটের মধ্যেই প্রায় কিক-অফের পরপরই তিনি ব্যবধান ২-০ করেন। মেক্সিকো বলের দখল হারালে হ্যারি কেন বল বাড়িয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার উদ্দেশে, আর বেলিংহ্যাম ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন।
মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায়। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তারা। ৪২তম মিনিটে জুলিয়ান কিনোনেসের নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড পরাস্ত হন। সেই গোলের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় আয়োজকেরা। বিরতির আগে রাউল হিমেনেসের জোরালো শট পিকফোর্ড অসাধারণ সেভ না করলে তখনই ম্যাচে হয়তো সমতা আনত মেক্সিকো।
ম্যাচের উত্তেজনা এক মুহূর্তের জন্যও কমেনি, আর বিরতির পরও সেই ধারাই বজায় থাকে। প্রথমে নিচু শটে পোস্টে বল মারেন নিকো ও’রাইলি। এরপর জেসুস গালার্দোর ওপর কঠোর ট্যাকল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কোয়ানসাহ।
ইংল্যান্ড ১০ জনে নেমে যাওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল পেনাল্টি বক্সের মধ্যে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করেন। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট-কিক নিতে এসে জোরালো শটে বল গোলে পাঠিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করে ফেলেন হ্যারি কেন।
এরপর বিপক্ষকে পেনাল্টি কার্যত উপহার দিয়ে ফেলেন হ্যারি কেন নিজেই। ইংল্যান্ড অধিনায়ক ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফাউল করলে ভিএআর পর্যালোচনার পর মেক্সিকোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পট-কিক থেকে কোনও ভুল করেননি রাউল হিমেনেস। ৬৯ মিনিটের মাথায় ১২ গজ দূর থেকে বল জালে জড়িয়ে তিনি ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করেন এবং সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে আবারও ম্যাচে ফেরান।
সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত একের পর এক আক্রমণ শানায় মেক্সিকো। সেই গোল এলে ম্যাচ গড়াত অতিরিক্ত সময়ে। তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং জয় নিশ্চিত করে। এর ফলে আগামী শনিবার, ১১ জুলাই, মিয়ামিতে নরওয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকবে থ্রি লায়ন্স।